মিরু হাসান বাপ্পী
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

প্রতি বছরই পদ্মার ভাঙনের কথা আমরা শুনি। ভাঙনের সেই দুঃখ ঝড়া সময়ে অসংখ্য মানুষের ক্রন্দন ধ্বনি ধ্বনিত হয় এই বাংলাদেশে। প্রতি বছর সর্বনাশা পদ্মার ভাঙনে জীবনের সবটুকু স্বপ্ন হারিয়ে নিঃস্ব হয় অগণিত মানুষ। তাদের গগন বিদারী হাহাকারের প্রতি ধ্বনি বিদির্ণ করে আমাদের হৃদয়।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডে বশিপুর সরদার পাড়ায় অবস্থিত সরদার পুকুর নামে পরিচিত এই পুকুরটি যেন প্রমত্তা পদ্মার দ্বিতীয় সংকলন। পরিকল্পিত উপায়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে পৌরসভার সমস্ত নিয়ম বিধি অগ্রাহ্য করে মাছ চাষ করে পুকুরটির পাড়ের বসত ভিটা, কবরস্থান আজ পুকুরটির জলগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। পৌরবিধি অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর পাড় নির্মাণ সহ সমস্ত সুযোগ সুবিধা তৈরি করে পুকুরে মাছ চাষের নিয়ম। অথচ আবাসিক এলাকায় পুকুরটির অবস্থান হওয়া স্বত্বেও বছরের পর বছর পাড় নির্মাণ না করে, পরিকল্পিত উপায়ে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে মাছ চাষ করছে কিছু মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরটির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত জিল্লুর রহমানের বাড়িটি ও তাদের পারিবারিক কবরস্থানটি আজ হুমকির সম্মুখীন। তাদের বসত ভিটার প্রায় অর্ধেক অংশ জলগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। বশিপুর সরদার পাড়া মহল্লার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান লিটন বলেন, জন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় দরুণ অতি স্বত্বর সমস্ত মাছ চাষ বন্ধ পূর্বক পুকুরের পাড় নির্মাণ করতে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পৌর মেয়রের দৃষ্টি আর্কষন করছি।

এ ব্যাপারে জিল্লুর রহমান বলেন আমরা বার বার পুকুরের মালিকদের বলা স্বত্বেও তারা এ ব্যাপারে কর্ণপাত করছেন না। বরং মাছ চাষের জন্য তিন বছর মেয়াদী ইজারা দিচ্ছেন। এতে আমি নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করলেও তাদের পাড় না থাকার জন্য ধ্বসে যাচ্ছে। আমি পৌর মেয়র বরাবর একটি আবেদন দিয়েছি।

পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু আবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, তড়িৎ গতিতে আবেদন আমলে নিয়ে মালিকদের বরাবর নোটিশ দিয়েছেন। আগামীকাল তাদের সবাই কে ডেকেছি। পৌরবিধি অনুযায়ী পুকুরের পাড় বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে আলাচনা অন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *