মোঃ আবু তৈয়ব. হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়া ৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে। চলবে ৩০ এপ্রিল রাত ১২টি পর্যন্ত। এ ছাড়া আগামী ২ মে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য শিরীণ আখতার।

সভা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারও ৪টি ইউনিট ও ২টি উপ–ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এবারও ৪৮টি বিভাগ ও ৫টি ইনস্টিটিউটে ৪ হাজার ৯২৬টি আসনের জন্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এর মধ্যে সাধারণ আসন ৪ হাজার ১৮৯টি ও কোটা ৭৩৭টি। ভর্তির আবেদনের জন্য ইউনিট ও উপ–ইউনিটপ্রতি একজন শিক্ষার্থীকে গুনতে হবে মোট ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া পরীক্ষা শুরু হবে ২২ জুন। তিন ধাপে এ পরীক্ষা শেষ হবে ৮ জুলাই।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এস এম সালামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, এবার আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে গত বছর আসনসংখ্যা যা ছিল, এ বছরও তা-ই আছে। আবেদন ফিও গতবারের মতো। তবে এবার ভর্তির যোগ্যতা জিপিএ শূন্য দশমিক ৫ বাড়ানো হয়েছে।

ভর্তির যোগ্যতা_
‘এ’ ইউনিটের অধীনে রয়েছে চারটি অনুষদ। এগুলো হলো বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ। চার অনুষদে মোট সাধারণ আসন ১ হাজার ২১৪টি। আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে (চতুর্থ বিষয়সহ) মোট জিপিএ ৮.০০।

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ সব গ্রুপের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। মানবিক বিভাগ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ ৭.৫০। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের নূন্যতম জিপিএ লাগবে ৮.০০। এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্যও লাগবে জিপিএ ৮.০০। এই ইউনিটে বিভাগ রয়েছে মোট ১৩টি। ‘বি’ ইউনিটে (নাট্যকলা, চারুকলা ও সংগীত বিভাগ ব্যতীত) মোট সাধারণ আসন ১ হাজার ২২১টি। সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বি-১ ইউনিটে আবেদন করতে হবে। এই উপ–ইউনিটে মোট সাধারণ আসন ১২৫টি।

অন্যদিকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে মোট সাধারণ আসন ৪৪২টি। এই ইউনিটে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে (চতুর্থ বিষয়সহ) মোট জিপিএ ৮.০০। এখানে বিভাগ রয়েছে ছয়টি।

সব গ্রুপের শিক্ষার্থীরাই ‘ডি’ ইউনিটে পরীক্ষা দিতে পারবেন। এখানে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের নয়টি বিভাগ, আইন অনুষদের অধীনে থাকা আইন বিভাগ, ব্যবসায় প্রশাসনের অনুষদের সব বিভাগ রয়েছে। এ ছাড়া আছে জীববিজ্ঞান অনুষদের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগ।

‘ডি’ ইউনিটে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে (চতুর্থ বিষয়সহ) মোট জিপিএ ৭.৫০ থাকতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষা অনুষদভুক্ত ডি-১ উপ–ইউনিটে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। আবেদনের যোগ্যতা একই।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. নাসিম হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কোন ইউনিটের পরীক্ষা কবে হবে, তা আবেদনপ্রক্রিয়া শেষে ঠিক করা হবে। কোন ইউনিটে কতজন শিক্ষার্থী আবেদন করছেন, সেটির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *