এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের কাইলানী হাওরের টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধের ২৪নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) বাতিল করে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী নতুন করে পিআইসি কমিটি গঠন করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে কাইলানী হাওরের টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধ লাগোয়া স্থানে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সানবাড়ী ও রাজাপুর গ্রামের কৃষকেরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।এই মানববন্ধনে এখানকার দুটি গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক অংশ নেয়। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জয়শ্রী ইউনিয়নের সানবাড়ী গ্রামের কৃষক প্রশান্ত তালুকদার,কমরেড চৌধুরী,রাজাপুর গ্রামের কৃষক সাহাদ মিয়া,মাসুদ মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সানবাড়ী গ্রামের সামনে কাইলানী হাওরের টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে। এই ফসলরক্ষা বাঁধটিতে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। কাইলানী হাওরের টঙ্গীর ফসলরক্ষা বাঁধটির ২৪নং প্রকল্পটির দৈর্ঘ প্রায় দুই কিলোমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাবিটার মাধ্যমে এই প্রকল্প কাজের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ২২লাখ ৭০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নীতিমালা অনুযায়ী, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ সংলগ্ন যেসকল কৃষকের জমি আছে তাঁরাই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি(পিআইসি) তে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। কিন্ত নীতিমালার কোনোরকম তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভূতভাবে ২৪ নং পিআইসি কমিটি গঠন করে এই কমিটি দিয়ে বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই পিআইসি কমিটিতে যাদের অন্তর্ভূক্ত করা তাঁদের বাঁধেরর সন্নিকটে কোনো জমি নেই। টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধের এলাকা থেকে ৬-৭কিলোমিটার দূরে জয়শ্রী ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের লোকজনকে দিয়ে এই পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কাইলানী হাওরের টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসির) সভাপতি বাখরপুর গ্রামের বাসিন্দা সোরওয়ার্দী তালুকদার ও সদস্য সচিব গোলাম মৌলারর নির্দেশে ও তাঁদের উপস্থিতেতে টঙ্গী ফসলরক্ষা বাঁধের কাছাকাছি স্থান ও মালিকানা অনাবাদী জমি থেকে অ্যাক্সেভেটর দিয়ে মাটি উত্তোলন করে সেই মাটি বাঁধে ফেলার কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাঁধের মাটি পরিবহনের কাজে ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করায় এখানকার এক কৃষকের দুই কিয়ার ধনিয়া খেত বিনষ্ট করেছে। অবৈধ এই পিআইসি কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের দাবি জানানো হয়। পিআইসি বাতিল করা না হলে এলাকার সকল কৃষকেরা মিলে আইনিভাবে এটি মোকাবিলা করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সভাপতি সোরওয়ার্দী তালুকদার বলেন,আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক রয়। বাঁধের কাছ থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে না।জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলেই মাটি নেওয়া হচ্ছে। কোনোরকম ধনে খেত বিনষ্ট করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, টঙ্গী বাঁধ সংলগ্ন জমি না থাকলেও কাইলানী হাওরে আমাদের জমি রয়েছে। আমরা যাতে কাজটি সুন্দর ভাবে শেষ না করতে পারি সে জন্য স্থানীয় একটি পক্ষ নানাভাবে অপচেষ্ঠায় লিপ্ত রয়েছে।
ইউএনও মো.মুনতাসির হাসান বলেন, আমি গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসে দুই পক্ষের মধ্যে থাকা বিরোধটি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে দিয়েছি। পিআইসি কমিটি বাতিলের দাবি তুললেই তা বাতিল করা যায় না। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভায় আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *