এস ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:

নাটোর শহরের মীরপাড়া এলাকায় বারিষা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। 

রোববার ২৪ জানুয়ারি রাতে বারিষাকে তার ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।  নিহত গৃহবধু বারিষা বেগম এক সন্তানের জননী এবং  জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাচ্চুর নাতনি। এই মৃত্যু নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর পরিবার তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নানা শহীদুল ইসলাম বাচ্চু তার নাতনি বারিষাকে হত্যা করার অভিযোগ এনেছেন। এলাকাবাসীর সন্দেহের তীর স্বামীর পরিবারের দিকে। তাই রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা? এদিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর মর্গে প্রেরন করা সহ বারিষার স্বামী সোহানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, শহরের আলাইপুর এলাকার রাকিবুল হাসানের মেয়ে মৃত বারিষা বেগম শহরের নিচাবাজার এলাকায় নানা জেলা বিএনপির  সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাচ্চুর বাড়িতে থাকা অবস্থায় প্রায় ৩ বছর আগে শহরের মিরপাড়া এলাকার সোহেলের ছেলে হুমায়ন কবির সোহানকে ভালবেসে বিয়ে করে। তাদের সংসারে তালাহ নামে দুই বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করতে শুরু করে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রী সহ স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সাথে ঝগড়া বিবাদ হতো। এসব নিয়ে বারিষাকে নিযার্তনও করা হয়। কিন্তু একমাত্র সন্তানের কথা ভেবে বারিষা সব কিছু নিরবে সহ্য করেছে বলে জানায় এলাকাবাসী। এরই এক পযার্য়ে রোববার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মীরপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে বারিষাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় জুলন্ত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার হুমায়ন কবির জানান, আমরা ওই গৃহবধুকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে আনার অনেক আগেই ওই গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। এছাড়া নিহত বারিষার স্বামী সোহানকে আটক করে থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

বারিষার নানা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, বারিষার স্বামী সোহান ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করে  হত্যা করে তার গলায় রশি দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে নাটক সাজিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বারিষার মৃত্যুর খবর তার স্বামীর পরিবার থেকে কেউ জানায়নি। অন্য লোকের মাধ্যমে তাদেরকে বারিষার  মৃত্যুর খবর দেয়া হয়। তাই তিনি নাতনি হত্যার বিচার চান।  তিনি তার নাতনিকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। 

নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃতের স্বামী সোহানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা সম্ভব হবে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *