মুুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: লকডাউন শিথিলতা আর করোনা সংক্রমণের ভয় নিয়েই শুরু হয়েছে কুরবানীর পশুর হাট। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে সরকার নির্দেশিত বিভিন্ন হাটবাজার গুলোতে জমে উঠেছে কুরবানীর পশুর হাট। পশুর হাটে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পড়ার ব্যাপারে স্থানীয় প্রসাশন থেকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রসাশন ও থানা পুলিশ বেশ সজাগ রয়েছে।

উপজেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, চিওড়া কাজীর বাজার, বাতিসার একতা বাজার, মুন্সীরহাটের দেড়কোটা বাজার সহ কয়েকটি বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এবার বড় গরুর পাশাপাশি ছোট গুরুগুলো ছিলো দেখার মত। সে হিসেবে বড় গরুর দামটাও একটু চড়া। দফায় দফায় লক ডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে গরু ছাগল খামারীরা এক সপ্তাহ আগেও বেশ শঙ্কায় ছিলেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে এরই মধ্যে সারাদেশের ন্যায় চৌদ্দগ্রামের পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। গেল বছরও করোনার কারণে নানা সীমাবদ্ধতায় ব্যবসা করতে পারেনি খামারীরা। এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন শিথিলতা দেয়ায় খামারীদের মাঝে স্বস্তিভাব লক্ষ্য করা গেছে। এবার প্রতিটি পশুর হাটে বিপুল পরিমাণ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। এছাড়া হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং বেচাকেনা করতে দেখা গেছে বেশিরভাগ ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর গো-খাদ্যের দাম বেশি থাকায় পশু মোটাতাজা করণে অধিক খরচ হলেও গত বছরের চেয়ে কম দাম চাওয়া হচ্ছে পশুর। এরপরও ক্রেতারা দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। বলা চলে চাহিদার তুলনায় বিক্রি কম। আমরা যদি গরুর দাম দেড় লাখ চাই তাহলে ক্রেতারা তার দাম বলেন ৮০-৯০ হাজার, আর যদি এক লাখ টাকা চাই তাহলে ক্রেতারা বলেন ৬০-৭০ হাজার। কোনো কোনো ক্রেতা দাম বেশি দিয়ে কিনে নেন। আবার কিছু ক্রেতা দাম শুনে চলে যান। তারা আরো জানান, বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকিয়ে বসে রয়েছেন। বিক্রেতারা গত বছরের চেয়ে এ বছর পশুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন। ফলে সামর্থ অনুযায়ী পশু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, আরও এক-দুইদিন হাটে যাবো। যদি দাম কিছুটা কমে তাহলে ভালো, নাহলে বেশি দামেই কুরবানির পশু কিনতে হবে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: মজিবুর রহমান জানান, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপজেলায় ৩৫টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। উপজেলার প্রধান প্রধান পশুর হাটগুলোতে আমাদের ৫টি ভেটেনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। কেউ সহযোগিতা চাইলে অবৈধ উপায়ে মোটাতাজা করা ও অসুস্থ গরু চিনতে আমাদের মেডিকেল টিমগুলো সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *