নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চিত্রনায়িকা পরীমনি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের দুদিনের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তার সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করে। শিল্পী সমিতির নেতারা সেসময় বলেছিলেন সমিতির উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই কার্যকরী পরিষদ এই সিন্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইলিয়াস কাঞ্চন ‘পরীমনির সদস্যপদ স্থগিতের পক্ষে ছিলেন না’ এমন মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে প্রশ্ন ওঠে- তাহলে কি উপদেষ্টাদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে?
উল্লেখ্য যে, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই সমালোচিত ছিল। ইলিয়াস কাঞ্চনের মন্তব্যের পর সেই সমালোচনা আরো জোড়ালো হয়েছে। এবং এর তীর শিল্পী সমিতির নেতাদের দিকেই ছুঁড়ছেন পরীভক্তরা।

বিষয়টি জানতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। এ সময় এই শিল্পী-নেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন- এটা উপদেষ্টা মণ্ডলির সিদ্ধান্ত নয়, শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ পরীমনির সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জায়েদ খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্র আছে। নিয়ম অনুযায়ী উপদেষ্টা কমিটিও আছে। উপদেষ্টারা সব সময় আমাদের উপদেশ দেন। আমরা তাদের উপদেশ শুনি, পরে সিদ্ধান্ত নেয় কার্যকরী পরিষদ। পরীমনি ইস্যু নিয়ে আমরা উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কে কী মত দিয়েছেন তা কোথাও বলিনি। তাদের সবার মত এক হবে তাও কিন্তু নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় আমরা উপদেষ্টাদের মতামত নিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় পরীমনি ইস্যু নিয়ে আমি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি, মিশা ভাইও বলেছেন। পরের দিন আমরা কার্যনির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
অনেকেই বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন উল্লেখ করে জায়েদ খান বলেন, ‘পরীমনি ইস্যু নিয়ে সিনিয়রদের অসম্মান করা হচ্ছে, বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল পরীমনির সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করা হলেও তার পাশে আছে শিল্পী সমিতি। কিন্তু দৃশ্যমান এমন কিছুই চোখে পড়ছে না। এ বিষয় জানতে চাইলে জায়েদ খান বলেন, ‘আমরা কিন্তু কোথাও বলিনি তাকে বয়কট করলাম। আমরা পরীমনির খোঁজখবর রাখছি। আমার শিল্পী সমিতির সদস্যরা কোর্টে দৌড়ে গিয়েছে। তার পাশে দাঁড়িয়েছে। সবাই মুক্তি চাচ্ছে। আমরা কি তার বিরুদ্ধে? কখনই না। পরীমনির বিষয়টি একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে গেছে। আমাদের একজন আইন উপদেষ্টা আছেন। তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তারপরও তার পরিবার যদি কোনো সহযোগিতা চায়, আমরা পাশে আছি।’
এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির উপদেষ্টা মণ্ডলির তালিকায় রয়েছেন চিত্রনায়ক সোহেল রানা, ফারুক, উজ্জ্বল, ইলিয়াস কাঞ্চন, মাসুম বাবুল এবং মাহমুদ কলি। ইলিয়াস কাঞ্চন পরীমনির সদস্যপদ স্থগিতের বিপক্ষে মত দিলেও, উজ্জ্বল কোনো মত দেননি। সোহেল রানা সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতের পক্ষে ছিলেন। এ ছাড়া বাকিদের মতামত জানা যায়নি। তবে গণমাধ্যমে এ প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক আলমগীরের নাম শোনা গেলেও নিজেই জানিয়েছেন তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য নন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘যে কোনো বিষয়ে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উপদেষ্টারা উপদেশ দিতে পারেন। রাখা না-রাখা কার্যকরী পরিষদের উপর নির্ভর করে। ভালো সিদ্ধান্তের জন্য কমিটি যেমন বাহবা পাবে, ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ধিক্কার পাবে। সুতরাং শিল্পী সমিতি ভালো কি মন্দ করেছে তা সদস্যদের উপর ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়।’

উল্লেখ্য ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিকে গত ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। ৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা হয়। ৭ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে তার সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

Leave a Reply