নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোর ইজিবাইক চালক সালাউদ্দিনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত তার বন্ধু সোহাগ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ জিয়ারুল ইসলাম তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।
স্বীকারোক্তি প্রদানকারি আসামী সোহাগ হোসেন (১৪) সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরের শহীদুল ইসলামের ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক আহম্মদ আলী জানান, গত শনিবার বিকেল তিনটায় সাতক্ষীরা সদরের কাশেমপুর মালীপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ইজিবাইক চালক কিশোর সালাউদ্দিনের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় শহরের পলাশপোলের সরকারি গোরস্থানের পাশ থেকে রসুলপুর গ্রামের সোহাগ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাহান সরদার বাদি হয়ে শনিবার রাতেই সোহাগ হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সোমবার দুপুর একটার দিকে তাকে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক শেখ মফিজুল রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ জিয়ারুল ইসলাম ১৬৪ ধারা মোতাবেক তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মাদক কেনার জন্য দেওয়া ২০০ টাকা ফেরৎ না পাওয়ায় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শনিবার ভোরে সালাউদ্দিনকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে বলে কিশোর সোহাগ হোসেন জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে। এদিকে, আসামী সাগর কিশোর হওয়ায় তাকে যশোরের পুলেরহাট সরকারি শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত: গত শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা শহরতলীর কাশেমপুর মালিপাড়ার নিজ বসতঘরের মেঝেতে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকা ইজিবাইক চালক কিশোর সালাউদ্দিনের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন সন্ধ্যায় হত্যাকারি সোহাগকে গ্রেপ্তার করলেও করোনা পরিস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাকে রোববার সকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *