মো.সোহেল রানা, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
পদ্মা সেতুপথের বহুকাঙ্ক্ষিত কার্পেটিং বা পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১০ নভেম্বর) ৯টা ৪০ মিনিটে সেতুটির ৪০ নম্বর খুঁটির কাছ থেকে এই ঢালাই কাজ শুরু হয়।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সকাল থেকেই এ কাজ মনিটর করছেন বলে জানাগেছে ।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, প্রায় ৩০০ মিটার পিচ ঢালাই করা হবে। বর্তমানে আড়াই ইঞ্চি পুরু ঢালাই করা হচ্ছে। পরে এর ওপর আরও দেড় ইঞ্চি ঢালাই করা হবে। নিয়মিতভাবে ঢালাই করলে সম্পন্ন হতে প্রায় চার মাস লাগবে।
আগেই ৪৩০ মিটার এলাকা পানিরোধী প্রলেপ দিয়ে পিচ ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। তবে আজ ঢালাইয়ের প্রথম দিনে এই ৪৩০ মিটার এলাকায় কার্পেটিং করা সম্ভব না হলেও অন্তত ১০০ মিটার এলাকায় কার্পেটিং করা হবে। পানিরোধী প্রলেপের ওপর আরও দুই স্তরে ১০০ মিলিমিটার পুরুত্বে পিচ ঢালাই করা হবে। তবে প্রথম দফায় ৬০ মিলিমিটার এবং দ্বিতীয় দফায় বাকি ৪০ মিলিমিটার পুরু দ্বিতীয় দফায় প্রলেপ দেওয়া হবে।
দেখা গেছে, বিশ্বমানের এই কার্পেটিংয়ের কাজ ঘিরে পদ্মা সেতু এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সেতুর জাজিরা প্রান্তে কার্পেটিংয়ের জন্য যাবতীয় মালামাল ও উপকরণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কার্পেটিং ছাড়াও পদ্মা সেতুর প্যারাপেট ওয়াল ও ডিভাইডারেও কাজ চলছে পুরোদমে। চলছে নদী শাসনের কাজও। আর নিচতলার পূর্ব পাশে গ্যাস লাইন স্থাপনের কাজও পুরোদমে চলছে।
জাজিরা প্রান্ত থেকে গ্যাস লাইনের কাজ শুরু করার পর এখন দ্রুত কাজ শেষ করতে মাওয়া প্রান্ত থেকেও গ্যাস লাইন স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। সেতুর নিচতলার পূর্ব পাশ দিয়ে গ্যাস লাইন আর পশ্চিম পাশে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুকে যান চলাচলের উপোযোগী করার ক্ষেত্রে বাকি ছিল পিচ ঢালাইয়ের কাজ।
এর মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে লক্ষ্য অর্জনের মুকুটে আরেকটি পালক যোগ হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রে যানা যায়, ইতোমধ্যে মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ৯৫ শতাংশ। প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে। আর নদী শাসন কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৬ শতাংশ। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়কের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।
আগামী বছরের জুন মাসের আগেই পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদ্মা সেতুপথের কার্পেটিং বা পিচ ঢালাইয়ের কাজ ৪০ নম্বর খুঁটির কাছে শুরু হয়। চার লেনের সেতুটির মাঝখানে ডিভাইডার দেওয়া আছে। তাই পশ্চিম প্রান্তে এ কার্পেটিং শুরু হচ্ছে।
এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে সেতুর ৪০ নম্বর খুঁটির কাছে ৬০ মিটার অংশে কার্পেটিং হয়েছিল। এরপর থেকেই মুন্সীগঞ্জের দিকে কার্পেটিং এগোতে থাকবে। এই কাজকে ঘিরে গেল ২০ অক্টোবর পানিপ্রতিরোধী প্রলেপ (ওয়াটারপ্রুফ লেয়ার) দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply