মিরু হাসান বাপ্পী
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসির লক্ষ্য করা গেছে। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ক্ষেতে তেমন কোন রোগ বালাই না থাকা ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে ইরি-বোরো ধানের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে ধানের ফলন গড়ে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৭ মণ হারে ফলন হয়েছে।

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৬ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় মিলে মোট ১৩ হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে গত বছর ইরি-বোরোর ফলনের চেয়ে এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ইরি বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলায় এবার বিভিন্ন প্রকার ধানের চাষ হলেও স্বর্ণা-৫, ব্রি-৪৯, ব্রি-৩৪, বিনা-৭ জিরাশাল এবং কাটারী ধানের চাষ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে স্বর্ণা-৫ এর চাষ করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে। এবার প্রায় ৬৭ হাজার বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে।

তবে এলাকায় কিছু নতুন জাতের ধানও আবাদ করা হয়েছে যেমন ব্রি-৮৭ ও ব্রি-৯০ এর নাম উল্লেখযোগ্য। কৃষি অফিস সূত্রে আরোও জানা গেছে, নতুন এ দু’ জাতের ধানের বৈশিষ্ট্য হলো এ ধান গুলোর জীবন কাল সমাপ্ত হয় খুব কম সময়ের মধ্যে। তেমনি ফলনও স্বর্ণা-৫ এর মতই। এ ধানের জীবন কাল সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে কৃষকরা এ ধান আগে ভাগে ঘরে তুলতে পারে এবং সেই জমি গুলিতে রবি শস্য ফলানো সম্ভব হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে জমির ভাড়া মূল্য, সার, কীটনাশক ও যাবতীয় খরচ বাবদ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় গড়ে ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৭ মণ হারে।

বর্তমানে আদমদীঘিতে ধানের দর প্রতি মণ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদিত ধানের মূল্য প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। এতে কৃষকদের প্রতি বিঘা জমিতে লাভ থাকছে প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। তাছাড়া এবার আদমদীঘিতে প্রতি বিঘার খড় বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। এতে করে কৃষকদের আরোও লাভ থাকছে ২ হাজার টাকা। সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই সিদ্দিক জানান, এবারে ধানের আবাদ করে লাভ পাওয়ায় বেশ খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরা। তিনি আরোও জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকরা। তবে এবার ফলন ভাল হলেও ন্যায় দাম পেলে আমরা ভীষন খুশি হবো।

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হওয়া অত্র এলাকার কৃষকরা ধান চাষে আরোও বেশী উৎসাহি হয়ে উঠবে। তিনি আরোও জানান, একই জমিতে বার বার একই জাতের ধান চাষ করলে ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। তাই জমিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *