মিরু হাসান বাপ্পী
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার আদমদীঘিতে জেলা প্রশাসক, সহকারি জজ, ইউএনও, সহকারি কমিশনার (ভূমি), ভূমি বিভাগের তহসিলদার এবং সোনালী ব্যাংকের সিল জাল করে প্রতারণার অভিযোগে আন্তঃজেলা জালিয়াতি চক্রের সদস্য এচাহাক আলী খন্দকারকে বিপুল পরিমান জাল সিল ও কাগজপত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এ কাজ করে নেয়ার অপরাধে আমিনুর রহমান নামের একজনকে ৩ দিনের কারাদন্ড এবং রহমান সিলঘর নামক দোকান সীলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

গ্রেফতারকৃত প্রতারক এচাহাক আলী খন্দকার (৭৮) উপজেলা সদর ইউনিয়নের শিয়ালশন গ্রামের আহম্মদ আলী খন্দকারের ছেলে এবং কারাদন্ডপ্রাপ্ত আমিনুর রহমান সুদিন গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক শিয়ালশন গ্রামে এক অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তাদের আটক করা হয়। সেই সাথে বিভিন্ন দপ্তরের ৩ শতাধিক নকল সিল, খাজনার রশিদসহ বিপুল পরিমান জাল কাগজপত্র উদ্ধার এবং জব্দ করেন। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রায়হানা জান্নাত শিখা বাদী হয়ে রাতেই আদমদীঘি থানায় এচাহাক আলীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহবুবা হক জানান, আদমদীঘির সুদিন গ্রামের আমিনুর রহমান নামের এক ব্যক্তি জমির দাখিলা রশিদ উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করেন। ওই দাখিলা সন্দেহজনক হওয়ায় সেটি যাচাই বাচাই করার জন্য একজন ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দাখিলাটির সিল স্বাক্ষরসহ যাবতীয় কাগজপত্রদি জাল বলে প্রমানিত হয়।

এরপর ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া এচাহাক আলী খন্দকার দীর্ঘদিন যাবত বগুড়া ও নওগাঁর জেলা প্রশাসক, সহকারি জজ, ইউএনও, সহকারি কমিশনার (ভূমি), সাব-রেজিস্টার, তহসিলদার, কানুনগো এবং সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরের সীল জাল করে প্রতারণার মাধ্যমে নকল দাখিলা, জমির হাল (আরএস), সাবেক (এম.আর.আর, এবং সি.এস) খতিয়ান এবং জমির খাজনার রশিদসহ নানা ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে সাধারণ মানুষের নিকট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে আসছিল।

ভ্রাম্যমান আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত এচাহার আলী খন্দকার আদমদীঘি সদরের রহমান সিল ঘর, ও বগুড়া থেকে এসব সিল তৈরী করে নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। রহমান সিল ঘরে অভিযানের সময় ওই দোকানের মালিক জয়নুল আবেদিন পালিয়ে যান। তার দোকান ঘর সিলগালা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *