শফিউদ্দিন (বিজন)
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:

দোয়ারাবাজারে নৌকায় ভোট দেয়ায় একঘরে করে রাখা হয়েছে ৭ পরিবারকে। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মিয়ার নির্দেশনায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ৭ পরিবারকে গ্রাম-পঞ্চায়েতবাসী একঘরে করে রেখেছে।
গত শনিবার দিবাগত রাতে দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মাঠে সৌদি আরব প্রবাসী ছমির উদ্দিনের আয়োজনে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
রাজনপুর গ্রামের এক-ঘওে করে রাখা ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মিষ্টার বলেন, গ্রামের প্রার্থীকে ভোট না দেয়ায় গ্রামবাসী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ জন্য আমরা লজ্জাবোধ করছি। আমাদের সাথে সকলের কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা হতাশ। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বৈঠক উপস্থিত থাকা রাজনপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, গ্রাম-পঞ্চায়েতবাসীর সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। তাদের সাথে কথাবার্তা বললে ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হবে।
তবে প্রবাসী ছমির উদ্দিন এর সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, একঘরে করে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। তাদের সাথে কেউ যাতে ঝগড়াঝাটি না করে এ জন্য বৈঠক করে সকলকে সতর্ক করেছি।
একঘরে করে রাখা পরিবারের লোকজন হচ্ছেন, রাজনপুর (আংগাঙ) গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র সফিক মিয়া (৩৫), মৃত হেলাল আহমদের পুত্র জুবের হেলাল (৪০) (প্রতিবন্ধি), কুতুব উদ্দিনের পুত্র হাবিবুর রহমান (৩৫), বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসন্দর আলীর পুত্র লুৎফর রহমান (২৮), আয়াজ আলীর পুত্র আকরামুল হক সোহেল, আরশ আলীর পুত্র আনোয়ার হোসেন মিষ্টার (৪৫), চানমিয়ার পুত্র আলীরাজ সানীয়া (২৫)।
একঘরে করে রাখা পরিবারের লোকজন বলছেন, নির্বাচনে একই গ্রামের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে নৌকায় ভোট দেয়ায় তাদেরকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। তাদের সাথে কেউ কথা বললে ৫শ’ টাকা জরিমানা করবেন গ্রামপঞ্চায়েতের মোড়লরা। সত্যতা জানতে চাইলে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরমিয়ার মুঠোফোনে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ বলেন, এমন ঘটনা শুনার পরই তাদের ডেকেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply