মাগুরা থেকে মোঃ ইউনুছ আলী

তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো ও করোনা দুর্যোগে নতুন-পুরাতন দরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা প্রদান করার দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ৯ জুন ২০২১ সকাল ১১টায় মাগুরা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য প্রকৌশলী শম্পা বসু । সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা সংগঠক ভবতোষ বিশ্বাস জয়, মোঃ হাসিব।

বক্তারা বলেন, তেলসহ নিত্য পণ্যের দামের উর্দ্ধগতিতে মানুষের জীবন অসহনীয় হয়ে পড়েছে । এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ টাকায় ও পাঁচ লিটারের এক বোতল তেল ৭২৮ টাকায় আর খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১২৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে । দেশের বাজারে গত বছরের অক্টোবরেও প্রতি পাঁচ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৫০৫ টাকা। এরপর থেকে তা বাড়ছেই। গত অক্টোবরের তুলনায় পাঁচ লিটার তেল কিনতে মানুষের ব্যয় বেড়েছে ২২৩ টাকা। মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকায় আর প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আটা, ময়দা, রসুন ও ডালের দামও বাড়তির দিকে ।

বক্তাগণ বলেন, এক বছরে কোনো পণ্যের দাম ২-৩ শতাংশ বাড়লে তা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এক বা তিন সপ্তাহের মধ্যে ২০-২৫ শতাংশ দাম বাড়লে তাকে কোনোভাবে স্বাভাবিক বলা যায় না। এই অস্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি যারা তৈরি করছে, তারা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের দেখা যায়, মাঝেমধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পণ্যের দাম বেঁধে দেন, কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় না। ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছাচারী কায়দায় দাম বাড়িয়ে থাকেন। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের মতো আমদানি পণ্যের দাম দফায় দফায় বাড়লেও দেখার কেউ নেই। একশ্রেণির ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়লে দেশীয় বাজারে ৫ টাকা বাড়িয়ে দেন। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করেই কাজটি করেন। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য বাজার তদারক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বাজারের সরবরাহ ঠিক রাখতে টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তাগণ ।

বক্তাগণ আরও বলেন,
করোনায় গরিব মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জীবন ও জীবিকা হুমকিতে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়েছেন, অনেকের আয় কমেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, করোনার কারণে নতুন করে গরিব হয়ে গেছেন কমবেশি প্রায় আড়াই কোটি মানুষ।

অথচ বাজেটে এই গরিবদের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ নেই। এতো বড় বাজেট অথচ সামাজিক সুরক্ষা খাতে গত বছরের তুলনায় মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে । নতুন ও পুরাতন মিলে দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ এখন গরীব। তাদের কর্মসংস্থান বা সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ কোনো উদ্যোগ বাজেটে নেই ।

তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, করোনা দুর্যোগে নতুন-পুরাতন দরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা প্রদান করতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা এবং বাজার সিন্ডিকেটের হোতাদের বিচার করার দাবি জানান হয় সমাবেশ থেকে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *