গোলাম মোস্তফা ফুলপুর প্রতিনিধি:

চতুর্থ ধাপে ফুলপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।এরই মধ্যে দুই দলেরই মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করে নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গতবারের মতো এবারও শশধর সেনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে হাইকমান্ড।প্রায় হাফডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পেছনে ফেলে মেয়র পদে দ্বিতীয়বারের মত নৌকা প্রতীক পান তিনি।

অন্যদিকে মনোনয়ন লড়াইয়ে প্রচার প্রচারণা আর গণসংযোগে এগিয়ে থাকা হেভিওয়েট প্রার্থী রকিবুল হাসান সোহেলকে টপকে শেষ পর্যন্ত বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দিতা করতে মনোনয়ন পেয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি বর্তমান মেয়র মো.আমিনুল হক।

পৌরসভার উন্নয়নের লক্ষ্যে ফুলপুর পৌরবাসী নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলে আশাবাদী শশধর সেন।এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে ফুলপুরের মানুষ দলমত নির্বিশেষে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই পৌরসভাকে উপহার দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে পৌরসভার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ফুলপুর পৌরবাসী তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে তাকে জয়যুক্ত করবে বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন মেয়র প্রার্থী আমিনুল হক।

১৩ জানুয়ারি মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে শশধর সেনের নাম ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার তিন দিন পর ১৬ জানুয়ারী,বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান বর্তমান মেয়র আমিনুল হক।এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চাইছে পৌর ক্ষমতা ফিরে পেতে আর বিএনপি চাইছে পৌর ক্ষমতায় টিকে থাকতে,

কিন্তু অবশেষে জানা যায় দুই দলের গলার কাঁটা হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন সাবেক মেয়র মোঃ শাহজাহান,ও বিএনপির রকিবুল হাসান সোহেল।

স্বতন্ত্র দুই দলের দুই প্রার্থীকেই দলীয় গঠনতন্ত্র দেখিয়ে পরিপন্থী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন দু’দলের দলীয় নেতারা;এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের ওপর বাড়ানো হচ্ছে দলীয় চাপ।আর এতে দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন।কারণ,দলের সমর্থন না পেলেও স্বতন্ত্র ২ প্রার্থীর শুভাকাঙ্ক্ষী হিতৈষীর সংখ্যা দলের ভেতরে ও ভোটের মাঠে কোনও অংশেই কম নয় দাবি তাদের তাই বিদ্রোহী প্রার্থীর পদ থেকে সরে না গেলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে যাওয়ার হুশিঁয়ারিকেও আমলে নিচ্ছেন না তারা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মোঃ শাহজাহানের ভাই যুবরাজ মিজান জানান জনগণের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শাজাহান ভাই।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজকেই বড় ফ্যাক্টর বলে মত তার ব্যক্তির চেয়ে দল বড়,চিরাচরিত এ শ্লোগানের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণও করেন তিনি।

তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়া মনোনয়ন বঞ্চিত রকিবুল হাসান সোহেলে তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ভোটাররা যাকে চাইবেন,তাকেই নির্বাচিত করবেন।’নির্বাচন থেকে সরে আসবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।তার সমর্থক মিজান আকন্দ জানান দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী মানতে নারাজ তারা।বিদ্রোহী প্রার্থী নন উল্লেখ করে তিনি বলেন,দলীয় প্রার্থী হিসেবে আমরা মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবার এটা জন দাবি ছিল।কিন্তু দল দেয়নি।দল দলের মতো ভেবেছে,তবে জনগণের দাবি আছে আমাদের ওপর।তাই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বদলাবে না তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আমাদের প্রার্থী।আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবো।

পৌষের কম্পন শীতে মুখে হাসি,বুকে কাশি অবস্থা প্রার্থীদের।তীব্র শীত উপেক্ষা করে ঘরে ঘরে গিয়ে এত যে মিনতি,এত যে করমর্দন,তার জবাবে ভোটারের মিষ্টি হাসি ছাড়া পরিষ্কার কিছুই এখনো দৃষ্টিগোচর নয়।তবে নৌকা ও ধানের শীষের গদবাধা আবর্তে সুবিধা করতে পারবে না স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অথবা গোদের উপর বিষফোঁড়া হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এমনটাই মতামত বিজ্ঞজনের।

আর সাধারণ ভোটাররা বলছে প্রচার-প্রচারণার দিক দিয়েও এগিয়ে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী।তবে দুই দলেরই জয়ের পথে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে দুই দলের দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী।

Leave a Reply