গল্প

আমার মনে তোমার বিচরণ
লেখকঃ রাকিব বিন রশিদ
পিতা:মোঃ আঃ রশিদ মিয়া
গ্রাম: আরিফপুর দক্ষিণ পাইকানপাড়া
পোস্ট:সেরুডাঙ্গা
থানা: মিঠাপুকুর
জেলা: রংপুর

পর্বঃ১

“কনক- ভাই কিছু ভালো লাগছেনা চলনা কোথাও ঘুরতে যাই নিজেকে যানি কেমন কেমন লাগছে অনেক দিন তোর সাথে ঘুরতে যাওয়া হয় না সোহান।
“তবে আমার সাথে কই যাবি তুই কনক?সোহান -তুই যেখানে নিয়ে যাবি সেখানে দেখি তাহলে।কনক- ছোট ভাই বলছে নিয়ে যেতেই হবে কোথাও ভাবছি যাবো যত্রাপুর আমার ছোট চাচার বাড়ি অনেক দিন থেকে যাওয়া হয়না।সোহান- ভাই বললিনা যে কই যাবি!কনক -চল যত্রাপুর!সোহান -ভাই কস কি ঐ যে বড় খালার সাথে গেছলাম যখন ক্লাস ফাইভ এ পড়ি তখন আর এখন ইন্টারমেডিয়েট এ পড়ি যেতে খুব ইচ্ছা যাগছে!কনক -সোহান আমার আপন খালাতো ভাই দু ভাই এক সাথে বড় হয়েছি তাই আর ওর কথা ফেলতে পারলাম না যেতে হবে রেডি হ যাবো বিকেলে। সোহান -ভাই আমার যে কিযে ভালো লাগছে বহুদিন পর তোর ছোট চাচার বাড়ি যাবো!কনক- সাইকেল নিয়ে যাবো, সোহান -তাহলে ভাই ভালো হবে কয়েকদিন দুভাই থাকতে পারবো।কনক- সোহান সহ সাইকেল করে চড়ে গল্প করতে করতে চাচার বাড়ি রওনা দিলাম অবশেষে এক ঘন্টা পর ছোট চাচার বাড়ি পৌচ্ছাইলাম।সোহান- আসসালামু আলাইকুম চাচি আম্মা ভালো আছেন। কনকের চাচি- ওলাইকুম আসসালাম ভালো আছি বাবা। কনকের ছোট চাচার মেয়ে উপমা- কনক ভাইয়া তোমার সাথে ঐ ভাইয়াটা কে? কনক -ও আমার খালাতো ভাই ও যখন তোমাদের বাসায় আসছিলো তখন তোমার বয়স দুই বছর ছিলো তাই তুমি চিনতেছোনা!ও দিকে সোহান- রুমে টিভি দেখছে উপমা- টিভি রুমে গেলো।তখন বলছে উপমা- ভাইয়া ভাত খেতে আসেন আম্মু ডাকছে আপনাকে তখন উপমার -দিকে তাকালো সোহান -ছলছল চোখে…সোহান -মনে মনে ভাবছি আমিতো আগে দেখিনি নিচ্ছই কনক- ভাই এর ছোট চাচার মেয়ে!
সোহান -খাবার টেবিলে এসে খাওয়ায় মনোনিবেশ করল । খাওয়া শেষে লবন নিয়ে খানিক তর্ক বিতর্কও করলো কনক উপমার -সাথে আদরের ছোট বোনের সাথে নিচ্ছয় তুমি বেশি লবন দিছো তরকারিতে তাই একটু লবন বেশি! সন্ধা নেমে আসায় কনক -সহ সোহান রাতে এক সঙ্গে ঘুমালো। পরদিন উপমা -কনক ভাইয়া হিমেল- কনক ভাই এর মেজো চাচার ছেলে সোহান -ভাইয়া সহ হেদুয়া পার্কে যাবো যাবা আমাদের বাড়ি থেকে একটু দুরে…সোহান- উপমা যাবো…. সোহান- উপমা -হাঁটতে শুরু করলো….উপমার- পাশে সোহান…..পিছে পিছে কনক হিমেল…..উপমা- ভাইয়া হাঁটতে সমস্যা হচ্ছেনা তো সোহান -হাঁটাটা নতুন কিছু নয়, দীর্ঘ বেশ কয়েক বছরের অভ্যাস, বহুদিন ধরেই হেটে স্কুল করেছি বলতে বলতেই উপমা -এই তো এসে গেছে হেদুয়া পার্ক!পার্কের বসার বেদিতে ফুচকাওয়ালা। সোহান -উপমাকে ফুচকা খাওয়ানোর কথা বলেই হঠাৎ প্রথম উপমার -হাত ধরেছিল, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই, আচমকা, সেদিন উপমার সাথে…….

পর্ব :২

সোহান- যখন উপমার -হাতে ফুচকা তুলে দিলো তখন উপমা- লজ্জায় লাল হয়েছিল তা লক্ষ করতে থাকলো সোহান- মনে মনে ভাবতে থাকলো ইশ লজ্জা পাওয়াতে এত বেশি ভালো লাগলো উপমাকে! তার মুখের গড়ন, চোখের আভা করুন দৃষ্টি! মায়াবতি চাহনি! এগুলো ভাবতে ভাবতে উপমার- ফুচকা খাওয়া শেষ। আর সোহান- ভাবছে প্রতি দিন যদি এভাবে ফুচকা খাওয়াতে পারতাম”আর এভাবে সোহান- ধিরে ধিরে উপমার- প্রতি দুর্বল হয়ে পড়লো। আর ওদিকে কনক- হিমেল- দুজনে হেদুয়া পার্কে ফোনে নিজেদের ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত। সোহান -কনক -ভাই তুই এত ছবি তুলিস নিচ্ছয় ফেসবুকে পোস্ট করবি? আমরা তো বাদে গেলাম আমাদের ছবি কই? এ কথা বলার সাথে সাথে হিমেল- বললো আসেন ভাইয়া আমার ফোনে সেলফি উঠাই! সেলফি উঠানো হলো” তার পর কনক- বলছে সোহান অনেক ছবি উঠাইছি তখন সোহান- মজা করে হেসে বলছে ভাই তোর তো ছবি তোলা চাকুরি। আর সোহান- খুব খুশি মনে মনে ভাবছে, উপমা- সঙ্গে থাকায় খুব ভালো লাগলো। মজায় মজায় বিকেলটা পার হয়ে গেলো।ঘোরা ফেরা শেষে সন্ধার একটু আগে কনক- তার চাচার বাসায় ফিরে এলো সকল কে নিয়ে। একটু পর কনক? কনক? কনক? উপমা- বলছে ভাইয়া সেজো চাচা ডাকছে ;কনক সেজো চাচাকে তো আমি বাসায় এসে দেখলাম না? কনকের- সেজো চাচি বাবা তোমার নানুর বাসায় গেয়েছিলো পার্বতীপুর ঝুমা- কে নিয়ে। বায়না ধরছিলো তো তাই “আর সেজো চাচা তোমার বাসায় আসার সঙ্গেই বললাম কনক -এসেছে তোমাকে তো আবার খুব ভালো বাসে হুম চাচি আম্মা। সেজো চাচা ফরহাদ- আহমেদ খুবেই মিশুক ও হাস্যজ্বল মানুষ বলছে কনক- বাবা তোমার নানু বাড়ি থেকে হাঁসের মাংস নিয়ে এসেছি খেয়ে নাও। কনক -আচ্ছা চাচা সোহান কে ডেকে এনে এক সঙ্গে খাই সেজো চাচা সোহান -আচ্ছে হুম। সোহান -কে আবার সেজো চাচা খুব পছন্দ করে’ ও দিকে আবার সেজো চাচার মেয়ে ঝুমা- খাটে বসে গেম খেলছে; সোহান -ঝুমা কেমন আছো? হুম ভাইয়া ভালো আছি। ঝুমা -আপনি? হুম ভলো সোহান। কনক- তুই তো একে অনেক আগ থেকে চিনিস হুম সেজো মামার সাথে তোদের বাসায় গেছলো তখন থেকে চিনি। হুম কনক -সেজো চাচা বেশি যায় তাইতো তাই” রাত ঘনিয়ে এলো কনক- সোহান চল ঘুমাবো সোহান ঠিক আছে ঘুমাচ্ছি। কনক -ঘুমে বিভর আর এদিকে সোহানের- চোখে ঘুম নেই মনে মনে শুধু উপমার -প্রতিচ্ছবি। আর উপমাকে -সোহান ফুচকা খাওয়ানোর পরদিন থেকে সোহানের -প্রতি উপমা -ও দুর্বল! আর দুজনের মনে দুজনের প্রতিচ্ছবি! এভাবে কেটে গেলো কয়কদিন শুরু হয়ে গেলো তাদের দুজনের প্রেম ।আর উপমা -কোনদিন ভাবেনি, ওদের সম্পর্কটা এতদূর গড়াবে । শুধু ওরা না, দুজনে কেউই ভাবেনি । কি করে ভাববে? দুই মেরুর দুই মানুষ একে অপরকে এতটা ভালবাসতে পারবে কোনদিন ওরা নিজেরাই ভাবেনি!

এক সপ্তাহ কনক -ছোট চাচার বাসায় থাকার পর বারিতে আসার জন্য তারাহুরা ছোট চাচি -বলছে থেকে যাও আর কয়েক দিন না চাচি পরে আবার আসবো সময় করে। কেননা সামনে কনক -সোহানের ইন্টারমেডিয়েট ফাইনাল পরীক্ষা।অনেকটা দিন উপমাদের বাসায় সোহান থাকায় এখন কনক -ভাইয়ার সঙ্গে চলে যাবে সোহান- উপমা -সোহান কে প্রথমে কিছু না বললেও, নিঃশব্দে, আড়ালে চোখের পানি ফেলছিল উপমা! যা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি তাই হয়েছে , বুঝতেই পারেনি সোহান- কে কখন এতটা আপন করে নিয়েছি। সোহানের- রাতজাগা প্রতিটি কথোপকথন, খুব চেনা উদয়গিরিতা ফুচকা আমাকে খাওয়ানো ,এক সঙ্গে হেঁটে চলা চোখে চোখ রা বেড়ে ওঠা আমার ভালবাসা ভাললাগা আমার প্রেমের সাক্ষী বহন করছে কোনো কিছুতেই ভালো লাগছে না কি ভাবে আমি থাকবো কবে আবার দেখা হবে সোহানের -উপমা ।

আনমনে দুজনে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এসব কথাই বারবার মনে আসছিল দুজনের ।বাসায় আসার পর
এভাবেই ভালবাসায় আবদ্ধ সোহান- উপমার -ফোনে বিভিন্ন কথা বার্তা দুজন দুজনার খোঁজ খবর নেওয়া কেটে গেলো কয়েক বছর এভাবে।
-“এদিকে আবার সোহানের -পড়াশোনা অনার্স মাস্টার্স শেষ চাকুরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। আবার উপমা -অনেক বড় হয়েছে৷ আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছে ভালমন্দ বুজতে শিখেছে অনেক পরিপাটি হয়েছে। কনক -আবার জানেনা উপমার সঙ্গে সোহানের গভীর প্রেম কনক -কে বলেনি সোহান ভয়ে যদি কিছু বলে সে। দেখা বিনিময় সোহানের -সঙ্গে উপমার -অনেক দিন পর উপমা -বাসায় বিভিন্ন বাহানা করে অবশেষে –
আজ কতদিন পর আবার সেই রাস্তা, চেনা গলি, যেন অনেক না পাওয়ার মাঝে অনেকটা ফিরে পাওয়া সোহান ।

“আচ্ছা শোনো, আজ তোমাকে কয়েকটা জরুরী কথা বলতে এখানে ডাকা ।” সোহানের -দিকে তাকিয়েই বলল উপমা ।

সোহান -জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে উপমা- আবার বলল, দ্যাখো, অনেকগুলো বছর অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাড়ির সকলকে আটকে রেখেছি, এভাবে আর কতদিন? আমার বাড়ির লোকজন কিন্তু এবার সিরিয়াস আমার বিয়ে নিয়ে।”আমার ইন্টারমেডিয়েট ফাইনাল পরীক্ষা সামনে শেষ হলে হয়তো বা তার পর বিয়ে দিবে, কথাটা আর শেষ করতে পারল না উপমা। বলতেই চোখ দিয়ে পানি চলে এলো উপমার-সোহান তখন উপমাকে -বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললো কিছু হবেনা জানু আমি আছি তো উপমার -কপালে একটা চুমা দিয়ে বললো “আর তোমাকে নজর দিতে পারবেনা আমি থাকতে কেউ। এখন একটু হাসোনা বলতেই উপমা- এই দুষ্ট!

এদিকে আবার সোহানের -বাবা রিটায়ার্ড করেছেন আগের বছর, সরকারি স্কুল শিক্ষক ছিলেন, বাড়ির অবস্থা নিতান্তই সাধারণ । ছোট ভাই সৈকত -আবার দশম শ্রেনীতে পড়েন পড়াশোনা ওর এখন ও শেষ হওয়া অনেক দেরি! সেই বাড়ি থেকে ঘুঁষ দিয়ে সরকারি চাকুরি লাভ বা বহু টাকার বিনিময়ে চাকুরি নেওয়া কোনটাই সম্ভব নয় । সুতরাং, এই মন্দার বাজারে যা চাকুরির অবস্থা এতে এসব নতুন কিছু নয়, কত প্রেমই তো এই চাকুরির অভাবে – টাকার অভাবে জানলা দিয়ে পালায় মনে মনে সোহান -ভাবছে আর উপমাকে- হারানোর ভয় করছে ।

সোহান- এর শুধু চুপ করে, একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই শোনা গেল না, উপমা- জানে সোহান ও যথেষ্ট চেষ্টা করছে, কিন্তু তাও এখনও অবধি।

দুইপক্ষের মৌনতায় যেন অনেকগুলো কথা বলে দিচ্ছিল, যে হাতদুটো একে অপরকে সবসময় আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল, আজ সেই হাতদুটোই কী ক্লান্ত? কে জানে।

“তুমি আমার স্বপ্ন, আমার জীবনের ইচ্ছা সবই তো জানো।”

সোহানের -মুখের কথা কেড়ে উপমা- বলল,”জানি, সবই জানি, ইনফ্যাক

পর্বঃ৩

উপমা- তুমি যদি চাকুরি টা ভালোভাবে খুঁজতে তাহলে এই দিনটা আসতোনা”
কিছুক ক্ষনের মৌনতা ভেঙে সোহান- বললো তুমি কি বলতে চাও? উপমার- মুখ দিয়ে কথাটা বের হচ্ছিলো না উপমা-তা আজ আমাক বলতেই হবে ওকে আজ,”আই থিঙ্ক আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত, এই সম্পর্কটার কোন পরিণতি নেই ।” এটুকু বলেই চুপ করে গেলো উপমা ।
ওপাশে তখন ঝড়ের বেগের মতো দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে সোহানের- মন তখন সোহান- শত কষ্ট নিয়ে বলল,”বেশ ।” ব্যাস, এটুকু বলেই ফোনটা কেটে দিলো সোহান।

ধপ করে মাটিতে বসে পড়ল উপমা-কে যেনো ওর ভিতর থেকে উপমাকেই- উপড়ে নিয়ে চলে গেলো, কিন্তু আর কি বা করার ছিলো! আমি যে সোহান -কে খুব বেশি ভালবাসি আর কতদিন! সমাজকে কি বলবো আমি আশেপাশের মানুষকে, বাবা-মা কে কি বলবো আমি! মনে মনে বলছে উপমা! কিন্তু সোহান- তো বোঝেনা , আমার পরিস্থিতিটা বুঝলো না । ওর স্বপ্নটাই সব! আর ওর সাথে আমার বাঁচার স্বপ্নটা! সেটা কিছু না! তার কোনো দাম নেই! একটা স্বপ্নকে ছুঁতে গিয়ে আমার স্বপ্নটা শেষ করে দিলে এ বলেই উপমা-
কান্নায় ভেঙে পরলো উপমার সাথে প্রকৃতিও যেনো কান্নায় ভেঙে পরলো! তখন উপমার -চোখে অঝোর বৃষ্টি।
আজ এতগুলো বছর সোহানের- সাথে কতো খুনসুটি, আদর, ভালবাসার পর সোহান – এটা কেনো বললো কিছুতেই নিজে মানতে পারছিনা। ওদিকে আবার সোহান – কষ্টে কাতর যার জন্য আমার এতো কিছু সেই উপমা- আমাকে আলাদা হয়ে যেতে বললো আর চোখ দিয়ে পানি পরছে আর বলছে উপমারা- বড়লোক ওর কাছে আমার ভালবাসার কোনো মুল্য নেই! ও আমাকে এতো সহজে আলাদা হয়ে যেতে বললো ও আমার চোখের ভাসা বুজলোনা! হৃদয়ের আহাকার বুজলোন উপমা- এতো নিষ্ঠুর হলে! চাকুরি, চাকুরি এটা নেই বলে আমার এ পরিনতি মনে মনে বলছে আর রাস্তা দিয়ে হাঁটছে চাকুরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে!এক হাত দিয়ে চোখের পানি মুছছে আর বলছে নিজের এতো আমার ভালো রেজাল্ট ভালো সার্টিফিকেট আমার কোনো মুল্য নেই!কি হবে এসব সার্টিফিকেট দিয়ে; কি করবো আমি কেঁদে কেঁদে বলছে সোহান -“আকাশের দিকে তাকিয়ে হে আল্লাহ আমি উপমাকে -এতো ভালবাসি আমি কি করবো আমি যে নিরুপায়! ওদিকে আবার সোহানের – বাবার ডায়াবেটিস বেড়ে গেছে খুব অসুস্থ হয়ে পরেছে। আবার ছোট ভাই সৈকতের- এস,এস,সি ফর্ম ফিলাপ কঠিন বিপাকে সোহান!আবার উপমার- কাছে সোহানের- ভালবাসা ফিকে করুন অবস্থায় সোহানের জীবন। উপমার – বড় ভাই আল ইমরান হাসান বিরাট সরকারি চাকুরি জিবি কুমিলা মৎস্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অফিসার। একটাই ছোট বোন উপমা – বড় আসা ছোট বোনের সাথে অফিসার কে দিয়ে বিয়ে দিবে মহাধুম ধামে ।উপমার -বাবা মশিউর রহমান এর ও আসা একটাই ধুমধামে মেয়ের বিয়ে দেওয়া। তার বারির কাজের লোক শিমুল ছোট মামনির বিয়েতে অনেক মজা করা। উপমাকে -কোলে পিঠে বড় করছে তার চাওয়া উপমার বিয়ে হয়ে যাক বড় অফিসার কে দিয়ে। এ কথা বলতে বলতে শিমুলের সামনে উপমা! শিমুল মামনি উপমা -তোমার বিয়ে নিয়ে বড় বাবাজি কথা বলছে এবার নাকি বাসায় অনেক দিন থাকবে ছুটি নিয়ে এসেছে!এ কথা বলতেই উপমা -বলছে শিমুল চাচা আপনি চুপ করেন তো, ভালো লাগছেনা তখন বারির কাজের লোক শিমুল উপমার -চোখে কেমন জানি চোখে কষ্টের ছাপ দেখতে পেলো! এদিকে সোহানের – মনের বিহনে শুধু উপমা পাচ্ছে না নিজের করে নিতে পারছেনা দুরে ঠেলে দিতে উপমা – তা বুজতেছেনা কতো ভালবাসে সোহান উপমাকে। গলায় কাঁটার মতো যেনো বিঁধে আছে উপমা! সোহানের – মনে অনেক কষ্ট তা নিয়ে বেঁচে আছে সোহান- বলছে এতো কষ্ট হচ্ছে উপমার জন্য। সেদিন অতো কিছু শোনার পর আর একটা ফোনও করেনি ও আমার জন্য কেনই বা করবে?যেচে অপমানিত হতে উপমা -কেনো চাইবে! কিন্তু আমার মন যে মানছেনা উপমার- সাথে খুব কথা বলতে ইচ্ছে করছে আর চোখ বয়ে পানি ঝরছে।************* মনে হচ্ছে প্রবল নিম্নচাপ সোহানের- মনে। ঘনো কালো মেঘে মোড়া আকাশটা, ততোধিক দুর্যোগ চলছে ও দিকে উপমার মনে , বাবা ও ভাই এর পছন্দের পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে উপমাকে।

বাড়ির সকলে খুব খুশি । উপমা- নিজের ঘরে আয়নাটার সামনে । আজ সবকিছু এলোমেলো উপমার সামনে, হাতে সোহানের- দেওয়া প্রথম উপহার সস্তার এমিটেশন গলার হার ও দুল-এর সেট । সোহান- এর টিউশনের টাকা জমিয়ে কেনা । খুব যত্ন করে এগুলো রেখে দিয়েছিলো উপমা । সেদিন তো এগুলোই খুব দামী ছিলো উপমার- কাছে! আর আজ আমার কাছে এগুলো স্মৃতি! উপমা -মনে মনে ভাবছে আর বলছে স্বপ্ন দেখেছিলাম একটা মিষ্টি বউ হবো সোহানের – একসাথে পথ চলবো দুজন দামী গাড়িতে না হোক, ভাঙা সাইকেলেই! স্বপ্ন দেখেছিলাম একসাথে রাতের আকাশের তারা গুনবো, সোহান- কে জড়িয়ে ধরে সারা রাত গল্প করবো ।

আজ সব স্বপ্নগুলো রং হারিয়েছে, সমাজের চোখ রাঙানিতে, ছেলের যে চাকুরি নেই, ছেলের ভবিষ্যৎ শুন্যে ছেলে কিছু করে না । সমাজ কি মানতে পারবে! কখনই না আমার বাবা যে বড়লোক অঢেল সয় সম্পদ….

পর্বঃ ৪

(কিছু দিন পর)
উপমা- ভাবছে আর বলছে সোহানের সাথে দেখা করে আসবো হয় সে আমাক আপন করে নিবে না হয়তো আমি চিরদিনের জন্য চলে আসবো তার কাছ থেকে!বাবা-মা যা সিদ্ধান্ত নিবে তাই মেনে নিবো। কাল সোহানের সাথে দেখা করবই। রাত দশটা বেজে ৩০ মিনিট হঠাৎ ফোন করলো উপমা- সোহানের ফোনে চমকে! গেলো সোহান উপমার ফোন কল দেখে!উপমা হ্যাঁ লো সোহান কেমন আছো সোহান- আস্তে করে বললো এই তো আছি! এ কথা বলতেই সোহানের চোখ মুখ বিবর্ন হয়ে চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরলো। তখন উপমা- সোহান কে বললো কাল আমার সাথে দেখা করো! সোহান- উপমাকে বললো কোথায়? উপমা – প্রথম দিন তুমি আমি যেখানে গেলাম সেই হেদুয়া পার্কে।সোহান- ঠিক আছে এ কথা বলার সাথে সাথে উপমা ফোন কল কেটে দিলো। পর দিন ****সোহান-উপমার সঙ্গে দেখা করার জন্য হেদুয়া পার্কে গেলো গিয়ে দেখে উপমা দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সোহান – উপমাকে ফুচকা কিনে দিয়েছিলো! সোহান- উপমা কে বললো আমাক কি জন্য ডেকেছো সেটা বলো? তখন উপমা- সোহান কে বললো আমি আর কতদিন এভাবে থাকবো আমি আর পারছিনা আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য বাসায় উঠে পরে লাগছে বিয়ে দিবে! উপমা- তুমি এখনো একটা চাুকুরি যোগার করতে পারলেনা আমার বাবা তোমাকে দিয়ে বিয়ে দিবেনা! এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সোহান- অশ্রু শিক্ত নয়নে উপমাকে বললো তোমাকে পাবার জন্য কতো কতো জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়ে এসেছি! একটা চাকুরির জন্য হন্যে হয়ে জুতার তলা ক্ষয় করছি তোমাকে পাবার জন্য” উপমা -কেঁদে বলছে সব তোমার মিথ্যা কথা তুমি আমার জন্য কিছু করোনি! তুমি আমাকে ভুলে যাও!তখন সোহান- হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে উপমাকে-জড়িয়ে ধরে বলছে উপমা আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবোনা! তুমি আমার জীবন বেঁচে থাকার ঠিকানা। উপমা- তখন চুপ করে আছে আর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে!সোহান- উপমাকে জড়িয়ে ধরে বলছে এসব তুমি ফান করছো আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো এসব সত্য না। সোহান- উপমাকে বলছে আমি আজ এখনি তোমাকে বিয়ে করবো! উপমা তা সম্ভব না!সোহান – আমার এত বছরের ভালবাসা আমি মানতে পারবোনা! আমি তোমাকে ছাড়া কেমনে থাকবো এ কথা বলার সঙ্গেই উপমা- সোহান কে উপমার বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে বললো আমার বাবা-মার পছন্দ করা ছেলেকে আমি বিয়ে করবো তাদের সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্ত। তারা কখনও আমার খারাপ চাইবেনা! সোহান-তখন উপমাকে বলছে আমি তা মানিনা মানবোনা হে আল্লাহ আমি উপমাকে ছাড়া কেমনে বাঁচবো!এটা তোমার কথা হতে পারেনা উপমা! সোহান- উপমা এটা তোমার শেষ কথা! উপমা- তখন সোহান কে ধাক্কা দিয়ে বললো এটাই আমার ফাস্ট এটাই আমার লাস্ট কথা এ বলেই পেছন দিকে না তাকিয়ে চলে গেলো উপমা।তখন সোহান- হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে মাটিতে লুটিয়ে পরলো।তখন আকাশ বাতাস যেনো থমকে গেলো সব দিক দুমড়ে মুচড়ে গেলো অন্ধকার নেমে এলো চারিদিকে প্রবল বেগের গতিতে।

ওদিকে উপমা- বাসায় গিয়ে নিজের রুমে কাঁদছে আর সোহানের স্মৃতি গুলো মনে পরছে আর বলছে আমি যে সব কথা বলে আসছি সোহান কে ও গুলো আমার মনের কথা না! বালিশ কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, আর বলছে আমি যে নিরুপায়! আমাকে আল্লাহ কোন কঠিন পরীক্ষায় ফেলালে!
সোহান কে ছাড়া আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটু পর উপমার – বাড়ির কাজের লোক শিমুল উপমার জন্য রুমে চা নিয়ে যাওয়ার পর দেখে উপমা কাঁদছে! শিমুল – উপমাকে বললো কাঁদছো কেনো ছোট মামনি এ কথা বলার সঙ্গেই উপমা – বাড়ির কাজের লোক শিমুল কে জড়িয়ে ধরে বলছে চাচাজি আমি আর পারছিনা আমি কনক ভাইয়ার খালাতো ভাই সোহান কে খুব ভালবাসি! আমার বাবা তা কখনও মানবেনা আর আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছে। তখন বাড়ির কাজের লোক শিমুল বলে ছোট বেলা থেকে ছোট মামনি তোমাকে কোলে পিঠে মানুষ করেছি আমি বুজবোনা তে কে বুজবে?আমি সেদিনে বুজেছি যেদিন বড় বাবা জি তোমার বিয়ের কথা বলায় তোমাকে বললাম। সেদিন তোমার মলিন মুখ দেখে বুজেছি তোমার জীবনে কেউ একজন আছে এ বলে বাড়ির কাজের লোক শিমুল চলে গেলো। এদিকে উপমার বাবা দৈনিক বাংলা পত্রিকা পড়ার শেষে যখন সিড়ি থেকে নামতে শুরু করলো তখন উপমার – বাবা সিড়ি থেকে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনতে পায় উপমার এবং বাসার সকলেই জানতে পায় কনকের আপন খালাতো ভাই সোহান কে উপমা- খুব ভালবাসে। এ কথা জানার পর বাসায় সকলেই একমুখী হয়ে আছে উপমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। কয়েক দিন পর**** উপমার- ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে! তিন দিন হলো উপমার পরীক্ষার রেজাল্ট হয়েছে এখন তো আর উপমার বিয়ে দিতে বাঁধা নেই উপমার পরিবারে । এদিকে আবার সোহানের – সঙ্গে উপমার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এক দম কোনো প্রকার যোগাযোগ নেই আর। সোহান-অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু ফোনে উপমার সাথে আর যোগাযোগ করতে পাচ্ছে না। বাসায়
উপমার- মার ফোনে রিং হচ্ছে বার! বার! উপমার মা সেঁজুতি- বলছেন মা উপমা ফোনটা ধরোতো আমি রান্না রুমে আছি ” ঠিক আছে মা যাচ্ছি উপমা- ফোন কল ধরা মাত্র উপমার বড় খালা লুতফা বেগম বলছেন মা উপমা জ্বি খালা ভালো আছেন আপনি? হুম মা ভালো আছি,মা উপমা তোমার মাকে ফোনটা দাওতো! দিচ্ছি খালা “মা ধরো বড় খালা ফোন দিছে হ্যাঁ লো বড় আপা তুই কেম

পর্বঃ ৫

এম, আর নয়ন- উপমার বাবা কে বলছে খালু সাহেব একটা খুব ভালো ছেলের খোঁজ আমার কাছে আছে” ছেলে চাকুরি করে বেসরকারি কোম্পানি ‘লিটল টাটাতে” ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা ম্যানেজার” মাসিক বেতন পান প্রতিমাসে ১ লাখ বিশ হাজা টাকা। ছেলে মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর। ছেলের পরিবারে কোন ঝামেলা নেই” এক, ভাই এক বোন বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। উপমার – বাবা মশিউর রহমান বলছেন তাই নাকি বাবা তাহলে খোঁজ খবর নিতে বলবো তোমার খালাতো ভাই আল ইমরান কে। এ কথা বলে উপমার – বাবা এম,আর নয়ন কে বললো বাবা এখন ঘুমাও রাত অনেক হয়েছে কাল কথা হবে। রাত শেষে সকাল হলো উপমার – বড় খালা লুতফা বেগম বলছে তার ছোট বোন সেঁজুতি উপমার- মা কে শুন উপমা মার এ বিয়ের সমন্ধ টা হাত ছাড়া করা যাবেনা এমন সুযোগ কম এ আসে! উপমার মা ঠিক বলেছিস বড় আপা আজকে বিকেলে আল ইমরান হাসান কে তোর ছেলে এম,আর নয়নের সঙ্গে পাঠাবো ছেলের খোঁজ নিতে। সকাল বয়ে বিকেল হলো আল ইমরান হাসান ও এম,আর নয়ন দুই ভাই এক সঙ্গে বাইক নিয়ে ছেলের খোঁজ নিতে গেলো পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং শানের হাট ইউনিয়নের বড় পাহাড় পুড় গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ডিপটি মিয়ার এক মাত্র ছেলে মোঃ গাজী মাজহারুল আনোয়ার সবুজ তার বিষয়ে। খোঁজ খবর নিয়ে বাসায় চলে এলেন দুজনে বাসায় আসতেই উপমার -বাবা জিজ্ঞাসা করলেন তার ছেলে আল ইমরান হাসানকে কেমন দেখলে বাবা তুমি? উপমার – ভাই বাবা খুব ভালো ছেলে ও ভালো পরিবার আমার খুব পছন্দ হয়েছে! উপমার সাথে মানাবে ভালো। একটু পর উপমার -ভাই বলছে উপমার- মাকে মা উপমার- খালাতো ভাই এম,আর, নয়ন কই? উপমার- মা রুমে টিভিতে খেলা দেখছে বাবা আল ইমরান হাসান উপমার – ভাই উপমার- মাকে বলছে আসতে বলোতো আমার কাছে এম,আর নয়ন কে? বলতেছি বাবা উপমার- মা উপমার – খালাতো ভাই এম,আর নয়ন – উপমার – ভাই আল ইমরান হাসান কে বলছেন ভাই আমাকে ডাকলেন হুম”উপমার – ভাই খালাতো ভাই এম,আর নয়ন- কে বলছে তুমি ছেলে ও ছেলের বোন কে আসতে বলিও উপমাকে দেখতে আমাদের বাড়িতে আমার ছেলে খুব পছন্দ হয়ছে! তখন এম,আর নয়ন- বলছে ভাই আমার কিযে ভালো লাগছে! উপমার সাথে ছেলেকে যে খুবেই মানাবে! হাসতে;হাসতে বলছে ভারতীয় নায়ক নায়িকা শারুক খান ও কাজলের মতো লক্ষি বোন উপমার জুটিটা হবে! এ কথা বলার সঙ্গে মুচকি মেরে হাসলো উপমার ভাই আল ইমরান হাসান হেসে চলে গেলেন। তিন দিন পর উপমার – খালাতো ভাই এম,আর নয়ন উপমার- বাবা মশিউর রহমান কে বলছেন খালু সাহেব ছেলে ও ছেলের বোন ও দুলাভাই সামনে শুক্রবার উপমাকে দেখতে আসবে আপনার বাসায় শুনে উপমার – বাবা -মা ভাই খুব খুশি।

এদিকে আবার উপমাকে- দেখতে আসার কথা শুনে শোখে পাথর উপমা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে সব সময় মনে প্রানে সোহান শুধু সোহান আর রাত জেগে জেগে সোহানের কথা ভাবতে ভাবতে চোখের নিচে কালি জমিয়েছে। এদিকে আবার সোহান উপমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বেকুল হয়ে পরেছে কিন্তু কোনো যোগাযোগ করতে পাচ্ছে না আর পাগলের মতো হয়ে যাচ্ছে উপমার জন্য সোহান-দিন,দিন! সোহানের- মাথার চুল গোফ অনেক বড় হয়ে গেছে দেখলে অনেকেই অবাক হয়ে যাবে পরিপাটি ভালো ছাত্র তার এ কেমন হাল হয়েছে! সব সময় মনে শুধু উপমা! উপমা! সোহান বাসায় টিউশনি করা ছেড়ে দিয়েছে সব সময় শুধু উপমার জন্য কাঁদছে মুখে সিগারেট ধরেছে! যে ছেলে কখনো সিগারেট খায়নি সে সারাক্ষণ সিগারেটের উপর থাকে।এদিকে সোহানের- মা শান্তনা বেগম বলছে আর কাঁদছে নামাজে বসে আমার ছেলেটা এমন হয়ে গেলো কেনো হে আল্লাহ আমার ছেলে কে আগের মতো করে ফেরিয়ে দাও সোহান আমার বড় ছেলে আমার পরিবারের মেরুদন্ড বলছে আর নামাজে বসে কাঁদছে। আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে।আজ শুক্রবার উপমাকে বিয়ের জন্য দেখতে আসবে বিকেলে ছেলের পরিবার উপমাদের বাড়িতে অনেক আয়োজন অনেক খাবারের ব্যবস্থা হতেই হবে বিশাল বড়োলোক অঢেল সয় সম্পদের মালিক মশিউর রহমান তার একমাত্র মেয়েকে দেখতে আসবে বলে কথা।উপমাদের- বাসায় সকলেই উপমাকে দেখতে আসবে জন্য নতুন কাপড় পড়েছেন সবাই! ওদিকে উপমা কে উপমার বিয়ের জন্য লোক দেখতে আসবে জন্য উপমার বান্ধবী অনু ও উপমার সেজো চাচার মিয়ে ঝুমা উপমাকে সাজুগুজু করাচ্ছে! সাজুগুজু করা শেষে উপমার রুম থেকে অনু ও ঝুমা চলে গেলো তখন শুধু উপমা একাই রুমে উপমা তখন খাট থেকে নেমে তার ডেসিনের মুখ দেখা আয়নার সামনে গেলো আয়নার সামনে যেতেই তার শরীরের প্রতিচ্ছবি আয়নার সামনে দেখতে পেলো বউবেসে সাজুগুজু করা উপমাকে! তখন উপমা কাঁদছে আর একা একা বলতে লাগলো মনে কতো শখ ছিলো সোহানের মিষ্টি বউ হবো! সোহান আর আমার চার হাত এক হবে! কপালে চন্দনের টিপ দিবো!মাথায় টোপর পরবে সোহান গলায় পরবে মালা! সোহান কে এভাবেই দেখতে চেয়েছিলাম বললো উপমা । উপমা বলতে লাগল আমার পরনে বেনারসী তে সোহান অপলোক মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাতো আর বলতো সোহান আমাকে লাল টিপ, কপালের টিকলি কি মিষ্টিই না দেখাচ্ছে তোমাকে উপমা! উপমা- এগুলো নিজে নিজে বলছে আর কাঁদছে।আর উপমা – বলছে সোহান ভালবেসে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলো আমাকে তুমি যেদিন আমার জন্য বউ বেসে লাল বিনারসী শাড়ি পরবে সেদিন তুমি আমার বউ হবে! আমি তোমার বর হবো! তখন সেই হেদুয়া পার্কে যাবো। যেখানে তোমার আমার মন দেওয়া নেওয়া ভালবাসা হয়েছিলো! আর বলেছিলো তুমি বউ সেজে পার্কে বসে থাকবে আর আমি বর বেসে তোমার জন্য ফুচকা নিয়ে আসবো! প্রথম দিন তুমি যেভাবে ফুচকা খেয়েছিলে সে ভাবো তোমার ফুচকা খাওয়া অপলক দৃষ্টি তাকিয়ে থেকে দেখবো উপমা- বলছে আর হাফিয়ে কাঁদছে সোহান তুমি এভাবে বলেছিলে! কতদিন! থেকে তোমায় দেখিনা কাঁদছে আর বলছে উপমা সোহান আজ তুমি কোথায় আমি কার জন্য বউ সাজছি! আজ আমাকে দেখতে আসছে এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই! উপমার সেজো চাচার মেয়েকে উপমার – বাবা বলছে উপমাকে নিয়ে আসো তখন উপমার- সেজো চাচার মেয়ে ঝুমা বলছে যাচ্ছি বড় বাবা উপমা আপুকে আনতে! উপমার রুমে ঢুকতেই ঝুমা উপমা চোখের পানি মুছলো! ঝুমা – উপমা আপু বড় বাবা তোমাকে আসতে বললো আসো!তখন এ দিকে ড্রয়িং রুমে ছেলে, ছেলের বোন ও দুলা ভাই, উপমার- বাবা বড় ভাই আল ইমরান হাসান ও উপমার- মা সেঁজুতি ও উপমার খালাতো ভাই এম,আর নয়ন বসে আছে সোফায়। উপমা- তাদের সামনে….

পর্বঃ ৬

উপমা- কে দেখতে আসা ছেলের বোন উপমাদের ড্রয়িং রুমে বসে থাকা সকলকে আজ উঠি বলে আসসালামু আলাইকুম বলে চলে গেলেন। উপমা একটু পর উপমা- তার নিজ রুমে গিয়ে খাটে লাফিয়ে পরে কাঁদছে আর সোহানের -দেওয়া উপহার উপমার জন্মদিনে উপমাকে দিয়েছিলো সোহান- টিউশনির টাকা জমিয়ে এমিটেশনের হাড় ও দুল সেট উপমা বেডসাইড থেকে বের করে উপমা দেখছে আর কাঁদছে!আর বলছে আমি আর পারছিনা সোহান তুমি কোথায়! আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে! আমি যে অন্য কারো হয়ে যাচ্ছি! আমি নিরুপায়! কাঁদছে আর বলছে! আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো সোহান। এদিকে সোহান বদ্ধ রুমে বসে মুখে সিগারেট টানছে মুখ দিয়ে ধোয়া বের করে উপরে দিচ্ছে আর কাঁদছে আর বলছে উপমা – উপমা- উপমা- তুমি কোথায়! তুমি কোথায়! আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উপমা তোমাকে একটি বার দেখার জন্য! উপমা – তুমি আমার সাথে কেনো যোগাযোগ করছো না উপমা- ফোনে কেনো আমার সাথে কথা বলছো না?এ গুলো বলছে আর কাঁদছে! আর বলছে একা, একা বদ্ধ রুমে সোহান- আজ ১ই মার্চ উপমা-তোমার আজ জন্মদিন গতবার এই দিনে তোমার জন্মদিনে আমি বড় কেক নিজে এনে কেক কেটে তোমার জন্মদিনে আমি নিজ হাতে কেক কেটে মুখে তুলে তোমাকে খাওয়ালাম! তোমাকে জড়িয়ে ধরে ফোনে সেলফি উঠালাম! আর তুমি আমি কত খুনসুটির করলাম! আজ তোমার জন্মদিন তুমি আমার কাছে নেই উপমা! তুমি বলেছিলে আমাকে উপমা- সোহান আমার ২১তম জন্মদিনে আমি তোমার জন্য হেদুয়া পার্কে হলুদ রঙের সুন্দর
একটা শাড়ি পড়ে আসবো!চুল
বেধেঁ চোখে কাজল
দিবো!হাত ভর্তি লাল-
নীল কাঁচের চুড়ি পড়বো!
হলুদ শাড়ি পরে আমি তোমার
সামনে আসবো!তুমি পড়বে হলুদ পাঞ্জাবি! আমার হাতের চুড়িঁর
শব্দ শুনে সোহান তুমি আমাকে
বলবে উপমা- তোমাকে ভারি সুন্দর
লাগছে! সোহান- তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করবে কপালে চুমু দিবে!আর আমার হাতটা শক্ত করে ধরে বলবে তুমি চিরদিনের জন্য শুধু আমার।

আজকে উপমার জন্মদিন সোহান-
একটা হলুদ
শাড়ি কিনে এনেছে বাসায়! সঙ্গে এনেছে লাল
নীল কাচেঁর
চুড়ি,সামান্য একটু
কাজল! সোহান এসব নিজে
দেখছে আর কাঁদছে হাউমাউ করে উপমা তুমি আমার কাছে আজ নেই। আজ তোমার ২১তম জন্মদিন
আমি মরে যাবো উপমা! আমি মরে যাবো! উপমা আজ তোমাকে
জড়িয়ে ধরে থাকতে ইচ্ছে করছে! উপমা! তুমি আমার সাথে একবার দেখা করো উপমা! এদিকে উপমার- বাসায় কেনা কাটার ধুম পরে গেছে উপমার বিয়ের জন্য বাসার সবাই হাসি খুশিতে কেনা কাটায় ব্যস্ত এভাবেই আগাচ্ছে উপমার বিয়ের কেনা কাটা। ২ দিন পর হঠাৎ ফোন সোহানের- খালাতো ভাই কনকের ফোনে সোহানের – খুবেই মিল সোহানের সব কথা সেয়ার করে বন্ধুর মতো চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিকের !সোহানের এ চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক ঢাকায় থাকেন তিনি বেসরকারি ইউনিভার্সিটিতে বি,বি,এ সেকেন্ড সেমিস্টারে পড়েন। সোহানের – খালাতো ভাই বেশি গ্রামের বাসায় থাকেন না সে রংপুরে বেশি থাকেন! মেসে থেকে পড়াশোনা করেন এজন্য” বহুদিন পর আজ গ্রামের বাসায় এসেছে সোহানের- খালাতো ভাই কনক আসার ২ ঘন্টা পর ফোন দেয় আনোয়ার ইসলাম মানিক ফোন দিয়ে সালাম দেয় কনক কে “সালাম নিয়ে কনক বলে কে বলছেন? তখন পরিচয় দিয়ে বলেন আমি সোহানের – চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক! তার পর সোহানের ভালবাসা উপমা – তার বিষয়ে সব খুলে বলেন বর্তমান সোহানের যে মনের অবস্থা তা খুলে বলেন সোহানের খালাতো ভাই কনকে।সোহানের- খালাতো ভাই কনক শুনে অবাক হয়ে গেলো! আর বললো এতো কিছু হয়েছে আমি এসবের কিছু জানিনা! উপমার- বিষয়ে সোহান আমাক কোন দিন কিছু বলেনি! তখন সোহানের – বন্ধুর মতো চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক বললেন আপনাক ভয়ে বলেনি সোহান! আর আপনি সোহানের দিকে একটু খেয়াল রাখিয়েন সোহানের চাচা বললেন কনক- ঠিক আছে এ বলে ফোন কেটে দিলো কনক। কনক- বসে মনে মনে ভাবে উপমা আমার আপন ছোট চাচার মেয়ে এদিকে সোহান আমার আপন খালাতো ভাই! আমি কাকে কি বলবো! ওদিকে সামনে সপ্তাহে উপমার বিয়ে ঠিক হবে! কথা বার্তা সব পাকা পোক্ত! কনক ভাবছে আর মনে মনে বলছে কেনো সোহান আমাক আগে কিছু বললোনা? ছোট চাচার যে রাগ আমি কেমনে কি বলবো! একটু পর কনক তার ছোট চাচা কে ফোন দিলো ফোন দিয়ে বললো আসসালামু আলাইকুম ছোট চাচা; কনকের চাচা ওলাইকুম আসসালাম” বাবা কনক উপমার বিয়ে তারিখ ঠিক হবে সামনে সপ্তাহে আমাদের বাসায় তাড়াতাড়ি আসিও অনেক কাজ আছে বাসায়! কনক ঠিক আছে ছোট চাচা। কনক- ছোট চাচা উপমার এ বিয়েতে মতামত কি? তখন উপমার – বাবা কনক কে রাগ হয়ে বলে উপমার মতের কি আছে আমরা যা বলবো তাই এ কথা বলে ফোন কেটে দিলো উপমার বাবা। একটু পর কনক – ফোন দিলো তার খালাতো ভাই সোহান কে! ফোন দেওয়া মাত্র সোহান কনক কে বলে ভাই আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি উপমা কে খুব বেশি ভালবাসি তুই

প্লিজ একটু একবারের
জন্য দেখা করে দে উপমার সাথে আমার! দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উপমাকে দেখার জন্য! বলছে আর কাঁদছে তখন কনক- তার খালাতো ভাই সোহান কে বলছে উপমার বিয়ের জন্য সব ঠিক ঠাক শুধু বিয়ের তারিখ টা বাকি! আমার যে আর কিছু করার নেই ভাই এ কথা বলে ফোন কেটে দিলো কনক। এ দিকে সোহানের বাবার ডায়াবেটিস বেড়ে গেছে খুব অসুস্থ ! সোহানের ছোট ভাই সৈকত আবার বাসায় নাই সামনে সৈকতের এস,এস,সি ফাইনাল পরীক্ষা এজন্য মিঠাপুকুরে মেসে চলে গেছে তার গ্রামের চাচা ওমর ফারুক যে মেসে থাকে সে মেসে! ওখানে থেকে সৈকত প্রত্যাশা কোচিং এ কোচিং করে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট এর জন্য আর সৈকতের ভালো খোঁজ খবর রাখে এবং নিজের রুমে সৈকত কে রাখছে ভালো পড়াশোনার জন্য সোহানের- চাচা ওমর ফারুক । আবার সোহান এর বাড়িতে সোহানের মনের অবস্থা খুবেই খারাপ তার সাথে তার বাবাও খুব অসুস্থ। সেজন্য সোহানের – মা তার চাচাতো ভাই কাউসার আলম কে বলছে আল্লাহ কি বিপদ দিলো কাউসার সোহান রুম থেকে বের হয়না! ওর বাবা ও খুব অসুস্থ! বাসায় তোর বড় আব্বার ওষুধ নেই! তখন সোহানের চাচাতো ভাই কাউসার আলম বলে উঠলো সোহানের – মাকে বড় আম্মা বিকেলে টাকা দেন ওষুধ এনে দিবো” এই বলে চলে গেলো সোহানের – চাচা তো ভাই কাউসার আলম।
সন্ধা ঘনিয়ে এলো এদিকে সোহান- চোখ বন্ধ করে রুমে উপরের দিকে তাকিয়ে উপমাকে নিয়ে কবিতা বলছে
চোখ বন্ধ করি যখন “উপমার”
ছবি দেখতে পাই তখন”খুব কষ্ট হলেও

পর্বঃ ৭

উপমার- বাবা উপমার মাকে বলছে রাত পোহালে শুক্রবার বিয়ে ঠিক হবে আমার কিযে ভালো লাগছে! উপমার মা ভালো ছেলে ভালো পরিবার মেয়েটা আমার সুখেই থাকবে”রাত পোহালো সকাল হলো আজ শুক্রবার উপমার বাড়িতে আনন্দ আর আনন্দ ওদিকে মেজো চাচার ছেলে হিমেলের- বড় ভাই মেহেদী হাসান মুন্না ঢাকায় আর টিভিতে চাকুরি করে! উপমার – মা তিন দিন আগে ফোন দিয়ে দিয়ে বাড়িতে আসতে বলেছে উপমার বিয়ে ঠিক হবে এজন্য বিয়ে ঠিক হওয়ার সময় থাকতে হবে উপমার মেজো চাচার ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না কে! তাই “উপমার – মেজো চাচার ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না আজ শুক্রবার সলাল ১০ টায় ঢাকা থেকে বাসায় এসেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ২০ মিনিট পর উপমার- খালাতো ভাই এম,আর নয়ন উপমার-বাবা মশিউর রহমান কে ফোন দেন ফোন দিয়ে বলেন খালু সাহেব আমি আসতেছি আপনার বাসায়! উপমার বিয়ে ঠিক হওয়ার জন্য। আমার সঙ্গে ছেলের বাবা আর দুলা ভাই আসতেছে এ বলে উপমার- খালাতো ভাই এম,আর নয়ন ফোনটা কেটে দিলো। তখন উপমার- বাবা উপমার – মা কে বলছে উপমার- খালাতো ভাই এম, আর নয়ন ফোন দিয়েছিলো ওরা আসতেছে এ কথা শুনার পর আনন্দ হাসি খুশিতে উপমার বাড়ি! উপমা- তার বিয়ে ঠিক হবে তার বাসায় লোক আসার কথা শুনে কালো মেঘে ঢেকে গেছে উপমার চাঁদ মাখা মুখ। তখন উপমা- কে তার মেজো চাচার ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না বলে উপমা -ছোট বোন আমার তোমার আজ বিয়ে ঠিক হবে! আজ তুমি হাসি খুশিতে থাকার কথা মুখ গোমরা কেন তোমার উপমা? তখন উপমা -বলে তার মেজো চাচার ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না কে আমার এ বিয়েতে মত নেই! মেহেদী হাসান মুন্না বলে কেনো? তখন উপমা – বলে আমি কনক ভাইয়ার আপন খালাতো ভাই সোহান কে খুব বেশি ভালবাসি! তখন উপমার – মেজো চাচার ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না রেগে উঠে বলে এটা হতে পারেনা! আর কোনো দিন সম্ভব না! তোমাকে আমাদের সবার পছন্দের ছেলে কে বিয়ে করতে হবে!এ কথা বলে উপমার মেজো চাচার ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না চলে গেলো। উপমার – বাসায় উপমার খালাতো ভাই এম,আর নয়নের সঙ্গে উপমার বিয়ের লোকজন আসলো বাসায় খানাপিনা শেষে উপমার বিয়ে ঠিক হলো ১৩ই এপ্রিল রোজ রবিবার। উপমার বিয়ে ঠিক হলো এর পর উপমার- খালাতো ভাই এম,আর নয়নের সঙ্গে বিয়ের লোকজন বাসা থেকে চলে গেলো। এদিকে সোহানের – বন্ধুর মতো চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক সোহানের মনের অবস্থা খুবেই খারাপ! সোহানের- মা শান্তনা বেগমের কাছ থেকে ফোন কলে শুনার পর ঢাকা থেকে বাসায় চলে এসেছে। এসে সোহান কে তার বাড়িতে গিয়ে অনেক বোজাচ্ছে আর বলছে শক্ত হও সোহান সব ঠিক হয়ে যাবে ;উপমার চেয়ে ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে দিবো তোমাকে ! তখন সোহান- কাঁদছে আর বলছে আমি উপমাকে ছাড়া আর কাউকে চাইনা আর কাঁদছে আর বলছে সোহানের-চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক কে! চাচা একবার উপমার সাথে দেখা করিয়ে দাও বলছে আর কাঁদছে! আর বলছে উপমাকে আমি কতদিন থেকে দেখিনা এ কথা বলে সোহান রুমে খাটে লুটিয়ে পরলো। এদিকে উপমার বিয়ের ঠিক হয়ে গেছে উপমার বাবা – উপমার ফোন কেড়ে নিয়ে রেখে দিছে অনেক আগেই তাই উপমা সোহানের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না। নিরুপায় হয়ে বসে শুধু কাঁদছে আর সোহান কে ভাবছে মনে প্রানে। তখন উপমা- রাতে সোহান কে চিঠি লিখতে শুরু করলো উপমা সোহান কে নিয়ে চিঠি লিখছে আর উপমার চোখ বয়ে পানি ঝরছে! কাঁদছে আর চিঠি লিখছে সোহান কে নিয়ে। উপমা চিঠি লিখা শেষে উপমার- চিঠি সোহান কে দেওয়ার জন্য দিলো তার বাড়ির কাজের লোক শিমুল চাচাকে! ১ দিন পর… উপমার বাড়ির কাজের লোক শিমুল চাচা সেহান – কে দিয়ে আসলো উপমার সোহান কে দেওয়া চিঠি। সোহান চিঠি হাতে পেয়ে পড়তে লাগলো চিঠিতে লিখা প্রিয় ভালবাসা আমার সোহান আমি অনেক চেষ্টা করেছি তোমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু পারিনি সেদিন তোমার কাছ থেকে চলে আসার পর থেকে আমার বাবা ফোন কেড়ে নিয়ে রেখে দিছে! তোমার জন্য আমি অনেক কাঁদছি তবুও পারিনি তোমার সাথে যোগাযোগ করতে!আমার বাবা-মা ভাই আমার বিয়ে ঠিক করেছে কিছু করার নেই আর আমার সোহান! আমার বিয়ে ১৩ ই এপ্রিল রোজ রবিবার ঠিক হয়েছে ” প্লিজ আমাকে দোষ দিওনা সোহান। তবুও আমার মন থেকে তোমাকে সোহান সরাতে পারবেনা আর পারবেনা পৃথিবীর কেউ।
তোমার মায়া আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে! একেবারে আমাকে তোমার দেওয়া মন আড়ষ্ট করে রেখেছে । এই মায়াজাল ছিন্ন করার উপায় কারো নেই। আমি রাতের আঁধারে মনের চাহনিতে শুধু তোমায় দেখি। আমি কাউকে বলতে পারিনা তুমি আমার নও! আজো তুমি আছো আমার হৃদয়ে। আমার সব টুকু ভালবাসা শুধু তোমার জন্য সোহান”

তোমাকে আমার জীবন সাথী বানাতে পারলাম না আমার জীবনে! কিন্তু তুমি আমার মনের সারথি হয়ে থাকবে আজীবন। আমি কখনও চাইনি সোহান এই অপঘাতে আমার জীবন থেকে দুরে যাবে তুমি। আজ আমি সত্যি এক অমানুষ হৃদয় হিনা তোমাকে আপন করে নিতে পারলাম না! আমি ভাবিনি এমনটা আমার জীবনে হয়ে যাবে! পৃথিবীতে আমার বাবা, মা, ভাই ছাড়া আর কেউ নেই তাদের যে কষ্ট দেওয়া সাদ্ধ আমার নেই। তাই তাদের কথায় বিয়েতে রাজি হয়েছি আমি। নিঃসঙ্গ এক বেদনার্ত কষ্টের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে সোহান তোমাকে আমি আজো বুকে রেখেছি ! কুল খুঁজে পাইনা আমি! তোমার ভালবাসা আমার মনে শ্বাস হয়ে আছে। আমার বিয়েতে তুমি কোনো প্রকার পাগলামি করিওনা প্লিজ সোহান! যানি তুমি কত ভালবাসো আমাকে! বুজেছি আমি ভালবেসে তোমাকে। আমি যানি তুমি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না!আর তোমার সামনে আমার দাঁড়ানোর কোনো মুখ ও নেই । তবে সোহান – তুমি মন থেকে আমার সহজেই সরে যেতে পারবে না আমি কোন দিন পারবো না!
সোহান- আমি আয়নার সামনে দাঁড়ালে মনে হয় আমার কাছে তোমাকে দেখতে পাই।নিজে ফুফিয়ে, ফুফিয়ে কাঁদি আর হাফিয়ে উঠি মন থেকে সরাতে পারিনা তোমাকে ;আমি প্লিজ আমি আবারো বলছি তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো সোহান ! তুমি ভালো থেকো যেখানেই থেকো আমার মনে থাকবে স্বয়নে স্বপ্নে তুমি সোহান !
ইতি……………..তোমার উপমা। চিঠি পড়ে সোহান কাঁদতে লাগলো আর বলতে লাগলো আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারবোনা! তুমি আমার তুমি অন্য কারোনা! কাঁদছে আর সোহান -বলছে উপমা- আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবোনা। ২৫ দিন পর…….উপমার- বিয়ের আর ২ দিন বাকি! ২দ

# গল্পঃ আমার মনে তোমার বিচরণ। পর্ব ঃ শেষ পর্ব

সোহান- উপমার বাড়ির সামনে যখন সোহানের নিথর দেহ পড়ে থাকে, তখন সোহানের কাছে কেউ আসেনি শুধু সোহান পড়ে থাকে মাটিতে রক্ত মাখা শরীরে। ওদিকে সোহান যখন উপমার বাড়ির দিকে উপমাকে দেখার জন্য ছুটতে থাকে তখন সোহানের পিছে পিছে আসতে থাকে সোহানের চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক ” এসে দেখে সোহান পড়ে আছে উপমার বাড়ির সামনে রক্ত মাখা “শরীরে ‘সোহান কাতরাচ্ছে! সোহানের- চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক তখন সোহান – কে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে!আর বলে সোহান একি অবস্থা করেছে তোমার হে আল্লাহ বড় লোকেরা কেনো এতো নিষ্ঠুর হয়! বলছে আর কাঁদছে। সোহানের- চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক”এর পর সোহানের- চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক সোহান কে রক্ত মাখা শরীরে নিজে কাঁধে করে নিয়ে এম্বুলেন্স এ উঠালো! সোহান- কে এম্বুলেন্স করে নিয়ে চলে গেলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সোহানের শরীরে করুন অবস্থা দেখে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার সোহরাব মন্ডল তাড়াতাড়ি সার্জারী জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলো!এদিকে উপমার- বাড়িতে উপমার বিয়ের আর ১ দিন বাকি! সব আয়োজন সম্পুর্ণ উপমার বিয়ের জন্য উপমার বাড়িতে আত্বিয় স্বজন দিয়ে ভরে গেছে। নাচ গানে মুখরিত হয়ে গেছে উপমার বাড়ি চারিদিকে নানান রঙের আলোর ঝলকানিতে। উপমার মেজো চাচার ছোট দুই মেয়ে স্নেহা ও সাদিকা ও সোজো চাচার মেয়ে ঝুমা ও হিন্দি গানের তালে তালে নৃত্য করছে। উপমার বিয়ে কাল হবে তাই ! আর উপমার বাড়ির সকলেই তা বসে বসে উপভোগ করছে হাত তালি দিচ্ছে আর আনন্দ করছে। ও দিকে সোহান হাসপাতালে! মাথায় সোহানের বেন্ডেজ! জ্ঞ্যান ফিরেছে সোহানের। জ্ঞ্যান ফিরে সোহান- বলছে সোহানের চাচা – আনোয়ার ইসলাম মানিক কে চাচা উপমা আমাক দেখতে আসেনি? সোহানের – চাচা আনোয়ার ইসলাম মানিক বলছে না বাবা সোহান। তখন সোহান আসায় থাকে উপমার জন্য উপমা আমাকে দেখতে আসবে ভাবে সোহান মনে মনে ! কিন্তু উপমা সোহান কে দেখতে আর আসেনা! আজ ১৩ ই এপ্রিল উপমার বিয়ে উপমার- মনে তখনো শুধু সোহান! উপমা কাঁদছে আর বলছে আমাক ক্ষমা করে দিয়ো সোহান! আমি তোমার হতে পারলাম না! তুমি তবুও থাকবে আমার মনে যতদিন বেঁচে থাকবো জীবনে! কখনো ভুলতে পারবোনা তোমায়। উপমার বিয়ে হয়ে গেলো! এদিকে সোহানের বুকে কাপোনি শুরু হয়ে গেছে ছট পট করছে কাপতেই হবে যে মন আজ যে উপমার বিয়ে; সোহান উপমাকে-যে পাগলের মতো ভালবাসে ! উপমার বিয়ে হয়ে চলে গেলো স্বামীর বাড়ি! আর এ দিকে খুশির সংবাদ এলো সোহানের বাড়িতে সোহানের সরকারি চাকুরির অ্যপয়নমেন্ট লেটার পিয়ন দিয়ে গেছে! সোহান এর বাবা কে। সোহান সরকারি চাকুরি পেলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার। উপমার – বিয়ে হয়ে চলে গেলো সোহানের কাছ থেকে অনেক দুরে! সোহান উপমাকে হারিয়ে পেয়ে গেলো সরকারি নতুন চাকুরি কিন্তু পেলনা তার ভালবাসা উপমাকে! আর পেলোনা কোনো দিন উপমার দেখা! এভাবে হাজারো বাংলায় সোহানের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান পায় না তার ভালবাসার মানুষ কে আপন করে নিতে। হাজারো উপমার মতো বড় লোকের মেয়েকে! সরকারি একটা চাকুরি নেই বলে ! এর পর সোহান ফিরে এলো বাবার সংসারে নতুন জীবনে। হয়ে গেলো কর্মময় ব্যস্ত মানুষ। তবুও উপমা সোহানের মন থেকে সরে গেলোনা ” থেকে গেলো গহিন শিরা উপশিরায় রয়ে গেলো উপমা চিরদিন। এভাবেই উপমা সোহানের মনে বিচরণ করলো আজীবন।
সমাপ্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *