এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা প্রতিনিধি:

শ্মশানঘাট নির্মাণে বাধা এবং হামলার মামলায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম (২২) ও শাহীন (২০) নামের এজহারভুক্ত দুজন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার (১সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার তিস্তা এলাকা থেকে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২সেপ্টেম্বর)বিকেল পাঁচটার দিকে ওই দুজন আসামিকে ধর্মপাশা থানায় নিয়ে আসা হয়। চলতি বছরের ২২মার্চ রাতে উপজেলার পাথারিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও শ্মশানঘাট নির্মাণ কমিটির উপদেষ্টা জগদীশ বর্মন (৭০) বাদী হয়ে শ্মশানঘাট নির্মাণে বাধা এবং হামলার ঘটনায় অভিযোগে ওই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২-৩জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন।

ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নতুনপাড়া ও পাথারিয়াকান্দা গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে চলতি বছরের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শেষ কৃত্যানুষ্ঠানের জন্য একটি শ্মশানঘাট নির্মাণের কাজ করা হচ্ছিল। মরদেহ দাহ করার গন্ধ ছড়ানোসহ নানা কারণ দেখিয়ে এই শ্মশানঘাট নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন একই ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম (৪৮)। শ্মশানঘাট নির্মাণের জন্য সেখানে রাখা রড,বালু,ইট ও পাথর চুরি হতে পারে এই আশঙ্কায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন রাতের বেলায় এসব পাহারা দিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের ২১মার্চ রাতে পাথারিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা রবি বর্মন (৫০),অমল বর্মন (২০),দীপ্ত বর্মন (২০),সুবল বর্মন (২০) এই শ্মশানঘাটের মালামাল পাহারার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ওইদিন রাত অনুমান একটার দিকে ওই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামের (৪৮) নেতৃত্বে তাঁর আপন ছোট ভাই আর্শাদুল ইসলাম ওরফে আসাদুলসহ ৫/৬জন লোক শ্মশানঘাটের মালামাল পাহারার কাজে নিয়োজিত থাকা লোকজনদের ওপর হামলা করে লাঠিসোটা ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে ওই চারজনকে মারধর করে আহত করেন। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এ ঘটনায় ২২মার্চ রাতে উপজেলার পাথারিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও শ্মশানঘাট নির্মাণ কমিটির উপদেষ্টা জগদীশ বর্মন (৭০) বাদী হয়ে ওই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২-৩জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.খালেদ চৌধুরী বলেন,শ্মশান ঘাট নির্মাণে বাধা ও হামলার ঘটনায় করা মামলায় শামীম ও শাহীন নামের দুজন পলাতক আসামিকে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার তিস্তা এলাকা থেকে বুধবার রাত ১১টার দিকে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুজনকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে আমাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই মামলায় এজহারভুক্ত চারজন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্ঠা চলছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুজন আসামিকে আজ শুক্রবার সকালে ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটে আদালতের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply