মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: করোনায় থেমে নেই কামার পাড়ার কারিগররা। আসন্ন কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে দা-ছুরি-বটি বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। সংক্রমণ ঝুঁকির ভয় কাটিয়ে ক্রেতা সমাগম ক্রমেই বাড়ছে। কুরবানীর ঈদের অন্যতম অনুসঙ্গ দা-বটি-ছুরি সহ লোহার তৈরী নানা পণ্য সাধারণ মানুষের কেনাকাটার তালিকায় থাকে সবসময়। এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন শিথিল করে দেয়ার পরও করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির ফলে ক্রেতা কিছুটা কম থাকলেও টুং টাং শব্দে মুখরিত চৌদ্দগ্রামের কামারপাড়া।

বছরের অধিকাংশ সময়ই কামার পাড়ার হাতুড়ীর টুং টাং শব্দ খুব একটা শোনা না গেলেও প্রতিবছর ঈদুল আযহাকে (কুরবানীর ঈদকে) কেন্দ্র করে টুং টাং শব্দে তাদের উপস্থিতি জানান দেন কামার সম্প্রদায়। আর তিনদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আযহা হওয়ায় মানুষের চাহিদা অনুযায়ী দা, বটি, ছুরি শান দেওয়া ও নতুন তৈরিতে যেন দম ফেলার সুযোগ নেই তাদের। এসময় কামাই-রুজি বেশী হওয়ায় কামার ও কারিগরদের মনেও বেশ আনন্দ লক্ষ্য করা যায়।

হাতুড়ী পেটানো আর হাপড়ে বাতাস দিয়ে আগুনের কাছে বসে থাকা অনেক কষ্টসাধ্য হলেও অধিক দামে পণ্য বিক্রি করতে পারলে অনেকটা দূর হয়ে যায় তাদের সেই কষ্ট। দা, বটি, ধামা ও ছুরি কুরবানীর আবশ্যকীয় জিনিস হওয়ায় সাধারণ মানুষ ছুটছেন কামারদের কাছে। তবে নতুন ছুরি ও অন্যান্য সরঞ্জামের দাম একটু বেশী হওয়ায় ঘরে থাকা পূরনোগুলোতেই শান দিচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। এক্ষেত্রে পূরনো গুলোতে শান দেওয়াতেও গত বছরের তুলনায় বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

চৌদ্দগ্রাম বাজারের ওয়াপদা সড়কে এক সময় সারি সারি কামার দোকান থাকলেও কালের বিবর্তনে এবং বছরের অন্যান্য সময় কাজ না থাকায় এখন মাত্র ২-৩টি দোকান দেখা যায়। অবশ্য বাজারের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরো কয়েকটি দোকান। স্বল্প সংখ্যক দোকান হওয়ায় এসব দোকানে সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এক্ষেত্রে অনেক দোকানে সময়মতো সরঞ্জাম না দিতে পারার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান কয়েকজন ক্রেতা। উপজেলার গুনবতী, ধোড়করা, মুন্সীরহাট, কাশিনগর, মিয়াবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতেও কামার ও কারিগরদের ব্যস্থতা চোখে পড়ার মতো।

চৌদ্দগ্রাম বাজারের ওয়াপদা রোডের রতন ও মরণ কর্মকার জানান, ‘পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় বছরের অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হয়। তাই বছরের অন্যান্য সময় কাজ না থাকায় কামাররা অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া করোনাকালীন সময়ে কারিগর সংকট এর পাশাপাশি বর্তমানে কয়লা এবং লোহার দামও বেশি। তাই কুরবানীর ঈদেই দা, বটি এবং ছুরি শানের দামটা একটু বেশি থাকে’।

Leave a Reply