মিরু হাসান বাপ্পী
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধি:

কিস্তির চাপে সকালে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন বাড়ি থেকে নিখোঁজ আর রাতে বাড়ি ফিরে স্বামী এনামুল হক প্রামানিক (৬৫) বিষপানে করেন আত্মহত্যা।

সোমবার (৩১ মে) মর্মতান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার পুশিন্দার সরদার পাড়ায়।

স্থানীয়রা একাত্তরকে জানায়, কঠোর লকডাউনে সাধরন মানুষ ঠিকভাবে খেতে পাচ্ছে না তার উপর এভাবে এনজিওগুলোর চাঁপে দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

স্থানীয় ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পুশিন্দা গ্রামের মৃত আব্দুল করিম প্রামানিকের ছেলে ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী এনামুল হক প্রামানিক ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে জাগরণী চক্র ফাইন্ডেশন, ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, দাবী মৌলিক উন্নয়ন সংস্থা, টিএমএসএস সহ ৭/৮ টি এনজিও থেকে প্রায় ৩/৪ লক্ষ টাকার ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন। লকডাউনের কারণে ব্যবসা করতে না পারায় কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়ে পড়েন তিনি। কিস্তির টাকা না পেয়ে এনজিওগুলো বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে তার উপর। এমনকি এনজিওগুলোর মাঠ-কর্মিরা এনামুলের বাড়ীতে দিন-রাত অবস্থান করে নানা কায়দায় অপদস্ত করতে শুরু করে তার পরিবারকে। এনজিও সদস্য ছালমা বেগম ও তার স্বামী এনামুল হক টাকা কিস্তির জোগাড় করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কোথাও টাকা জোগাড় করতে না পেরে স্ত্রী ছালমা তার ভাইয়ের বাড়ীতে অবস্থান নেয় এবং সারাদিন পর গভীর রাতে বাড়িতে ফিরে ভোর বেলায় বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অত্মহত্যা করেন এনামুল।

পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাণত্যাগ করেন তিনি। এনামুলের ছেলে শফিকুল ইসলাম একাত্তরকে জানায়, তার বাবা এনজিও কিস্তির চাপে আত্মহত্যা করেছেন।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সরতহাল করেন এবং কোন বাদী না থাকায় লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন।

এ বিষয়ে ব্র্যাক এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার লুৎফর রহমানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আছে গণমাধ্যমের সাথে কথা না বলার।

জাগরণী চক্র ফাইন্ডেশনের মাঠ কর্মি হাফিজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, গত ৩১ মে কিস্তি দেয়ার কথা ছিলো সেই মোতাবেক সোমবার (৩১ মে) সদস্য ছালমা বেগমের বাড়ীতে সকালে ও বিকেল গিয়েছিলাম তবে কারো দেখা দেখা মেলেনি। জাগরণী চক্র ফাইন্ডেশনের ম্যানেজার মকবুল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, চাপ দিয়ে কিস্তি আদায় করার কোন নির্দেশনা নেই, কোন সদস্য কিস্তির টাকা দিতে চাইলে আমরা কিস্তি নিচ্ছি।

এঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হলেও ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেয় আদমদীঘি থানা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *