মোঃ গিয়াস উ‌দ্দিন রু‌বেল (নোয়াখালী প্রতি‌নি‌ধি):
নোয়াখালীর কোম্পানীগ‌ঞ্জের বসুরহাট পৌরমেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে‌নি। জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে সবুজ সং‌কেত দেয়া হয়েছে। তাই আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম আওয়ামী লীগেই থাকব। আওয়ামী লীগ আমার প্রাণের সংগঠন। তবে আমি দলের কোন পদ-পদবিতে থাকব না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হিসেবেই থাকব।

রোববার (১৬ মে) বিকেল ৪টার দিকে বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে নিজের অনুসারী আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী ও মি‌ষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে তি‌নি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুন:গঠন করেন। তি‌নি ব‌লেন অন্য যারা আমাদের সঙ্গে আসতে চান, আমরা তাদের স্বাগত জানাবো।

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব যেটা বলবেন, সেটাই হবে। এটা ওনার সংসার, তিনি যাদের ঘোষণা দেবেন, তারাই আওয়ামী লীগের নেতা হবেন। আমরা ইস্কান্দার হায়দার বাবুল ও মো. ইউনুসের নেতৃত্বে আছি। আশা করি, ওবায়দুল কাদের আমাদের নিরাশ করবেন না।

তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নিজেদের দোষের কারণে কেউ বাদ পড়লে তাতে আমরা দায়ী না। অামরা সুপা‌রিশ পাঠা‌তে পা‌রি। কারণ মনোনয়ন দেবেন ওবায়দুল কাদের ও শেখ হাসিনা, তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

কাদের মির্জা অা‌রো ব‌লেন, আপনাদের সাক্ষী রেখে বলতে চাই আমি কোনো আপরাজনীতি বিশ্বাস করি না। আমার আন্দোলন কোনো নোয়াখালী, ফেনী, কোম্পানীগঞ্জের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়, আমার আন্দোলন হচ্ছে একটি পরিবর্তনের পক্ষে আন্দোলন।

কাদের মির্জা আরও বলেন, রক্তের বদলে রক্ত নেইনি, নেবও না। কোনো মায়ের বুক খালি করে আমি আমার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই না। আমি চাই শান্তি, আমি চাই ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ, আমি চাই ঐক্যবদ্ধ সহযোগী সংগঠন।

বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপ‌স্থিত ছি‌লেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস, সাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজিজুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটন, চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন কামরুল, রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা ও মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আইয়ুব আলি, বসুরহাট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন নিজাম, সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা শহীদুল্লাহ মিয়া, বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামিদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা স্বপন মাহমুদ ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফুর রহমান আরিফ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সজল সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, আবদুল কাদের মির্জার এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্য মোতায়েন করা হয়। কারণ একই সময় আবদুল কাদের মির্জার বিরোধী অংশের উপজেলা আওয়ামী লীগও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের ডাক দেয়। পরে প্রশাসনের অনুরোধে তারা সেই কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকেন।

আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। গত ডিসেম্বরে ওই পৌরসভায় দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে আলোচনায় আসেন আবদুল কাদের মির্জা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *