আব্দুস সামাদ বাচ্চু,আশাশুনি প্রতিনিধিঃ আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে পল্লীমা প্রি-ক্যাডট স্কুল বলাডাঙ্গা প্রতিষ্ঠার পর নাম ও ধরণ পরিবর্তন করে, প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, শিক্ষকদের বঞ্চিত করে অর্থের বিনিময়ে নতুন শিক্ষক নিয়ােগের পায়তারার অভিযােগ পাওয়া গেছে। প্রিক্যাডট স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেবেকা খাতুন ও সহকারী শিক্ষক মুরশিদুল আলম জানান, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে বলাডাঙ্গা গ্রামে পল্লীমা প্রিক্যাডট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন আঃ কাদের গাজী। স্কুল প্রতিষ্ঠার পরে তারাসহ আফরােজা খাতুন, সালমা আক্তার, রেক্সোনা আক্তার ও রাজিয়া খাতুন শিক্ষক হিসাবে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন।স্কুল ঘর ও অফিস ঘর নির্মানে প্রধান শিক্ষকের নিজের অর্থে দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় করে প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠু পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে করােনা মহামারীর কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে তারাও ক্লাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। কিন্তু স্কুল প্রতিষ্ঠাতা আঃ কাদের প্রিক্যাডেট স্কুলকে বাদ দিয়ে গত ফেব্রুয়ারি’২১ মাস “শপখ লুৎফর রহমান বসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” নাম দিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যােগ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা আঃ কাদের প্রধান শিক্ষক রেবেকা, সহকারী শিক্ষক মুরশিদুল আলমদের বাদ দিয়ে টাকা/জমির বিনিময়ে নিজের চাচাত ভাই আঃ মান্নানের স্ত্রীকে প্রধান শিক্ষক, অজয় কুমার, নাজমুনাহার, রেক্সোনা আক্তারকে নতুন শিক্ষক ও আল আমিনকে দপ্তরী নিয়ােগ দিয়েছেন। যারা শ্রম ও অর্থ দিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাদেরকে বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে নতুন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ােগের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালুর কার্যক্রমে বঞ্চিতরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় করার কথা বলে আমাদের কাছে ৫ লক্ষ করে টাকা বা জমির প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং সাতক্ষীরা পিটিআই স্কুলের কাছে এক বাড়িতে নিয়ে নতুন নতুন ব্যাকডেটেড কাগজ স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অন্যদের থেকে টাকা ও জমি নিয়ে আমাদের পরিবর্তে তাদেরকে নিয়ােগ দেখানাে হয়েছে বলে তারা অভিযােগ করেন। নতুন শিক্ষক নিয়ােগ ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নাম জালজালিয়াতি ও অনিয়মের প্রতিকার ও তাদেরকে স্বপদে বহাল রেখে স্কুল চালু অব্যহত রাখতে তারা জাের দাবি জানিয়েছেন। এব্যাপারে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আঃ কাদের গাজী জানান, প্রিক্যাডেট স্কুল ব্যক্তি মালিকানায় হয়ে থাকে। সরকারের মহান উদ্যােগের সাথে সমম্বয় করে স্কুলে শূণ্য গ্রামে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যােগ নেওয়া হয়েছে। অভিযােগকারীদের শিক্ষাগত যােগ্যতা, বয়সসহ নানা জটিলতার কারণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। ম্যাডাম প্রতিষ্ঠান তৈরির সময় যে টাকা ব্যয় করেন, তার অধিকাংশ শােধ করে দেওয়া হয়েছে। সামান্য পাওনা আছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *