ভ্রাম‍্যমান প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :-
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করা হবে জানিয়ে ঘোষণা দিযেছিলেন সদ‍্য যোগদানকৃত পূর্বাঞ্চলের নতুন মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন। “দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকা রেলওয়ের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। চুল পরিমাণ অনিয়মও সহ্য করা হবে না”। গত ৭ ডিসেম্বর মহাব্যবস্থাপকের পদে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর কর্মকর্তা – কর্মচারিদের উদ্দেশ্যে তিনি এই কথা গুলো বলেন। অনুসন্ধানে বাস্তবতা দেখা মিলে ভিন্ন চিত্র। সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি স্থানীয় অনলাইন চ‍্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন “দুর্নীতির মহোৎসব চলছে পাহাড়তলী ডিআরএম কার্যালয়ে”। শীর্ষ এই প্রতিবেদন টি প্রচার হওয়ার পর রেলওয়ে কতৃপক্ষ দোষীদের বিরুদ্ধে তৎখনাত বদলী ব‍্যবস্থা নিলেও পূর্বের মতো অবস্থা রযেই গেছে। তবে পূর্বের চেয়ে ঘুষের টাকার চাহিদা বেডেছে তিন গুন। সেবা, স্বচ্ছতা,নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা কোন কিছুরই বালাই নাই। পুরোপুরি ওপেন হয়ে গেছে দুর্নীতি। চলমান রয়েছে কর্মচারিদের ফাইল বন্দী (জিম্মী) করে রমরমা বানিজ‍্য, বেডেছে দালালদের দূরত্ব। সর্বদা দালাল ছাড়া সংস্থাপন বিভাগে কোন কাজেই হয় না। বিভাগীয প্রধান ব‍্যবস্থাপকের কার্যালয় থাকা সত্বেও দিন দিন অনিয়ম যেন নিয়মে পরিনত হচ্ছে । যে, যেভাবেই পারছে কর্মচারিদের ঠেকিয়ে অবৈধভাবে টাকা কামিযে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই। তাছাড়া টাকা ছাড়া মিলছে না কোন সেবা, অবসর প্রাপ্ত কর্মচারিদের অবসর ছুটি ভাতা, লীভ শীট পূরণ করা, পেনশন, জিপিএফ টাকা উত্তোলন, চাকুরী সন্তোষ জনক সহ প্রতিটি ফাইলে দিতে হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ঘুষ। ঘুষ ছাড়া কোন সেবাই মিলছে না বিভাগীয় সংস্থাপন দপ্তরে। ওযেলফেযারে কর্মরত পরিদর্শক মোজাফফর কে, মৃত কর্মচারী পরিবার কতৃক নগদ টাকা ঘুষ এবং কি শহরের নামীদামি হোটেলে ভালো ভাবে আপ‍্যাযন না করালে পাওয়া যায় না সহজে মৃত কর্মচারীর পরিবারের তদন্ত রিপোর্ট। থেমে যায় পেনশন কার্যক্রম। আর এই নামীদামি হোটেল মোজাফফর নিজেই পছন্দ করেন। এই ব‍্যবস্থা রাজি না হলে কযেক মাস এবং কি বছর পযর্ন্ত মাঠে মাঠে ঘুর পাক খেতে হয মৃত ব‍্যাক্তির পরিবার কে । পূর্বেও তাকে এই সকল অপকর্মের দাযে তাকে বদলী করা হলেও পুনরায় একই পদে কিছুদিন পূর্বে স্ব পদে তাকে বহাল করা হয়। সংস্থাপন দপ্তরে কর্মচারিদের সংস্থাপন কতৃক বিভিন্ন জটিলতা সহজী করন এবং দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য প্রতিটি দপ্তরে কম্পিউটার দেযা হয। কম্পিউটার থাকা সত্ত্বেও ( অফিস সহকারী ) তারা নিজেরা টাইপ করে না দিয়ে বাহির (দোকান ) হতে করে আনতে বলা হয ভুক্তভোগীদের। অথবা টাইপের টাকা বুঝে নেয়া হয় তখন নিজেরাই টাইপ করে দেয। ফটোকপি মেশিন থাকা সত্ত্বেও বাহির (দোকান) হতে ফটোকপি করে আনতে বলা হয়। একই সেকশনে কর্মরত অফিস সহকারী সাবেরা বেগম তিনি সংস্থাপন বিভাগের কাজ কর্ম একেবারেই অনবিজ্ঞ। সংস্থাপন সম্পর্কে তিনি কিছুই বুঝে না তবে কিছু না জানলেও কলম ঘুরিয়ে কিভাবে টাকা কামাতে হয় সেই বেপারে যথেষ্ট পারিদর্শিতা আছে। তিনি সংস্থাপন বিভাগে বদলী হযে আসার পূর্বে কর্মরত ছিল রেলওয়ে স্কুলে।
এক কথায় ডিআরএম সংস্থাপন বিভাগ প্রতিটি দপ্তর টাকা কামানোর কারখানা।
ভুক্তভোগী রেল কর্মচারীরা জানান, গত জুলাই মাসে ডিআরএম সংস্থাপন বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি সম্পর্কে একটি অনলাইন চ‍্যানেলে প্রচার হওয়ার পর অভিযুক্ত ট্রলী ম‍্যান জযনাল ও মরন চন্দ্র কে বিদ‍্যুৎ ও মেডিক্যাল সেকশন হতে যার যার কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো হয। তাছাড়া উক্ত সেকশনে কর্মরত প্রধান সহকারী ইশতিয়াক আহমেদ কে ইন্জিনিযারিং শাখার প্রধান সহকারী আর ইন্জিনিযারিং শাখার প্রধান সহকারী মীর মোশারফ হোসেন কে বিদ‍্যুৎ ও মেডিক্যাল সেকশনে বদলী করা হয। জানা যায় চলতি বছরের জানুযারী ৩১ তারিখে মীর মোশারফ হোসেন চাকরি হতে তিনি অবসরে যাবেন। অবসরে যাওয়া কে কেন্দ্র করে ছুটে চলছেন টাকার পিছনে। প্রতিটি ফাইলে তাকে টাকা না দিলে খেপে যান মীর মোশারফ হোসেন, আবার টাকা না পেলে সহজেই ফাইল ছাড়েন না এবং কি স্বাক্ষর পযর্ন্ত তিনি করেন না। তাহার বিরুদ্ধে কর্মচারীর ফাইল জালিয়াতি ক‍েস তদন্ত চলমান রযেছে। যাদের ফাইল সেকশনে আসে কিন্তু তারা যদি দেখা না করে তখন আবার কর্মচারিদের ব‍্যাক্তিগত নথি থেকে ইনক্রিমেন্ট কপি হতে কর্মচারীদের থাকা মোবাইল নাম্বারে তিনি ফোন করে অফিসে আসতে বলেন অথবা বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিতে বলেন। আবার কোন দালাল / সহকর্মী, যদি কোন কর্মচারীর কাজ নিয়ে গেলে তখন আবার যে ব‍্যাক্তির কাজ নিয়ে গেছে তাকে ফোন দিয়ে কনফার্ম করেন এবং জিগ্যেস করেন দালালের সঙ্গে কত টাকা চুক্তি হযেছে? । এছাডা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধান সহকারী মোশারফ এর নিকট সমাধানের জন্য সেকশনে আসলেই তিনি কর্মচারিদের কে সরাসরি পরামর্শ দেন যে, কাজ করাতে হলে তার ব‍্যবহার কৃত বিকাশ নং 01711396080 তার দেওযা নির্ধারিত ফি ( টাকা ) জমা করার জন্য কর্মচারিদের কে তিনি বাধ্য করেন। সংস্থাপন কর্মকর্তা এপিও /ডিপিও সাহেবদের নাম ভাঙ্গিযে যে কোন কর্মচারীদের ব‍্যাক্তিগত নথি স্বাক্ষর তিনি নিজ দায়িত্বে করিযে নিবে বলে পুরো টাকা (ঘুষ) নিজ পকেটে কাযদা করে ঢুকিয়ে ফেলেন। পরবর্তী ফাইল এপিও/ ডিপিও দের কাছে গেলে তারাও ( ঘুষের ভাগের) টাকা ছাড়া কোন ফাইল স্বাক্ষর করেন না, নথিও ছাড়ে না। উনারা নিজেরাই অবগত আছেন যে প্রতিটি সেকশনে অনিয়ম চলছে। শুধু মোশারফ না সংস্থাপন বিভাগের প্রতিটি শাখায় চলছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। সংবাদ প্রচার হলে কিছু দিন নিরবতা পালন করতে দেখা গেলেও সপ্তাহ দু এক পর পুনরায় চালু হযে যায় সব আগের নিযমে। এ সকল অনিয়ম দুর্নীতি সম্পর্কে বিভাগীয় সংস্থাপন কর্মকর্তা সৈয়দ হোসেন কে কযেকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *