আব্দুস সামাদ বাচ্চু,আশাশুনি প্রতিনিধিঃ
আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে সদর ইউনিয়নের দয়ার ঘাটের রিং বাঁধ ভেঙ্গে লবণ পানি ভেতরে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। আশাশুনি সদরে নতুন করে আরও এক গ্রামসহ মোট পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার দুপুরের খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারে পানি মঙ্গলবারের তুলনায় আরো কমপক্ষে একফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় আশাশুনি টু দয়ারঘাট মেইন সড়কে রিং বাঁধের পূর্বের ভাঙ্গনকৃত ৫ টি পয়েন্ট ছাড়া নতুন করে আরও কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙ্গলে জোয়ারের প্রবল স্রোতে পানি ভিতরে প্রবেশ করছে। জোয়ারের সময় পানি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক সেইভাবে ভাটার সময় পানি কমছে না। ফলে প্রতি জোয়ারে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মৎস্য চাষের প্রায় শতাধিক ঘের, অসংখ্য সাদা মাছ চাষের পুকুর, বসতবাড়ী, গবাদি পশুসহ গাছপালার। উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন, থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম কবির, ওসি (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান স,ম সেলিম রেজা মিলন, পাউবো’র কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষনিকভাবে রিং বাঁধ সংস্কারে লোক লাগিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কিন্তু সরকারিভাবে তেমন কোন বরাদ্ধ না থাকায় শ্রমিকরা কাজ করতে গড়িমশি করছে। এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিংড়ি পোনা হ্যাচারি, একটি মসজিদ, ৪টি মন্দির, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নতুন করে অসংখ্য বসতবাড়ী ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায়। অনেক পরিবার রাস্তায় অবস্থান করছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্লাবিত এলাকার বানভাসি পরিবারের মধ্যে সরকারি ও এনজিও’র পক্ষ থেকে কোন শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়নি। স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রিং বাঁধ বাঁধা না হলে উপজেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর ইউনিয়ন, শ্রীউলা, শোভনালী ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের আংশিক প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, আশাশুনি সদর রক্ষা বাঁধ না থাকায় মরিচ্চাপ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সড়ক,থানার পুকুর প্রবেশ করে এবং বাজারের ভেতর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভেতর দিয়ে ও দোকানের ফাক ফোকড় দিয়ে লবন পানি ভেতরে ঢুকে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূক্তভোগী প্লাবিত এলাকাবাসি দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মানে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য সম্প্রতি ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার বরাদ্দ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত গোণ থেকে যদি মুল বাঁধের কাজ করতেন তাহলে আবারও রিং বাঁধ চাপ না পড়লে ভাঙ্গতো না বলে সচেতন মহলের দাবী। তারা বাঁধের কাজ করার সকল মালামাল নিয়ে ঘটনা স্থলে পৌছেও কাজে গড়িমসি করছেন। এরই মধ্যে দয়ারঘাট ও আশাশুনি গ্রামের পিচের রাস্তার উপর দিয়ে রিং বাঁধের ভাঙ্গনকৃত অসংখ্য পয়েন্ট ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে। মনিন্দ্র সানার বাড়ীর পাশে ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। পাউবো’র এসও জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করবে মুল বাঁধে। তার আগে আমাদের রিং বাঁধটি সংরক্ষন করা জরুরী। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষের একটাই দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *