মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জমে উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এবার ৪র্থ ধাপে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে আগামী ২৬ ডিসেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ নির্বাচন। এর মধ্যে ২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ৪ জন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ও ৩ জন সাধারণ সদস্য পদে (মেম্বার) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনকে উৎসবমুখর, অবাধ-নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় প্রশাসন বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের আর মাত্র তিনদিন বাকী। ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকেই পোস্টার-লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং এর মাধ্যমে সকল প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে সমগ্র নির্বাচনী এলাকা।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৫০ জন ভোটারের বিপরীতে নির্বাচনে ৫৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ১০৪ জন সংরক্ষিত মহিলা ও ৪৮০ জন সাধারণ সদস্যসহ মোট ৬৩৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক নৌকায় ১২ জন, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) ১১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রতীক হাতপাখায় ৬ জন, জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকে ১ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫ জন।

১০টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১টি ইউনিয়ন বাদে বাকী ৯টি ইউনিয়নে আ’লীগ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা (স্বতন্ত্র) নির্বাচন করছেন। দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আ’লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ভাবে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন। এসব ইউনিয়নে আ’লীগ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা থাকার কারণে নৌকার প্রার্থীরা খুব বেকায়দায় রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে আ’লীগ দলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে, এখন পর্যন্ত আ’লীগ দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী-স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সাথে মারামারি বা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১৮ প্রার্থীকে বিভিন্ন পরিমানে জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তমালিকা পাল।

সরেজমিন দেখা গেছে, কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রার্থীরা মোটরসাইকেল শোডাউন, গণসংযোগ, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিজ নিজ মার্কার সমর্থনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজেদেরকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দাবি করে ভোটারদের নিকট দোয়া ও ভোট চাচ্ছেন। অন্যদিকে ভোটাররা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে তাদের মূল্যবান ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। হাটবাজারের ঝিমিয়ে থাকা টং দোকানের চায়ের কাপের টুংটাং শব্দে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা উঠান বৈঠকে সিঙ্গাড়া-চমুছা, মিষ্টি-জিলাপী বিতরণে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। গ্রামগঞ্জের পাকা-আঁধাপাকা সড়ক গুলোতে বাংলা গানের মিশ্রণে মাইকের আওয়াজ আর পোস্টার-লিফলেট বিতরণে জমে উঠছে চৌদ্দগ্রামের ইউপি নির্বাচন।

১নং কাশিনগর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত আলহাজ্ব মোশারেফ হোসেন (নৌকা), বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) সহিদুল হক শাহিন (চশমা) সহ মোট ১২ জন। ২নং উজিরপুরে আ’লীগ মনোনীত প্রভাষক নায়িমুর রহমান মাছুম (নৌকা), বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) আলী আশ্বব (ঘোড়া) সহ মোট ৫ জন। ৩নং কালিকাপুরে আ’লীগ মনোনীত ভিপি মাহবুব হোসেন মজুমদার (নৌকা), বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) সালাহ্ উদ্দীন মজমুদার (আনারস) সহ মোট ৩ জন। ৫নং শুভপুরে আ’লীগ মনোনীত আলহাজ্ব খলিলুর রহমান মজুমদার (নৌকা), বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) এএসএম শাহিন মজুমদার (আনারস) সহ মোট ৩ জন। ৮নং মুন্সীরহাটে আ’লীগ মনোনীত মাহফুজ আলম (নৌকা), জাকের পার্টি মনোনীত শাহ আলম মোল্লা (গোলাপ ফুল), আ’লীগ দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) জসিম উদ্দীন মুহুরী (আনারস) সহ মোট ১২ জন। ৯নং কনকাপৈতে আ’লীগ মনোনীত জাফর ইকবাল (নৌকা), বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) কাজী ইকবাল (আনারস), আরেক বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) বেলাল হোসেন শান্ত (ঘোড়া) সহ মোট ৪ জন। ১০নং বাতিসায় আ’লীগ মনোনীত ফখরুল আলম ফরহাদ (নৌকা), স্বতন্ত্র ফারুক মজুমদার (আনারস) ও বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) বদরুজ্জামান (মোটরসাইকেল) সহ মোট ৩ জন। ১১নং চিওড়ায় আ’লীগ মনোনীত একরামুল হক (নৌকা), স্বতন্ত্র আবু তাহের (আনারস) সহ মোট ৫ জন। ১২নং গুনবতীতে আ’লীগ মনোনীত ছৈয়দ আহাম্মদ খোকন (নৌকা), বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) গোলাম মোস্তফা (আনারস), স্বতন্ত্র গোলাম মাওলা শিল্পী (চশমা) সহ মোট ৫ জন। ১৩নং জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত হাজী জানে আলম ভূঁইয়া (নৌকা), বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মাহবুবুল হক খান (আনারস) সহ মোট ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: ফারুক হোসেন জানান, আগামী ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০৪ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৮০ জনসহ মোট ৬৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন সহ স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

Leave a Reply