রাজ উদ্দীন,, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধিঃ

নরসিংদীতে গ্যাস সংকটে চুলায় আগুন না জ্বলায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শহরের বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দারা। প্রতি বছর শীত মৌসুমের পর গ্রীষ্মকালে এ সংকট কেটে গেলেও এ বছর গ্রীষ্মকালেও তীব্র হয়েছে গ্যাস সংকট। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই দুর্ভোগ লাঘবে বারবার অভিযোগ করা হলেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। স্থানীয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংকট একটি জাতীয় সমস্যা জানিয়ে পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ এর চেয়ে নরসিংদীতে গ্যাসের চাপ বেশি বলে দাবি করছেন।
সরেজমিন শহরের বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর শীত মৌসুমে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নরসিংদী শহরের তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকরা। পরে গ্রীষ্মকালে গ্যাসের চাপ বাড়ার পর কেটে যায় এই গ্যাস সংকট। কিন্তু এ বছর শীতের মৌসুমে সংকটের পর গ্রীষ্মকালেও চাপ বাড়ছে না গ্যাসের। বিশেষ করে অতিমাত্রায় চাপ কমে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শহরের ভেলানগর, বিলাসদী, টাউয়াদী, দাসপাড়া, ব্রাহ্মন্দী, কাউরিয়াপাড়া, বানিয়াছল, পুরানপাড়া, নাগরিয়াকান্দিসহ বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দারা। অধিকাংশ মহল্লায় কখনও চুলা জ্বলে, কখনও জ্বলে না। বেশিরভাগ সময় নিভু নিভু করে চুলা জ্বলায় রান্না করা যাচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়ে অনেকে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ভোর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় সারাদিন চুলোয় আগুন জ্বলে না। ঠিকমতো গ্যাস না পাওয়ায় রান্নার কাজে বাড়তি খরচে সিলিন্ডার গ্যাস, লাকরীসহ বিকল্প জ্বালানী ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। লাকরির চুলায় রান্না করতে গিয়ে ধুয়ায় অনেকে চোখের সমস্যায় ভুগছেন। রমজান মাসে এই দুর্ভোগ বাড়ার আশংকায় গ্যাস সংকট সমাধানে কর্তৃপক্ষকে বারবার আবেদন জানিয়েও হচ্ছে না প্রতিকার।
নরসিংদী পৌর শহরের পূর্ব ভেলানগর মহল্লার বাসিন্দা নাদিম হোসেন খান বলেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমে গ্যাস লাইনে বরফ জমে যাওয়ায় গ্যাসের সংকট তীব্র হয়। পরে গ্রীষ্মকালে চাপ বেড়ে সমস্যা সমাধান হয়। কিন্তু এ বছর গ্রীষ্মকালেও গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে গৃহিনী ও গৃহকর্মীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
সদর উপজেলার টাউয়াদী এলাকার মাজহারুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সিলিন্ডার গ্যাস ও লাকরি কিনে রান্না করতে হচ্ছে। এতে তিতাস গ্যাসের বিলও দিতে হচ্ছে পাশাপাশি বাড়তি খরচ করে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এটা খুবই কষ্টকর।
পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী মহল্লার মনির হোসেন বলেন, গ্যাসের যে নিভু নিভু চাপ গ্রাহকরা পেয়ে থাকি এতে রান্নার কাজ দূরের কথা চা তৈরির পানিও গরম করা যায় না। সমস্যা প্রকট হওয়ায় বাড়ির ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে অন্য মহল্লায় চলে যাচ্ছেন।
ভেলানগর আজিজ বোর্ডিং এলাকার ভাবন দাস বলেন, গ্যাস না থাকায় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। সময়মতো রান্না না হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় সময় রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য আবেদন করা হলেও তিতাসের কোন পদক্ষেপ নেই।
যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লি: এর নরসিংদী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহা ব্যবস্থাপক অজিৎ কুমার দে বলেন, গ্যাস সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। লাইনে ময়লা জমে যাওয়ায় পাইপ পরিষ্কারের কাজের জন্য বাখরাবাদ সিদ্ধিরগঞ্জ লাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিতাস নেটওয়ার্কের সব জায়গায় চাপের সমস্যা দেখা দিয়েছে। কাজ শেষ হলে সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধান হয়ে যাবে। তবে পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ এর চেয়ে নরসিংদীতে গ্যাসের চাপ বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
নরসিংদীতে আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা ২৫ হাজার ও ৩৮০ টি শিল্প গ্যাস সংযোগ রয়েছে রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *