রতন মহন্ত.সাদুল্লাপুর(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রতিবাদ এবং প্রতিকার দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে হত্যা মামলার দুই আসামীর পরিবার
জোড় পূর্ব তুলে এনে নিজ বতসবাড়ীতে গত ৫ মার্চ হতে আটকিয়ে রেখে নির্যাতন এরপর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে দাদন ব্যবসায়ি মাসুদ রানা। গত ১০ এপ্রিল মাসদু রানা বসতবাড়ী হতে ব্যবসায়ী হাসান আলী ঝুলান্ত মরদেহ উদ্ধার করার পর হতে গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশের পর নজরে আসে জনসাধারণের আইন শৃংখলা বাহিনীর। ব্যবসায়ি হাসান আলী হত্যা মামলায় ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন নিহত ব্যবসায়ি হাসান আলীর স্ত্রী বিথি বেগম। এ মামলায় উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও হয়রানীমূলকভাবে জুতা ব্যবসায়ী শহরের ডেভিড কোম্পানীপাড়ার রুমেন হক ও খলিলুর রহমান বাবুকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করার প্রতিবাদ এবং প্রতিকার দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শহরের পাদুকা ব্যবসায়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং পরিবারের সদস্যরা এই সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করে। গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের সম্মুখস্থ সড়কে তারা মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন।
রুমেন হকের স্ত্রী নদী বেগম ও খলিলুর রহমান বাবুর স্ত্রী সোহাগী বেগম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রুমেন হক ও খলিলুর রহমান বাবু দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা শহরে সুনামের সাথে জুতা-স্যান্ডেলের ব্যবসা করে আসছে। প্রকৃত বিষয় হচ্ছে যে, আফজাল সুজের সাবেক ডিলার হাসান আলী নিহতের ঘটনায় রুমেন হক ও খলিলুর রহমান বাবুর কোন রকম সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্যেমূলক, হয়রানী ও ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই মুলত তাদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে। ৎআফজাল সুজের সাবেক ডিলার নিহত হাসান আলী ব্যবসা করে আসছিল। কিন্তু’ আফজাল সুজের ডিলারশীপের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আফজাল সুজ কর্তৃপক্ষ খলিলুর রহমান বাবুকে ডিলারশীপ প্রদান করে। এখানে খলিলুর রহমান বাবু ও রুমেন হকের সাথে নিহত হাসান আলীর ডিলারশীপের বিষয়ে কোন সম্পৃক্ততাও নেই বলে দাবী করেন উক্ত হত্যা মামলার দুই আসামীর পরিবার ও স্বজন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো উল্লেখ করেন, নিহত হাসান আলীকে অপহরণ করে দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা তার বাড়িতে আটকে রেখে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। গত ১০ এপ্রিল মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসান আলীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উল্লেখিত মামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এটা সুস্পষ্ট যে, ওই হত্যাকান্ডের সাথে মো. রুমেন হক ও খলিলুর রহমান বাবু কোনক্রমেই জড়িত নয়। তাদেরকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর জন্য মামলার আসামি করা হয়েছে। এব্যাপারে প্রকৃত ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে রুমেন হক ও খলিলুর রহমান বাবুকে এই হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার অনুরোধ জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রুমেন হকের মেয়ে সুমনা আকতার, রুমেনের ভাই মো. রাজেন মিয়া, রুবেল হক, সাজেদুল হক সূর্য্য, খলিলুর রহমান বাবুর শ্বশুর দেলোয়ার হোসেন, মেয়ে নির্জনা আকতার, আলমগীর হোসেন, খোকন মিয়া, ইলি আকতার প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *