স্ত্রীকে দিয়ে অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে পুরুষদের জিম্মি করে অর্থ আত্মসাৎ সহ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার সংবাদ প্রকাশ করায় ফেনীতে সত্যের অনুসন্ধান নিউজ পোর্টালের সম্পাদক ও সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছে মোঃ দিদার হোসেন দিদার নামের এক সেলুন ব্যবসায়ী।

স্ত্রীকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাবে!আর এটা নিয়ে লিখেছেন বলে দিদার হোসেন মামলা করে দিলেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে।বাহ্ আইনটিকে একেবারে তামাশায় পরিণত করে দিল।

রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে লিখলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভয় আছে।পুলিশের বিরুদ্ধে লিখলে দিলে কোন মামলায় ফাঁসাবে ঠিক নেই।ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লিখলে সব ডাক্তার মিলে চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফটোসাংবাদিক কাজলের পিঠমোড়া করে বাধা হাতে হ্যাণ্ডকাফ দেখেছি আমরা।হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করায় হ্যাণ্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় হাসপাতালে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক তানভীর হাসানের হ্যান্ডকাফ পরা ছবি দেখতে হলো আমাদের। পুলিশ ভ্যানের ভেতর লোহার শিকলের জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে থাকা অসহায় রোজিনা ইসলামের ছবি দেখেছি আমরা,এই আইনের অপব্যবহার করে এবার এক নারীদেহ ও মাদক ব্যবসায়ী,মামলা ঠুকে দিলেন।এক কথায় কণ্ঠরোধ আর ভয় দেখানোর এক হাতিয়ার ও কিছুটা তামাশায় পরিণত হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

সরকার এক দুষ্টচক্রের হাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তুলে দিয়েছে।ব্যস,কোথাও কোনো নিউজ কারো বিপক্ষে গেলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ঠুকে দাও,

যতই দিন যাচ্ছে,সাংবাদিকদের শৃঙ্খলিত করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।আমরা আবারও আইনটি বাতিলের দাবি করছি।

সাংবাদিকরা যে প্রতিনিয়ত সমাজের বেসুমার অন্যায়-অনাচারের খবর তুলে ধরে সকলের উপকার করছেন,সাংবাদিকতার কট্টর সমালোচকও তা অস্বীকার করতে পারবেন না৷অথচ সাংবাদিকদেরই যেন কোনো বন্ধু’ নেই৷পুলিশ প্রশাসন বৈরী হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সহায়তার হাতে বাড়ায়।আবার রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৈরী হলে পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়।অনেক সময় কোনোটাই পাওয়া যায় না।

সন্ত্রাসী,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এমনকি রাজনৈতিক নেতা,জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত সুযোগ পেলে সাংবাদিকদের ওপর ঝাল মেটায়। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাউকে ছাড় না দিয়ে একজন সাংবাদিককে ঘুষ-দুর্নীতি,অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে হয়। আর তাতেই ক্ষেপে যান সংশ্লিষ্টরা।কখনো জীবন কেড়ে নেওয়া,কখনো শরীরে হামলা, আবার প্রায়শই সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে অহরহ।

বাংলাদেশে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার বহু নজির অতীতে রয়েছে। সাংবাদিক দমন করতে হরেক রকমের মামলার ভূরিভূরি নজীর আছে এদেশে। ত্রাণচোর ও চালচোরের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কপালে জুটেছে,হামলা মামলা গ্রেফতার ও জেল-জুলুম দুর্নীতির বরপুত্রদের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে কপালে জুটেছে সরকারি খড়গ।সত্যিই বাংলাদেশে পত্রিকার স্বাধীনতা থাকলেও সাংবাদিকরা পরাধীন।

লেখক গোলাম মোস্তফা, গণমাধ্যমকর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *