শুভ চক্রবর্ত্তী, নবীনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামে বরদেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত গোবিন্দ চক্রবর্তী শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। বুধবার(২৬ মে) সন্ধ্যায় সলিমগঞ্জ ফাঁড়ি থানা এস আই নাজিম আহমেদ ঘটনা পরিদর্শন করার পর, ৪র্থ দিনেও নেওয়া হয় নি আইনি ব্যাবস্থা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার(২৩ মে) দুপুরে শ্যামগ্রাম বরদেশ্বরী মন্দিরে পূজা অর্চনার সময় অভিযুক্ত অপূর্ব কিশোর রায় দুলদুল (পিতাঃ অরুন কিশোর রায়) হঠাৎ জুতা পরে মন্দিরে প্রবেশ করে পবিত্রতা নষ্ট করায়, পুরোহিত গোবিন্দ চক্রবর্তী প্রতিবাদ করলে অকথ্য ভাষায় গালগালি করে একপর্যায়ে পুরোহিত গোবিন্দ চক্রবর্তী(৫৫)কে চড়-থাপ্পড় মেরে লাঞ্ছনা করে। দুই দিন পর ঘটনা জানাজানি হলে টনক নড়ে সুধী মহলের। ঘটনার ৪র্থ দিনেও কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুধী মহল।

এ নিয়ে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন ধনু মেম্বার বলেন,”মন্দির পবিত্র স্থান,এখানে জুতা নিয়ে প্রবেশ করা সমীচীন নয়। জুতা পায়ে মন্দির গিয়ে পুরোহিতকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। আমি এ ঘটনার প্রতিকার চাই। প্রয়োজনে আমরা ইউএনও মহোদয়ের কাছে যাব। ”

লাঞ্ছিত পুরোহিত গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, “রবিবার দুপুরে আচমকা মন্দিরে জুতা নিয়ে প্রবেশ করেলে আমি প্রতিবাদ করলে, আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, চড়-থাপ্পর মারতে থাকলে উপস্থিত কয়েকজন দুলদুলকে মন্দির থেকে টেনে বের দেয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, এম এ হালিম ঘটনাটি জানতে পেরে বুধবার রাতেই লাঞ্ছিত পুরোহিত গোবিন্দ চক্রবর্তীকে ফোন করে তার খোঁজ নেন এবং এ ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

বরদেশ্বরী মন্দির কমিটির সভাপতি সত্য সাহা বলেন, মন্দিরে জুতা নিয়ে প্রবেশ করে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করে পুরোহিত সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত ও ন্যক্কারজনক। আমরা স্থানীয় লোকজন একসাথে বসে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু এ ঘটনায় মন্দির কমিটির বিরোধীপক্ষ কমিটির লোকজনকে ফাঁসনোর চেষ্টা করছে। তারা মন্দিরের জায়গা নিজের নামে লিখে নিয়ে মন্দির কমিটির লোকজনকে দোষারোপ করছে। আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।

অভিযুক্ত অপূর্ব কিশোর রায় দুলদুলের সাথে বারবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
এ দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ব্রাহ্মণ (পুরোহিত) কল্যান সংঘের সভাপতি হরি শংকর চক্রবর্তী এ ঘটনা শুনে তিনি বলেন “জুতা নিয়ে প্রবেশ করে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করে পুরোহিতকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি ন্যক্কারজনক । আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাচ্ছি।

এ দিকে বুধবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে
সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই নাজিম আহমেদ জানান, “এ এস পি স্যারের নির্দেশ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তবে মন্দিরটি নিয়ে সেখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। দুই পক্ষকে কেন্দ্র করেই কিছুদিন পরপর সেখানে নানা ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ সামাজিক ভাবে বিষয়টির সমাধানের কথা বললেও এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয় নি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *