মোঃ আবু তৈয়ব. হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

চট্রগ্রামের ফটিকছড়িতে আলমগীর (৩৫) নামে এক যুবককে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কে বা কারা।

সোমবার (৬ জুন) রাত ৯টার দিকে কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ঝরঝরি এলাকার বাহাদুর সর্দারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলমগীর পাইন্দং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের লুলু চৌধুরী বাড়ির ইদ্রিস মিয়া বাহাদুর পুত্র।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস মিয়ার বাড়ি পাইন্দং হলেও ঝরঝরি এলাকায় তাদের রয়েছে একটি খামার বাড়ি। এ খামার বাড়িতে একমাত্র স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন ইদ্রিস মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র আলমগীর। স্ত্রী বাপের বাড়ি বেড়াতে যাওয়াই সোমবার ঘরে একাই ছিলেন আলমগীর। এরমধ্যে হঠাৎ করে রাত ৯টার দিকে নিজেদের বাগানের খোঁজ খবর জানতে খামারে যান ছোটভাই রাসেল।

তিনি ঘরে ঢুকে দেখতে পান আলমগীর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এসময় রাসেল চিৎকার দিলে পার্শ্ববর্তীরা এগিয়ে এসে আলমগীরকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত আলমগীরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জখম রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলমগীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় ঘরের সিড়িতে একটি রক্ত মাখা কুড়াল দেখা গেলেও কিছুক্ষণ পর সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন- এ ঘটনায় নিহতের পিতা ইদ্রিস অজ্ঞাত নামা আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

ঘর থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকান্ড হয়েছে, তা জানার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

ঘটনার ব্যাপারে পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাইন্দংয়ে পৈত্রিক বাড়ি হলেও দীর্ঘকাল ধরে স্বপরিবার খামার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন ইদ্রিস মিয়া বাহাদুর।
চার বছর পূর্বে কাঞ্চননগর ইউনিয়নের খান মুহাম্মদ বাড়ির জানে আলমের মেয়েকে বিয়ে করেন মেঝ ছেলে আলমগীর। বিগত দুই বছর পূর্বে বড় ও মেঝ ছেলেকে খামার বাড়িতে রেখে নিজ গ্রাম পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালীতে চলে আসেন ইদ্রিস। সেখানে দুই পুত্রবধূর মধ্যে ঝগড়া হলে বড় বউকে বাপের বাড়ি সুন্দরপুরে থাকতে বলেন তিনি।

এরপর থেকে ওই খামার বাড়িতে একমাত্র স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন নিহত আলমগীর। পার্শ্ববর্তী টিলায় থাকেন আলমগীরের বোন ও ভগ্নিপতি। এরমধ্যে বিগত আটমাস পূর্বে ছাগলে জমির ধানা খাওয়া নিয়ে ভগ্নিপতির সাথে আলমগীরের কথা কাটাকাটি হয়। জানা গেছে, বাগানের দখলদারিত্ব ও গাছের ফলমূল নিয়ে প্রায় সময় বাপ-ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো।

৪ জুন শুক্রবার পিতা ইদ্রিস স্থানীয় নয়াবাজারে আলমগীরকে তাজ্যপুত্র করবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর কয়েকদিনের মাথায় নৃশংসভাবে খুনের স্বীকার হন আলমগীর।

এদিকে, আলমগীর সহজ-সরল প্রকৃতির ছেলে হওয়ায় স্ত্রী সজিনা তাকে অপছন্দ করতো বলে দাবী করছে আলমগীরের পরিবার। অন্যদিকে, আলমগীর শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় পিতা-মাতা সহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘৃণা ও অবহেলার চোখে দেখত, এমন অভিযোগ স্ত্রী সজিনার।

সহজ সরল আলমগীরকে কে বা কারা খুন করেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্ব, বোন-ভগ্নিপতির সাথে ঝগড়া কিংবা দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *