মোঃ নুর হোসেন নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

শেরপুরের নকলা উপজেলায় বিএডিসি বীজ আলুর ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করার পাশাপাশি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিএডিসির চুক্তি ভিত্তিক বীজ আলু চাষীরা।

১০ এপ্রিল শনিবার দুপুরে নকলা উপজেলায় বিএডিসির চুক্তি ভিত্তিক চাষীরা সংবাদ সম্মেলনে উৎপাদন খরচ অনুপাতে ন্যায্য মূল্যের দাবি করেন। এছাড়া কৌশলে আলু চাষীদের নিরোৎসাহী করতে গত বছরের চেয়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও আলুর সরকারি ভাবে ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি না করে, উল্টা মূল্য কমানোর জন্য দায়ী নীতিনির্ধারকদের পদত্যাগ দাবি করেন তারা। তারা বলেন, বিগত বছরের উৎপাদন খরচের তুলনায় এবছর একর প্রতি বীজ আলু উৎপাদন খরচ ৩৫হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা বেশি হলেও সরকারি নির্ধারিত মূল্য কমানো হয়। সরকার নির্ধারিত দামে প্রতি একরে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে আলু চাষীদের। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক আলমগীর আজাদ, যুগ্ম আহবায়ক মন্নাফ খান, বিএডিসি আলু চাষীদের নেতা কামরুজ্জামান, জয়েন উদ্দিন, নূর ইসলাম প্রমুখ।

বক্তাদের মধ্যে কামরুজ্জামান জানান, এবছর প্রতি একরে তাদের ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর প্রতি একর আলু উৎপাদন হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ কেজি থেকে ৯ হাজার ৫০০ কেজি। এর মধ্যে বীজ আলু উৎপাদন হয়েছে ৬ হাজার কেজি থেকে ৬ হাজার ৫০০ কেজি। এসব বীজ আলু সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এ’ গ্রেডের আলু প্রতি কেজি ১৯ টাকা এবং ‘বি’ গ্রেডের প্রতি কেজি ১৬ টাকা। যেখানে গত বছর উৎপাদন ব্যয় এবারের তুলনায় কম থাকলেও দাম নির্ধারণ করা হয়েছিলো ‘এ’ গ্রেডের আলু প্রতি কেজি ২৩ টাকা এবং ‘বি’ গ্রেডের প্রতি কেজি ২২ টাকা। এবছর প্রতি একরে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা বেশি উৎপাদন ব্যয় হওয়ায়, কৃষকরা ‘এ’ গ্রেডের আলু প্রতি কেজি কমপক্ষে ২৮ টাকা এবং ‘বি’ গ্রেডের প্রতি কেজি ২৬ টাকা করার দাবী জানান। তা না হলে কৃষকদের অপূরনীয় লোকসান গুণতে হবে। এতে করে অনেক কৃষক রাস্তায় বসার উপক্রম হবে বলে তারা জানান। এসময় আলুচাষী শামীম আহম্মেদ, ছাইদুল হক, জুয়েল মিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ব্লকের আলুচাষীরা উপস্থিত ছিলেন।

চাষীরা জানান, গত বছর প্রতি একরে বীজ আলু রোপন করতে হয়েছিলো ১৬ মণ থেকে ১৮ মণ। কিন্তু এবছর একর প্রতি বীজ আলু রোপন করতে হয়েছে ৩০ মণ। গতবছর চাষীদের কাছে বীজ আলুর দাম নেওয়া হয়েছিলো ভিত্তি বীজ ৩৪ টাকা থেকে ৩৬ টাকা এবং প্রত্যায়িত বীজের দাম নেওয়া হয়েছিলো ২৭ টাকা থেকে ২৮টাকা প্রতি কেজি। আর এবছর অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতি কেজি ভিত্তি বীজ ৪০ টাকা থেকে ৪১ টাকা এবং প্রত্যায়িত বীজের দাম ধরা হয়েছে ৩৯ টাকা থেকে ৪০৮টাকা। এতে বীজ আলু বাবদ বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি শ্রমিক মজুরি বেড়েছে প্রতি জনে ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা করে এবং জমি বন্ধকে ব্যয় বেড়েছে প্রতি একরে ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। এ হিসাব মতে প্রতি একর জমিতে বিএডিসির বীজ আলু চাষ করতে চাষীদের ব্যয় বেড়েছে প্রতি একরে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তাই আলুর সরকারি ভাবে ক্রয়মূল্য পুনঃনির্ধারন না করলে আগামীতে আলু চাষী খোঁজে পাওয়া যাবেনা বলে তার মন্তব্য করেন। এমতাবস্থায় সরকারের নীতিনির্ধারকসহ বিএডিসি কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন আলুচাষীসহ সুধিজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *