আরিফুল ইসলাম , ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি :

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের হাসলীগাঁও – মারুয়াপাড়া রাস্তার বেহাল দশার কারণে
জনদুর্ভোগ চরমে !
দেখার যেন কেউ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি কর্দমাক্ত কাদায় পরিণত হয়। তখন ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সরেজমিনে পরিদর্শনে ও এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়ারিরোড- তিনানী বাজারের প্রধান রাস্তার বটতলী থেকে গ্রামীন এ রাস্তাটি মারুয়াপাড়া হয়ে হাসলীগাঁও গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩ কি: মি: কাচা রাস্তা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ভোট নেয়। নির্বাচিত হওয়ার পর ওইসব জনপ্রতিনিধিরা তাদের আর কোন খোঁজ নেয়না। অপর দিকে হাসলীগাঁও গ্রামে বেশ কয়েকজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি থাকলেও, রাঙ্গামাটিয়া রাস্তাটি পাকাকরণ হওয়ায় মারোয়াপাড়া রাস্তাটির প্রতি তাদের আর কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। যার ফলে হাসলীগাঁও এর একটি অংশ সহ মারুয়াপাড়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের জনদুর্ভোগ চরমে। এছাড়াও মারুয়াপাড়ার দক্ষিনে বড় ব্রীজের পশ্চিমে রাস্তাটির দু’পাশের ভেঙ্গে গিয়ে এতটাই সরু হয়ে গেছে, যেখান দিয়ে একটা ভ্যানগাড়ী নিয়ে যাওয়াও কষ্টকর। ওই এলাকায় কোন লোক গুরুতর অসুস্থ হলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে তিনানী বাজার হয়ে শেরপুর বা ঝিনাইগাতীতে আসতে হয়। আর যদি কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে সরাসরি ওই গ্রামে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী প্রবেশ করতে পারবেনা।
হাসলীগাঁও গ্রামের আলকাছ, মারুয়াপাড়া গ্রামের মুনছর আলী সহ আরো অনেকে আক্ষেপের সাথে বলেন, “নেতারা ভোটের সময় এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেয়,নির্বাচিত হওয়ার পর টাকা বিনিময়ে কার্ড বেচাকেনা করে, উন্নয়ন হয় শুধু নেতাদের। আমাদের অবহেলিত এলাকার রাস্তাঘাট অবহেলিতই থেকে যায়। বর্ষার মৌসুমে এলাকাবাসীর যে কতটা কষ্ট হয়, তা স্ব-চক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না। আমাদের তো আর ক্ষমতা নেই, টাকা দিয়ে রাস্তা পাকাকরনের ।”

এ ব্যাপারে মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতা জানান, রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণের প্রস্তাবনা প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। যাহা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন হওয়া মাত্রই রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *