রাশিদুল ইসলাম (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর-মাহমুদপুর গ্রামে প্রতিটা লিচু বাগানে মুকুলে ছেয়ে গেছে।লিচুর মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। তাদের আশা, গত বছর লিচু বিক্রি করে যে লোকসান হয়েছিল তা এ বছর পুষিয়ে উঠবেন বলে তারা মনে করছেন।

লিচুর বাগান হিসেবে এরই মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারাম,ও মাহমুদপুর গ্রামের বেশ কিছু এলাকা। এই জেলায় উৎপাদিত সুস্বাদু ও রসালো ফল লিচুর সুনাম এখন দেশ-বিদেশে।

এরই মধ্যে জেলার লিচু বাগানের গাছগুলো ছেয়ে গেছে মুকুলে। তবে কৃষকরা বলছেন- চলতি বছর একটু আগেই মুকুল এসেছে।

মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তাদের আশা, গত বছর লিচু বিক্রি করে যে লোকসান হয়েছিল তা এ বছর পুষিয়ে উঠবেন। কৃষিবিদরা বলছেন, এবার শীত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ও তাপমাত্রা কম থাকায় গাছের বৃদ্ধি কম হয়েছে। তাই এবার পুস্পমঞ্জুফরী আগাম এসেছে।

এ জেলায় মোজাফফোর,বোম্বাই, চায়না-থ্রি সহ বেশ কয়েক জাতের লিচুর ফলন হয়। পরিপক্ক মৌসুমে এসব লিচু, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। আর লিচুর মুকুল ফুটে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে।তবে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ দিন আগেই মুকুল এসেছে।

ইতিমধ্যেই অনেক গাছের মুকুল ফুটতেও শুরু করেছে। কৃষকরা এবার ভাল ফলনের পাশাপাশি ভাল দামেরও আশা করছেন। গত বছরে যে সময় লিচু পরিপক্ক হয়ে বাজারে উঠেছিল ওই সময়টা ছিল রমজান মাসও বৈশিক মহামারী করোনা প্রকোপ বেশি থাকায় তাই অনেকেই আশানুরুপ দাম পাননি, অনেকেই সেবার লোকসান গুনেছেন।

বেড়গঙ্গারামপুর এলাকার লিচু চাষী মোঃ রিপন মোল্লা বলেন, লিচুর মুকুল থেকে ফুল ফুটতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে। সেই ফুল থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ লিচুর আকার পেতে সময় লাগে আরও ৩০ দিন। সেই আকার থেকে পরিপক্ক হয়ে বাজারজাত করতে সময় লাগে ৩০থেকে ৪০ দিন। মুকুল থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত লিচুর জাত ভেদে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগে।

বেড়গঙ্গারাম পুর ও মাহমুদপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন লিচু চাষী জানান, মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পরিচর্যা শুরু করেছি, সেচ দিয়েছি। সারের পাশাপাশি কীটনাশক ও বালাইনাশকও প্রয়োগ করেছি। লিচুর মুকুল এবার কিছুদিন আগে এসেছে।

তারা আরোও বলেন গত বছর পোকার আক্রমনের কারণে ফলন একটু কম হয়েছিল। আর রোজা ও করোনা মহামারীর প্রকোপ তো ছিলই যার কারণে দাম তেমন ওঠেনি। ফলে লাভেরর মুখ ও তেমন দেখতে পায়নি।

লিচু চাষী রিপন মোল্লা বলেন, আমার বাগানে ৭৫টি লিচু গাছ আছে। গত বছর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের তেমন খোঁজ-খবর নেননি। ফলে আমরা পোকার আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

3 thoughts on “নাটোরের গুরুদাসপুরে মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু বাগান”

Leave a Reply