এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

পূর্ববিরোধ ও বোরো জমির ধান কাটতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের ঢালার খাল নামক স্থানে সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষের লোজনদের এলোপাতাড়ি কিলঘুষিতে আবদুর রহিম (৫৫)নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মহিষপুর গ্রামের শাহীন মিয়ার (৩৮) সঙ্গে একই ইউনিয়নের মফিজনগর গ্রামের আবদুর রহিমের(৫৫)দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নির্ধারণসহ পারিবারিক নানা বিয়য় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।এসব নিয়ে আদালতে মামলা মোকাদ্দমাও চলমান রয়েছে। শাহীন মিয়ার মায়ের কাছ থেকে এক বছর মেয়াদে সোনামড়ল হাওরে ১০কিয়ার জমি ২০হাজার টাকার বিনিময়ে ৫/৬মাস আগে আবদুর রহিম (৫৫) ও তাঁর ছোট ভাই আবদুল করিম (৫০) জমা (ফসল কাটা পর্যন্ত মালিকানা (জমা) রাখেন । সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শাহীন মিয়া (৩৮) ও তাঁর ছোট ভাই আনোয়ার মিয়া (৩৩) ওই ১০কিয়ার জমিতে ৩০-৩৫জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটাতে শুরু করের।খবর পেয়ে আবদুর রহিম সোমবার সকাল ১০টার দিকে সোনামড়ল হাওরে গিয়ে তাঁদের আবাদ করা জমির ধান না কাটার জন্য বাধা দেন। এ অবস্থায় শাহীন মিয়া ও আবদূর রহিমের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সোনামড়ল হাওর সংলগ্ন ঢালার খালে শাহীন মিয়া ও তার ছোট ভাই আনোয়ার মিয়াসহ ৫/৬জন মিলে কৃষক আবদুর রহিমকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মেরে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে তারা সেখান থেকে চলে যায়।। খবর পেয়ে আবদুর রহিমের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরর জজরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরক চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ নিয়ে শাহীন মিয়া ও আনোয়ার মিয়ার মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো.খালেদ চৌধুরী আজ রাত আটটার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনা নিয়ে থানা্য় কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো আমরা পাইনি। বোরো জমিতে ধান কাটতে বাধা দেওয়াসহ পূর্ববিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজনদের কিলঘুষির আঘাতে কৃষক আবদুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরছি। ওই কৃষকের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হানপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *