ফরিদুল ইসলাম নয়ন ,নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
জ্বালানী তেলের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে।
৫ই নভেম্বর (শুক্রবার) বিকেল ৪ টায় চাষাঢ়া বিজয়স্তম্ভের পাদদেশে জ্বালানী তেলের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত করে গণসংহতি আন্দোলন।

গণসংহতি আন্দোলন নাঃগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে ও মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান রিচার্ডের সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলার নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, নারী সংহতি জেলার সম্পাদক পপি রাণী সরকার, গণসংহতি আন্দোলন বন্দর থানার আহ্বায়ক কাউসার হামিদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
তরিকুল সুজন বলেন, ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের দুরুত্ব ১৭ কিলোমিটার। ফ্লাইওভার হওয়ার পর দূরত্ব কমে ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার হয়েছে। গড়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা যেতে বাস প্রতি ১০ লিটার ডিজেল লাগে। নতুন বাসের ক্ষেত্রে ডিজেল আরো কম লাগে। ডিজেলের বর্ধিত মূল্য লিটার প্রতি ১৫ টাকা করে হলে ১০ লিটার ডিজেলের দাম ১৫০ টাকা হয়। উৎসব-বন্ধন বাসের সিট সংখ্যা ৫২টি। সিট প্রতি ১৪ টাকা করে বৃদ্ধি করলে মোট টাকার পরিমান দাড়াঁয় ৭২৮ টাকা। ১৫০ টাকা ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি কারনে যাত্রীদের কাছ থেকে টিপ প্রতি ৭২৮ টাকা আদায় করছে। অথচ যেখানে যৌক্তিক ভাবে বাস ভাড়া ২.৮৮ পয়সা বৃদ্ধি পাবার কথা সেখানে ১৪ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। সুতরাং উৎসব-বন্ধন বাস কৃর্তপক্ষ জনগণের পকেট কাটছে এবং জনগণের কষ্টার্জিত টাকাকে সিন্ডিকেট করে লুট করছে। যেখানে ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এখন পর্যন্ত বাস ভাড়া বৃদ্ধির কোন অফিসিয়াল বক্তব্য জারি করে নাই। তাছাড়া এই রুটের বেশিরভাগ পরিবহন চলে সিএনজিতে। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে কেন সিএনজি চালিত পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে?
আমরা মনে করি, উৎসব-বন্ধন ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। জনগণের পকেট কেটে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের এই দায় বিআরটিএ কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না। আমরা এই অযোক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাখ্যান করছি এবং এই লুটতরাজের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানাচ্ছি। রাজপথে নেমে আসুন। রাজপথই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে।

অঞ্জন দাস বলেন, সরকার জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় না রেখে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা মানুষের প্রতি নীপিড়ন। এ নীপিড়ন মেনে নেয়া যায় না। যেখানে এমনিতেই চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রযোজনীয় দ্রব্যের বাজার উর্দ্ধমূখী, সেখানে জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো মানুষকে আরো অসহনীয় অবস্থায় ফেলবে। এই দামবৃদ্ধি কৃষকের ফসলের উৎপাদনখরচ বাড়াবে, তাদের জীবনযাপন খরচ বাড়াবে এবং সাথে সাথে ডিজেলনির্ভর পরিবহনব্যয় বাড়াবে। মাফিয়া ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বেড়েছে ডিজেলের দাম অথচ গ্যাসনির্ভর বাসেও মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছে। সমন্বয়ের কথা তুলে অযৌক্তিক এ দামবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার আবারো প্রমাণ করলো তারা জনগণের স্বার্থবিরোধী সরকার। আমরা এ দামবাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অতিসত্বর বাতিলের আহবান জানাই। একেইসাথে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রব্যমূল্যের দামও কমাতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের ৩ দফা দাবি হলো :
১. ডিজেল-কেরোসিনের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।
২. যৌক্তিক বাস ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।
৩. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী বাস মালিক কৃর্তপক্ষকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে ।

Leave a Reply