এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নাদিম কবীরকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার ও তাঁকে আইনের আনার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন তালুকদারকে অপহরণকারী হিসেবে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের ব্যনারে আজ রবিবার (২৯আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন তালুকদার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমাণ্ডার সুলতান মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ তুঘলব আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকরাম হোসেন তালুকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আরমান আহমেদ, সাংগঠনিক শাকিল মাহমুদ খান, জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সেলিম তালকুদার প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা সদর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নাদিম কবীরের বাড়ি উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর নয়াহাটি গ্রামে। অপর দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন তালুকদারের বাড়ি একই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে। ওই ইউনিয়নের কাউনাই নদী গ্রুপ নামে একটি জলমহাল রয়েছে। এই জলমহালটির আয়তন ৯০একর। জলমহালটি সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মাহমুদনগর গ্রামের পশ্চিম দিকে অবস্থিত । ১৪২৮বঙ্গাব্দ থেকে ১৪৩০বঙ্গাব্দের জন্য কাউনাই নদী গ্রুপ জলমহালটি ইজারা পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে চলতি বছরের ২৭মে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের আলোর দিশারী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড,স্বপ্নের তরী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডসহ চারটি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড আবেদন করে। স্বপ্নের তরী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নাদিম কবীরের নিয়ন্ত্রণে। অপরদিকে আলোর দিশারী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন তালুকদারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইজারা পাওয়া নিয়ে নাদিম কবীর ও মোকাররম হোসেন তালুকদারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নাদিম কবীর দাবি করেন, স্বপ্নের তরী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি নবী হোসেন প্রকৃত মৎস্যজীবি। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি অবগত আছেন। নবী হোসেন অপহরণ হওয়ার ব্যাপারে আমি তাঁর স্ত্রীকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা নিয়ে কোনোভাবে প্ররোচনা করিনি। নবী হোসেনের স্ত্রী সুরমা আক্তার (২৭) তাঁর স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মফিজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এ ছাড়া স্বামীর সন্ধ্যান চেয়ে অপহরণকারীদের শাস্তির দাবিতে গত ২৫আগস্ট নবী হোসেনের পবিবারের পক্ষে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে মানববন্ধন করা হয়। মোকাররম হোসেন এলাকায় প্রভাবশালী। তিনি নবী হোসেনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর শেখানো মতো নবী হোসেন ধর্মপাশা থানা পুলিশের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। এলাকায় আমার ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প সাজিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন তালুকদার দাবি করেন, আমাদের ইউনিয়নের স্বপ্নের তরী মৎস্য জীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি নবী হোসেন (৩৫) অমৎস্যজীবি। তিনি ১০বছর ধরে রিকশা চালান। এ সংক্রান্ত প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। নবী হোসেনকে আমি অপহরণ করেছি এমন অভিযোগ এনে নবী হোসেনের স্ত্রী সুরমা আক্তার (২৭) বাদী হয়ে আমাকে জড়িয়ে ওই নারী গত ২৫আগস্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নাদিম কবীরের প্ররোচনায় পড়ে ওই নারী আমার বিরুদ্ধে থানায় অপহরণের এই লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেছিলেন, ২২আগস্ট বেলা দুইটার দিকে নবী হোসেনকে আমি ও মফিজ মিয়া (৩৫) এই দুজন মিলে নবী হোসেনকে অপহরণ করে লুকিয়ে রেখেছি । যা মিথ্যা ,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। নবী হোসেন উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নাদিম কবীরের হুমকি ও ভয় ভীতির মুখে গত ২২আগস্ট থেকে নিজ ইচ্ছায় এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন। পরে পুলিশ ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে নবী হোসেন গত ২৫আগস্ট বিকেলে থানায় এসে উপস্থিত হন এবং ধর্মপাশা থানার ওসিকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবগত করেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজানোর কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নাদিম কবীরকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বলে জানতে পেরেছি।

Leave a Reply