মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রাঙ্গামাটি জেলার ১ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চৌদ্দগ্রামের কৃতিসন্তান আহসান হাবীব।

দীর্ঘ ১২দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে শুক্রবার মধ্যরাতে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত আহসান হাবিব কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মাওলানা নুরুল ইসলামের পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি পিতা, মাতা, স্ত্রী, ৫ ভাই, ২ বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ৫ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আহসান হাবিব। গত মাসের শেষের দিকে স্বস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গত ৬ জুলাই অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিব ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। চলতি বছরের গত ২ মে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতী পেয়ে সর্বশেষ রাঙ্গামাটি সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রীও করোনা ভাইরাতে আক্রান্ত হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিবের মৃত্যুতে সমগ্র চৌদ্দগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেজুড়ে শুধু আহসাব হাবিবের মৃত্যুর খবর। সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসময় তারা বলেন, আহসাব হাবিবের মৃত্যুতে জাতী এক মেধাবী সন্তানকে হারালো। চৌদ্দগ্রামের সন্তান হিসেবে এ ক্ষতি পূরণ হবার নয়।

স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব, নিহত আহসান হাবিবের চাচাতো ভাই খলিলুর রহমান জানান, আহসান হাবিব অত্যন্ত মেধাবী এবং ভালোমনের অধিকারী ছিলেন। তার ভালো গুণের কারণে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তাকে খুব পছন্দ করতেন। এসময় তিনি আরও জানান, আহসান হাবিব অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি, এইচএসসি এবং অনার্স শেষ করে ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ উত্তীর্ণ হন।

নিহতের সহপাঠি মুজিবুর রহমান জানান, আহসান হাবিব অত্যন্ত সাধারন জীবনযাপনে অভ্যস্থ ছিল। গ্রামের বাড়ীর যার সাথেই দেখা হতো তার সাথেই প্রাণখুলে সময় কাটাতো সে। তার মৃত্যুর এ ক্ষতি অপুরণীয়।

নিহতের চাচা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আহসান হাবিবের জানাযার নামাজ শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় নিজ গ্রাম বসন্তপুর বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থাণেই তার লাশ দাফন করা হবে।

Leave a Reply