১০ ম্যাচ পর জয়ের মুখ আহা! যেন চাতকের সামনে বৃষ্টির ফোঁটা।
জয় দরকার ছিল অনেক কারনেই।
বাংলাদেশ গত ম্যাচ জয়লাভও করেছিল বেশ সহজেই।

সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে বাংলাদেশ , মাঠে রোদ বৃষ্টির খেলা,পিচও খানিকটা সবুজ বল করার জন্য একদম পারফেক্ট ওয়েদার। এসব অবশ্য তামিম ভাবেন নি, হয়তো অাত্মবিশ্বাস ছিল অনেক বেশি।
যাইহোক টসে জিতে ব্যাট করতে নামে টিম বাংলাদেশ।

বোর্ড সভাপতির আপত্তি সত্ত্বেও ম্যাচের গোড়াপত্তন করতে আসেন তামিমের সাথে লিটন।

দিনের প্রথম বলে ব্যাট করতে নেমেই দর্শনীয় এক শটে নিজের ও দলের খাতা খুলেন তামিম,এরপর আরো দুটি চারে দলের রান প্রথম ওভার শেষে ১৫ রান স্কোর বোর্ডে।

বিপদের শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় ওভারে, দুশমান্থা চামিরা আসেন সবুজ উইকেটে বল করতে,গতির সাথে আবহাওয়া ও পিচের কল্যানে সিম -সুইং সবই পাচ্ছিলেন লংকান এই ফাস্ট বোলার। প্রথম বলে সাজঘরের পথে অধিনায়ক তামিম, ম এরপর ব্যাটে আসেন নিজেকে হারিয়ে খুজতে থাকা সাকিব আল হাসান; যথারীতি শুন্য রানে আউট হয়েছেন,আবারো ঘাতক চামিরা।

ক্রিজে তখন গত ম্যাচের নায়ক মুশফিক আর মিঠুনের পরিবর্তে দলে আসা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

অবস্থার কোন পরিবর্তন নেই ১২ বলে ১০ রান করে দলীয় চুয়াত্তর রান করে চতুর্থ উইকেট হিসাবে আউট হয়ে সাজঘরের পথে সৈকত।

মিস্টার ডিপেন্ডেবল জ্বি মুশফিক আজও আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন রিয়াদ কে সাথে নিয়ে ৮৭ রানের দারুন এক জুটি গড়েছেন আবারো। এরপর দলীয় ১৬১ রানে রিয়াদ বিদায় নিলে,উইকেটে ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়া শুরু হয় এক পর্যায়ে ১৬১ রানে চার উইকেট থাকলেও ১৮৪ রানে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে সাত উইকেট। এরপর সাইফ উদ্দিন কে সাথে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেন মুশফিক,২৩২ রানের মাথায় নিজস্ব ১১ রানের মাথায় সাইফ উদ্দিন রান আউট হলে এরপর বেশি দুর এগোতে পারেনি বাংলাদেশের ইনিংস।
২৪৬ রানে শেষ ব্যাটার হিসাবে আউট হবার আগে ১২৭ বলে ১২৫ রানের ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস খেলেন সাবেক হয়ে যাওয়া মুশফিকুর রহিম।

বাংলাদেশের পক্ষে মুশফিক ১২৫ এবং রিয়াদ ৪১ রান করেন।

বল হাতে লংকানদের হয়ে চমিরা ও সান্দাকান তিনটি করে, উদানা ২ টি ও হাসারাঙ্গা একটি উইকেট লাভ করেন।

ইঞ্জুরি ও কনকাশন সাবঃ বাংলাদেশের ইনিংসে ইসুরু উদানার বল খেলতে গিয়ে বল মাথায় লাগলে কনকাশন’এর কারনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে আর মাঠে নামেন নি সাইফ। তার বদলে সাব হিসাবে দলের সাথে যোগ দেন তাসকিন আহমেদ।

২৪৭ রানের মোটামুটি স্কোর কে তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশী বোলারদের দাপটে লন্ডভন্ড হয়ে যায় লংকান শিবির। ব্যাটার দের আসা যাওয়ার মিছিলে বলার মতো কোন রান করতে পারেনি কোন লংকান। ২০ ছাড়ানো ইনিংস থাকলেও ৩০ এর ঘরে যেতে পারেন নি কোন ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশের পক্ষে দারুন ফর্ম ধরে রাখে পেস ও স্পিন দুই বিভাগের বোলার’রা। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ ও মিরাজ তিনটি করে, সাকিব দুটি ও অভিষিক্ত শরিফুল একটি উইকেট লাভ করেন।

এরপর ১২৬-৯ স্কোর কার্ড থাকতে বৃষ্টি শুরু হয়,ওভার কমে আসে ১০ টি তবে এরপর আর বেশিক্ষন দাড়াতে পারেনি লংকান’রা মাত্র ১৪১ রানেই গুটিয়ে পড়ে লংকান’রা।

বাংলাদেশ ১০৩ রানের বিশাল ব্যাবধানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ।

পর পর দুই ম্যাচে রাজসিক খেলা উপহার দেওয়ার সুবাদে ম্যাচ সেরা হন মুশফিকুর রহিম।

এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম দ্বিপাক্ষীয় সিরিজ জয়লাভ করে।

সিরিজের শেষ ম্যাচে আগামি ২৮ তারিখে একই মাঠে মুখোমুখি হবে দুই দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *