শেখ মো.সোহেল রানা , মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জ জেলা লৌহজং উপজেলা মাওয়া নৌরুটে দূর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু প্রশাসনের দায় কি?আছে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের অনেকেরই।
বিশ-এ বিষাক্ত জীবন শুরু হয়েছে দেশবাসীর। চায়না থেকে ২০১৯খ্রিঃ শুরু হয় মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর। পরে ২০২০খ্রিঃ করোনায় আক্রান্ত হওয়া শুরু হয় বাংলাদেশের মানুষ। দেশে করোনার প্রথম ঢেউ শেষ হতে না হতেই দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে দেশব্যাপী ৯ এপ্রিল ৭ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা দেয় সরকার। মৃত্যু ও আক্রান্তর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত মাসের ১৪ এপ্রিল শুরু হয় কঠোর লকডাউন। জরুরী পণ্যবাহী গাড়ি, অ্যাম্বলেন্স ছাড়া সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে সবার চোখ ফাঁকি দিয়েই চলছিল যাত্রীবাহী স্পিডবোট। গত সোমবার দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির পর জানা গেল, স্পিডবোটে যাত্রী বহনের বৈধতাই নেই। বৈধভাবে সরকারের নির্দেশণা অমান্য করে স্পিডবোট চলাচল করায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এ দায় কাদের? কর্তৃপক্ষ চাইলে বন্ধ করতে পারতেন স্পিডবোট চলাচল। তাহলে কেনো বন্ধ করলেন না? এমনিই প্রশ্ন জণসাধারনের।
ঘাট ইজারাদার, পুলিশ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে বিপরীতমুখী বক্তব্য। একেক সংস্থা দায় চাপাচ্ছে অন্য সংস্থার ওপর। তবে স্পিডবোটের একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নানা পক্ষকে টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে তারা এসব অবৈধ যান চালাচ্ছেন। ঈদ সামনে রেখে সব পক্ষকে দিতে হচ্ছিল বাড়তি টাকা। এ জন্য তারা অতিরিক্ত যাত্রী ও বাড়তি ভাড়া নিয়ে স্পিডবোট চালাচ্ছিলেন। গত সোমবার সকালে ৩০ যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় একটি স্পিডবোট। কাঁঠালবাড়ি ঘাটের অদূরে একটি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে সেটি ডুবে যায়। এরপর ২৬ যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।
গত সোমবার দুর্ঘটনায় হতাহতের পর লকডাউনের মধ্যে স্পিডবোট চলার বিষয়টি সামনে এলেও তা নিয়মিতই চলাচল করছিল। খুব সকালে দুই তীরের বৈধ ঘাট থেকেই এসব যান যাত্রীদের গাদাগাদি করে চলাচল করে। তবে দিনে ঘাটের আশপাশের এলাকা থেকে স্পিডবোটগুলো ছেড়ে যায়। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি-বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি রুটে স্বাভাবিক সময়ে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৫০ টাকা হলেও লকডাউনের সময়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল।
সোমবার সরজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে সাধারণ সময়ে ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন ধরনের প্রায় ৪৫০টি স্পিডবোট চলাচল করে। লকডাউনের এই সময়ে শতাধিক স্পিডবোট চলছিল। ছোট বোটে ১০ জন, মাঝারিতে ১৫ জন ও বড়গুলোতে ২০ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতা থাকলেও প্রতিটিতে দ্বিগুণ যাত্রী নেওয়া হয়। তা ছাড়া বোটগুলো পুরোনো এবং অধিকাংশেরই ফিটনেস নেই। নিবন্ধন, অনুমোদন তো নেই-ই।
বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়াঘাটের সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন জানান, ঘাটের বাইরে দেখভালের জন্য তাদের জনবল নেই। তা ছাড়া এই স্পিডবোটগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই।
তিনি আরও বলেন, এসব ইজারাদারদের ইচ্ছামতো চলে। নদীতে এগুলোর দেখার কথা নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের। তারা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শুধু বিআইডব্লিউটিএর ওপর দায় চাপানো উচিত নয়।
বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, নৌরুটে চলাচলরত স্পিডবোটগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। অবৈধভাবেই বছরের পর বছর এগুলো চলাচল করছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে একজন পরিদর্শক এসব স্পিডবোট নিবন্ধন করার জন্য ঘাট এলাকায় অবস্থান নিলেও ইজারাদার ও চালকরা কাগজপত্র দিয়ে সহযোগিতা না করায় নিবন্ধন কার্যক্রম থেমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *