মিরু হাসান বাপ্পী
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

১৮ বছরের আগে বিয়ে নয়, একুশের আগে সন্তান নয়, বাল্যবিয়ে সামাজিক ব্যাধি, সবাই মিলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করি’ এই শ্লোগানে সরকার নানা রকম কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে কঠোর নির্দেশ থাকলেও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে বগুড়ার আদমদীঘিতে একটি বাল্য বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বাল্যবিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদ জানানোর পরও ওই বিয়ে বন্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। বরং তাদের উদাসীনতা আর গাফিলতির সুযোগ নিয়ে গত শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে তড়িঘড়ি করে এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করেছে মেয়ে ও ছেলের পরিবার এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের উৎরাইল গ্রামের আব্দুল লতিফের নাবালিকা মেয়ে ও দশম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ সুরভীর সাথে একই ইউনিয়নের প্রসাদ খালী গ্রামের খোকন সরদারের ছেলে সবুজ হোসেন সেতুর বাল্য বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল উভয়ের পরিবার। বিষয়টি সচেতনমহলসহ কিছু গনমাধ্যমকর্মী জানতে পেরে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করলেও প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। যার ফলে দশম শ্রেণির ছাত্রী এখন বধুবেশে স্বামীর ঘরে সংসার জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরজমিনে স্কুল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোছাঃ সুরভীর উৎরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি পরিক্ষার রেজিষ্ট্রেশন তালিকায় জন্ম তারিখ দেওয়া আছে ৩০ আগষ্ট ২০০৪ সাল। এতে তার বর্তমান বয়স ১৬ বছর ৭ মাস। তাই বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে বিয়ের যাবতীয় কাজ তড়িঘড়ি করে সুরভীকে তার শ্বশুড়বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নিরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দিনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি। পরে থানার উপ-পরিদর্শক সামছুল আলমকে বিষয়টি জানানো হলে দিন পেরিয়ে রাত হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ বিভাগ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন বলেন, বিয়ের সঠিকতা যাচাই অন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়।

এ ব্যাপারে সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলুর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *