আব্দুল্লাহ আল মামুন(টুকু)
টাংগাইল (ভূয়াপুর)প্রতিনিধি:

রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও রেলওয়ে মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যের নিন্দায় স্যোশাল মিডিয়া সরগরম হয়ে ওঠেছে। সমালোচনার ঝড় ওঠেছে সর্বত্র।

আজ শুক্রবার চরমোনাইর ফাল্গুনের মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে ঢাকা তেজগাঁও রেলওয়ে মাদরাসার মুহতামিম বলেন, এ দেশের শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী রহ. প্রতিষ্ঠা করেছেন হেফাজতে ইসলাম। তার ইন্তেকালের পর এ দল শেষ হয়ে গিয়েছে। সেটা আর আগের মত জ্বলে ওঠবে না।

তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, আমাদের জীবনে দেখা বিগত পঞ্চাশ বছরে যেসব ইসলামি দল সৃষ্টি হয়েছে, আমরা দেখেছি এখানে আ ফ ম খালেদ হোসাইনের শ্বশুর যে দলের প্রধান ছিলেন, সে দলটিও কাফন দাফনের মত শেষ। তারপর আসলো হাফেজ্জি হুজুর রহ. এর খেলাফত আন্দোলন, সে দলও হুজুরের ইন্তেকালের পরই শেষ। তারপর দেখলাম এদেশের শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর প্রতিষ্ঠিত খেলাফত মজলিস। সে দলও শেষ। মুফতি আমিনি রহ.ও দেশের বিশাল এক ব্যক্তি ছিলেন, তিনি গঠন করেছিলেন ইসলামি ঐক্যজোট। তার মৃত্যুর পরপরই সে দলও শেষ। এরপর এ দেশের শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী রহ. প্রতিষ্ঠা করলেন হেফাজতে ইসলাম। তার ইন্তেকালের পর সেটাও শেষ। আগের মত আর এ দল জ্বলবে না। একমাত্র পীর সাহেবের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রাম গঞ্জ থেকে নিয়ে রাজধানী পর্যন্ত, তৃণমূল থেকে নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যন্ত সাজিয়েছেন সেটি হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ দলটিকে, এ গাছটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের ওলামায়ে কেরামকে এগিয়ে অাসতে হবে।

এদিকে তার বক্তব্যের পর হেফাজতে ইসলামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে মুফতি মুজিবুর রহমানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের অফিসিয়াল পেজে প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জীর এক প্রতিবাদ পোস্টে বলা হয়,
পীর সাহেব চরমোনাই ও নায়েবে আমীর দুজনই বললেন, হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক ইমানী আন্দোলন আর ইসলামী আন্দোলন হচ্ছে রাজনৈতিক সংগঠন। হেফাজতের সঙ্গে চরমোনাইর কোন বিরোধ নেই। আর মাওলানা মুজিবুর রহমান দাঁড়িয়ে বললেন কোন আন্দোলন নেই সব শেষ একমাত্র পীর সাহেব চরমোনাইর ইসলামী আন্দোলনই আছে।

আল্লামা আহমদ শফি রহ. এর মৃত্যুর পরে হেফাজতও শেষ। বাংলাদেশের অন্যতম বড় মাহফিলে দাঁড়িয়ে এমন নির্জলা মিথ্যাচার করে পুরো মাহফিলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যারা পীর সাহেব থেকে সবক গ্রহন করতে পারেনা তাদের বয়কট করা দরকার।

মাওলানা সাবের এমন নির্জলা মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
অন্য দিকে মজলুম একটি ফরজ জিহাদ নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মুহতারাম মহাসচিব কি বলতে চেয়েছেন তারও পরিস্কার ব্যাখ্যা আসা উচিৎ। দায়িত্বশীল পদে বসে দায়িত্বনিয়ে কথা বলা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। আমরা আশা করবো মোহতারাম মহাসচিব দ্রুত তার বক্তব্যের ওজাহাত করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *