চাটমোহর ( পাবনা) প্রতিনিধিঃ
সব্জির জগতে আমরা অনেক রকম অপ্রচলিত সব্জির নাম শুনে থাকি। গাছ আলু তেমনি একটি সব্জি। পাবনা চাটমোহরে পাবনাইয়া আলু নামে পরিচিত। বাণিজ্যিক ভাবে এ সবজির চাষাবাদ খুব একটা দেখা না গেলেও চাটমোহরে প্রায় প্রতিটি বাড়ির চারপাশে, গাছের নিচে, আঙিনায়, বেড়ার ধারে প্রাকৃতিক ভাবেই জন্মে ও বেড়ে উঠে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পাল্লা দিয়ে মানুষ নানাবিদ প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ভুমির ব্যবহার বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে গ্রাম অঞ্চলে বাড়ির সামনে আঙিনা এবং ঘরের পাশে ঝোপ-ঝাড়ও হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের ভ‚মি চাহিদা বাড়ার প্রভাবে পুষ্টি গুণে ভরা লতানো এই গাছ আলু গাছ এখন বিলুপ্তির পথে।

এই গাছ আলু ওল, গোল আলু এসব সবজির মতোই ভর্তা, মাছ ও মাংসের সাথে রান্না করে খাওয়া যায়। তবে সিদ্ধ করে ভর্তা করে বেশি খেয়ে থাকি, আলুটি খুব সুস্বাদু ও মুখরোচক। সামান্য আঠালো এবং অল্পতেই সিদ্ধ হয়।

উপজেলার গুনাইগাছা গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস প্রাং তার বাড়ির পাশের একটি জমিতে খরিপ-১/২০২১ মৌসুমে একটি প্রদর্শনী প্লটে স্থানীয় জাতের গাছ আলু চাষ করেছেন। গত ২৬ মার্চ প্রদর্শনীটি স্থাপন করা হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাটমোহর পাবনা প্রদর্শনীটি বাস্তবায়ন করছেন।

গাছ আলু চাষী আব্দুল কুদ্দুস জানান, এবারই প্রথম বাড়ির পাশের ৭ শতাংশ জায়গায় গাছ আলু চাষ করেছেন তিনি। লতাগুলো একটি মাচায় তুলে দিয়েছেন তিনি। মাচা ছাড়াও পাশের বিভিন্ন রকমের গাছে উঠে গিয়েছে গাছ আলুর অসংখ্য লতা। ইতিমধ্যে লতাগুলোতে আলু ধরতে শুরু করেছে।সুস্বাদু এ আলু আমাদের এলাকার বাজারে ব্যাপক চাহিদা আছে এ আলু ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। প্রদর্শনীটি বাস্তবায়নে কৃষি অফিস বিভিন্ন রকমের সার এবং নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ.মাসুম বিল্লাহ জানান, হালকা দো-আঁশ মাটি গাছ আলু চাষের জন্য বেশি উপযোগী। এটি সহজেই যে কোন কাঠের গাছে উঠে যায়। এতে গাছের তেমন ক্ষতি হয় না। তবে ফলদ গাছে গাছ আলুর লতা তুলে না দেওয়াই ভালো। এ সবজি ফসলটি খুব বেশি জায়গা দখল করে না। রোগ বালাই প্রায় নেই বললেই চলে। শীতকালে গাছ মরে যায়। কন্দ থেকে পরের বছর আবার লতা বের হয়। পাবনা এলাকার মানুষ গাছ আলু খেতে খুব একটা অভ্যস্ত নয়। তবে এ সবজীর আবাদ বাড়লে তা সবজির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
এই প্রথম চলতি মৌসুমে চাটমোহরে ২ হেক্টর জমিতে গাছ আলু চাষ হয়েছে। গাছ আলু চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনটি প্রদর্শনী ও স্থাপন করা হয়েছে চাটমোহরে।

Leave a Reply