জসিম উদ্দিন জনি
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

এক সময়ের খরস্রোতা আত্রাই নদী এখন ক্রিকেট খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। চৈত্রের তাপদাহে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় আত্রাই নদী সুখিয়ে এখন খেলার মাঠ, ফসলের মাঠ ও বিনোদনস্পটে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের উত্তরপ্রান্ত জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে শুরু করে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর হয়ে নদীটি আবারও ভারতের মধ্যে প্রবেশ করে। ভারতের পশ্চিম বঙ্গ থেকে এ নদী নওগাঁর মহাদেবপুর, পত্নীতলা, মান্দা, আত্রাই, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর বেড়া হয়ে নদীটি যমুনা নদীর সাথে একিভূত হয়েছে। ঐতিহাসিক দিক থেকে এ নদীর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এক সময় এ নদী ছিল খরস্রোতা নদী। সবসময় এ নদীতে থাকতো পানির উত্তাল তরঙ্গমালা। কি চৈত্র কি আষাঢ় বর্ষা ও শুস্ক উভয় মৌসুমেই ছিলনা পানির অভাব। সে সময় এ নদী দিয়ে বয়ে যেত লঞ্চ, ষ্টীমার ও বড় বড় বাদাম তোলা নৌকাসহ বিভিন্ন প্রকার জলযান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মালামাল পরিবহনের একমাত্র রুট হিসেবে ব্যবহৃত হত এই নদী। তাই প্রতিনিয়ত দেখা যেত নদী দিয়ে বয়ে চলেছে বিশাল আকৃতির সব বাদামতোলা নৌকার বহর। এ ছাড়াও এলাকার হাজার হাজার কৃষক কৃষি পন্য উৎপাদনে ব্যবহার করতো নদীর পানি। নদীর পানি সেচ কার্যে ব্যবহার করে একদিকে সাশ্রয় অপরদিকে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু কালের বিবর্তে সেই খরস্রোতা নদী এখন সুখিয়ে খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। ফলে আর দেখা মেলেনা সেই বাদামতোলা নৌকার বহর, লঞ্চ, স্টীমারসহ কোন জলযানের। এখন চৈত্র মাস না আসতেই সুখিয়ে যায় নদীর পানি। এ জন্য এখন কোথাও খেলার মাঠ, কোথাও ফসলের মাঠ আবার কোথাও বিনোদনস্পটে পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক আত্রাই নদী।
এদিকে নদী সুখিয়ে যাওয়ায় যেমন মিলে না জলযানের দেখা তেমনি সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে নদীপথের ব্যবসায়ীরা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় যেমন নদীর পানি সুখিয়ে গেছে। তেমনি অগভীর নকলকূপগুলোতেও পানি উঠছে না। ফলে হাজার হাজার পরিবার পানি সমস্যায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। উপজেলার মধুগুড়নই গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, আমরা যুগ যুগ থেকে নদী পথে নৌকা নিয়ে মাটির তৈরী মালামালের ব্যবসা করে থাকি। মাটির তৈরী ডাবর, টাউলী, পাতিল কলসসহ বিভিন্ন প্রকার সামগ্রী নৌকা যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। বর্তমানে নদী সুখিয়ে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। এ জন্য আমরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। এ ছাড়াও নদী পানিশূন্য হয়ে যাওয়ায় বোরো সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার কৃষক। পাঁচুপুর গ্রামের মনসুর রহমান বলেন, নদীর পানি সেচে বোরোচাষ করলে আমাদের খরচ হয় বিঘাপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। অথচ নদী পানি শূন্য হওয়ায় মাঠের শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে খরচ হচ্ছে অনেক গুণ বেশি। এতে আমাদের সেচ খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে আর জমির উর্বরতাও কম হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *