তারিকুল ইসলাম বাবু দেবীদ্বার(পঞ্চগড়)প্রতিনিধি:

২০১৫ সালের আগে ছিটমহলবাসীরা বাস্তবে নিজদেশে পরবাসী। তাদের নাগরিকত্ব কার্যত নামমাত্র নাগরিকত্ব। নিজেদের মূল দেশের সাথে তাদের যোগাযোগ নেই। এ যেন ক্যাম্প-বন্দি জীবন। দেশের পরিচয়ে তারা বাংলাদেশের মানুষ, অথচ থাকতে হয় ভারতের ভেতর। আবার তারা ভারতের মানুষ, বসবাস বাংলাদেশের ভেতর। কিন্তু বাস্তবে এরা দেশহীন, নাগরিকত্বহীন।

বেশ ভিন্নরূপে হলেও এগুলো যেন হয়ে আছে বাংলার ফিলিস্তিন। কোন দেশেরই যেন এদের প্রতি কোন দায়দায়িত্ব নেই। বাস্তবে এরা যাপন করছিলো ‘ছিটের মানুষ’ পরিচয় নিয়ে। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থারগুলোরও কোন তৎপরতা সেখানে ছিলো না । শিক্ষা, চিকিৎসা, পানীয়জল, রাস্তাঘাট, যানবাহনের তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা সেখানে নেই বললেই হয় ; নেই ব্যাংক, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পাকা সড়ক, সেতু, হাটবাজার ইত্যাদি। ছিটমহলগুলোতে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই।

সেখানকার ৯০ শতাংশের বেশী মানুষ অক্ষর জ্ঞান শূন্য। অবহেলা, অবিশ্বাস আর হয়রানি তাদের নিত্যসঙ্গী। অবরুদ্ধ জীবন যাপনের কষ্ট, যাতায়াত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কষ্ট, নিরাপত্তা ও বিচ্ছিন্নতার কষ্ট — সব মিলে দীর্ঘশ্বাসে ভরা অনিশ্চিত তাদের জীবন।
যদিও ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ছিট মহলকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের ভুখন্ড হিসাবে নেওয়া হয়।দেবিগঞ্জ উপজেলার সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোঃ বাবু বলেন, ‘এই সরকারের আমলে আমরা আমাদের স্বীকৃতি ও পরিচিতি পেয়েছি। সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে। তবে আমরা চাই, ৬৮ বছর ধরে বঞ্চিত বিলুপ্ত ছিটমহলের শিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য চাকরিসহ সব ক্ষেত্রে ছিটমহল কোটা চালু করা হোক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *