ভ্রাম‍্যমান প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
রুমাল, চিরুনি, জুস, কোমল পানীয়, পানি, লটকন, কলা,রসমালাই, আমড়া, আনারস, ডিম, বাদাম, ঝালমুড়ি, চানাচুর, বিভিন্ন ধরনের আচার, বই, পত্রিকা, পান- সিগারেট,আইসক্রিম- কী নেই! আর এর সবই পাবেন চট্টগ্রাম -ঢাকা- চাদঁপুর- নোযাখালী- সিলেট-রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনে।
দৈনিক আপ/ ডাউন মিলে ২২ টি এই রুট গুলোতে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে।
ভৈরব স্টেশন হতে ফেনী স্টেশন পযর্ন্ত হকার হিজড়া ভিক্ষুকের উৎপাত শুরু হয়।


ট্রেনে তৃতীয় লিঙ্গ খ্যাত হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন যাত্রীরা। প্রতিদিন দলবেঁধে কোনো না কোনো ট্রেনে উঠে চাঁদাবাজি করে তারা। এদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও মারমুখী আচরণে আতঙ্কিত ও বিব্রত যাত্রীরা বাধ্য হয় চাঁদা দিতে। অনেক যাত্রী ট্রেনে উঠে হিজড়াদের জন্য টাকা আলাদা করে রাখেন। আর সঙ্গে নবজাতক থাকলে তো কথাই নেই। গুণতে হয় দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা। টাকা না দিলে অশালীন আচরণ এমনকি যাত্রীদের হেনস্তা করে হিজাড়া চক্রটি। ট্রেনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাসীনতায় এ ধরনের ভোগান্তির মুখে যাত্রীদের প্রতিনিযত পড়তে হচ্ছে। আর বিভিন্ন স্টেশনে হকার- ভিক্ষুকের উৎপাত-তো রয়েছেই। বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
যাত্রীদের এ সকল অভিযোগ এর প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য।
জানা যায় :-
নোয়াখালী থেকে আসা আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী ইশতিয়াক বলেন, আখাউড়া স্টেশন থেকে ভাতশালা স্টেশনে আসার পর একদল হিজড়া ট্রেনে উঠে উত্ত্যক্ত শুরু করে। প্রথমে টাকা দিতে চাইনি। এতে তারা বেপরোয়া হয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে ৫০ টাকা দিয়েছি।
আশরাফ আলী নামের অপর যাত্রী বলেন, কুমিল্লা স্টেশন থেকে একদল হিজড়া ট্রেনে উঠে বিরক্ত করতে থাকে। টাকা দিতে না চাওয়ায় তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। পরে ৫০ টাকা দিলে তারা চলে যায়। এভাবে দেখছি ট্রেনের ভাড়া থেকে হিজড়াদেরই বেশি টাকা দেয়া লাগছে। তাহলে ট্রেনে উঠে লাভ কি? বাসেই যাওয়া ভালো।

আন্তঃনগর সব ট্রেনেই এভাবে বেপরোয়া চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত তৃতীয় লিঙ্গ খ্যাত হিজড়া। তাদের রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ট্রেন যাত্রীদের মতে, এসব হিজড়াদের উৎপাত ও চাঁদাবাজি থামাতে উদ্যোগ নিতে হবে রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীকে।
অভিযোগ রয়েছে, হিজড়া,হকার ও ভিক্ষুকদের হতে স্টেশন মাষ্টার রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী, রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ, এই চাঁদাবাজির ভাগ পায়। এই চাদাঁর টাকা তোলার জন্য বিশেষ লোক ( বহিরাগত ) প্রতিটি স্টেশনে কাজ করে। স্টেশনে দায়িত্ব নিযোজিত রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী ও রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ তারা যাত্রীদের নয় উল্টো হিজড়া, হকার, ভিক্ষুকদের নিরাপত্তায় বেশি ব্যস্ত থাকে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রেন ভ্রমণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন যাত্রীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আখাউড়া স্টেশনের এক হিজড়া বলেন, বেঁচে থাকার জন্যই আমাদের এসব কাজ করতে হয়। অশ্লীল আচরণ করলে যাত্রীরা ভয় পেয়ে টাকা দেয়।
হিজড়াদের পাশাপাশি ট্রেনে হকারদের উৎপাত কোন অংশেই পিছিয়ে নেই বললেই চলে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর মহানগর প্রভাতীএক্সপ্রেস ট্রেনে অনুসন্ধানকরে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।


গুনে দেখা গেছে, মহানগর প্রভাতী ট্রেনে বিভিন্ন স্টেশন থেকে ওঠা ৮০- ৯০ জন হকার বিনা বাধায় তাদের মালামাল বিক্রি করছেন। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ছাড়াও লাখ লাখ টাকা দিয়ে ট্রেনের ক্যাটারিং লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের মুখে পড়ছে।
মহানগর প্রভাতী ট্রেনটির ক্যাটারিং লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠান সিরাজ মিযা রেলওয়ে ক‍্যাটারার্সের কর্মী আজিজ মিয়া জানান, নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও হকাররা ট্রেনের ভেতর উঠে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করছেন। এতে তাদের ব্যবসা লোকসানের মুখে। শুধু চা ছাড়া তাদের তেমন কিছুই বিক্রি হয় না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মহানগর প্রভাতী ট্রেনে ওঠা কোমল পানীয়ের হকার আবু এই প্রতিবেদক কে জানান, ট্রেনে শুধুমাত্র কোমল পানীয় বিক্রি করেই ৩শ থেকে ৪শ টাকা আয় হয় তার।

ঢাকা থেকে সস্ত্রীক চট্টগ্রাম বেড়াতে যাওয়া একটি ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তারেক মাহমুদ বলেন, হকাররা ট্রেনের ভিতরে উঠে বগির এ-মাথা থেকে ও-মাথা হরদম ছোটাছুটি করছেন। এর ফলে যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, স্টেশনে স্টেশনে জানালা দিয়ে হকারদের মালামাল বিক্রির সুযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি, যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর জন্য রেলওয়ে কতৃপক্ষের উচিত ট্রেনে হকার, ভিক্ষুক ও হিজড়াদের ওঠা বন্ধ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *