আব্দুস সামাদ বাচ্চু,আশাশুনি প্রতিনিধিঃ আশাশুনি সদর ইউনিয়নের দয়ারঘাট বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা প্রকাশ্য না আসলেও ভিতরে ভিতরে চরম বিপর্যস্ততায় অসহায় পরিবারগুলােকে কুরে কুরে খাচ্ছে। যাতায়াতের প্রধান সড়ক ও ভেতরের রাস্তা গুলো ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘ একটি বছর তাদের জীবন থেকে চলে গেলেও কষ্টকর সাম্প্রতিক অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তাদেরকে অন্ধকারাচ্ছন্নতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সদর ইউনিয়নের মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যােগে আষ্টেপিষ্টে আকড়ে ধরে আছে। একের পর এক প্রাকতিক দুর্যােগ, জলােছ্বাস, সাইক্লােন পাউবাে’র বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে এলাকাকে তছনছ করে দিয়েছে। অসংখ্য মানুষের ভিটে বাড়ি, চাষের জমি ও মৎস্য ঘের নদী গর্ভে বিলীন করে দিয়েছে।শত শত বিঘা জমি নদীর কাছে নতি স্বীকার করে ছেড়ে দিয়ে ভূমিহীন, সম্বল হারা কিংবা চাষের জমি হারা হয়ে অনেকে ভবিষ্যৎকে সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছেন। এমনি পরিনতির মধ্য থাকা মানুষ যখন নিজদরকে গুছিয়ে নিতে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিল। তখন গত বছর ২০২০ সালের ২০ মে ভয়ঙ্কর সাইক্লোন আম্ফানে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাসেও ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ নির্মান করা সম্ভব হয়নি। রিং বাঁধ নির্মান করে অনেককে ভাঙ্গনের মধ্য রেখে দিয়ে বৃহত্তর জনগাষ্ঠিকে রক্ষা করা হয়। কিন্তু গত ৩০ মার্চ আবারও প্লাবনের শিকার হয় গােটা এলাকা। দীর্ঘ ৯ মাসে অনেকে ঘরবাড়ি গুছিয়ে নিয়ে নতুন করে চাষাবাদ, মৎস্য চাষে সর্বস্ব বিনিয়ােগ এবং ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়ােগ করেন। কি বিধি বাম, তাদের সবকিছু আবারও নদীর জলে ভেসে গেল। ঘরবাড়ি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি সদর ইউনিয়নের ৩৬০ হেক্টর জমির ৩১৫টি মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। ফলে ইউনিয়নের মানুষের গায়ে সাদা কাপড়, গতানুগতিক চাল চলন দেখা গেলেও ভিতরে ঋণ ঋণে জর্জরিত হয়ে অধিকাংশ মানুষ প্রায় দেউলিয়া হয়ে উঠেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান স,ম সেলিম রেজা মিলন জানান, গত ২৯ মার্চ যখন দেখলাম বাঁধের অবস্থা শােচনীয় তখন রাতে নিজস্ব অর্থে রিং বাঁধ রক্ষায় কাজ করাই। পরদিন সকালে পুনরায় কাজ করাই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। দুপুরে রিং বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা একাকার হয়ে যায়। জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে ৩১ মার্চ ২৭৬ শ্রমিক কাজে লাগিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করি। প্রত্যেককে ৭কেজি করে চাউল দেওয়ার ঘােষণা দেই। ১ এপ্রিল ৩০০ টাকা মজুরির দিয়ে ৩৮৭ জন শ্রমিক কাজে লাগিয়ে বাঁধ রক্ষায় সফল হই। রিং বাঁধ রক্ষাণাবেক্ষণে রাতে ৫০ জন শ্রমিকে কাজে রেখে দেই। পরদিন আরও ১৭৫ শ্রমিক ৩০০ টাকা মজুরির বিনিময়ে কাজ করাই। আল্লাহর রহমতে বাঁধ টিকে যায়। এরপর পাউবাে’র মূল বাঁধে ঠিকাদার ক্লােজারের কাজ শুরু করে। মঙ্গলবার ক্লােজার চাপান সম্পন্ন হয়। বাঁধের কাজ এগিয়ে চলেছে। বাঁধ রক্ষা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা নিয়ে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়েছি। ইতিমধ্যে প্লাবনের শিকার ৩৫০ পরিবারকে ৭ কজি করে চাউল দেওয়া হয়েছে। সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হয়েছে বর্তমানে দুটি স্পট থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু আম্পানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার চেষ্ঠায় আঘাত করে পুনরায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়া মানুষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনাে কান কার্যক্রম দেখা যায়নি। তাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করা, আর্থিক সহযােগিতা করার প্রয়ােজনীয় অনস্বীকার্য।চিংড়ি মাছের ঘেরে ৩ কিস্তিতে মাছ ছাড়া হয়েছিল। এখন মাছ ধর বিক্রয় করার সময় এসছিল, কিন্তু আম্ফানের ন্যায় এবারও সমুলে ধ্বংস হয়েছে। না আছে আয়ের সুযােগ, না আছে বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ, না আছে স্যানিটশনের সুব্যবস্হা আছে শুধু ঋণের টাকা কিন্তু পরিষদের উপায় নেই। আমি এসব দুরাবস্তার কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছি। পানির প্রবল স্রোতে বাইপাস থেকে দয়ারঘাট পর্যন্ত সড়কের ছয়টি জায়গায় ভেঙে গেছে ও ভিতরে সকল রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ায় মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে। এগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য তিনি জেলা প্রশাসক,উপজেলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি এই এলাকাকে রক্ষার জন্য টেকসই বেড়ী বাঁধ নির্মানর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানাের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা- এনজিও গুলােকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *