বাহার উদ্দিন, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ফুলপুরে আজ ২৩-০১-২০২১ ইং তারিখ রোজ শনিবার
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে পাকা ঘর পেল ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাটপাগলা,রামভদ্রপুর, বওলা,ধলী,নগুয়া,ছোট শুনুই,সালজান বালিয়া,দোয়াই সহ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের ৯৭টি হতদরিদ্র পরিবার।আজ সকাল দশটায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের নিকট গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন।

উপজেলা প্রশাসনের হলরুম কক্ষে অনুষ্ঠিত শুভ উদ্বোধন কার্যক্রমের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেশ চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফ আহমেদ এমপি মহোদয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গৃহ গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফ আহমেদ এমপি মহোদয় ভুক্তভোগী কুলসুম জমেলা ও সীতেশ ক্ষত্রিকে নির্মিত ঘরের চাবি,জমির কবুলিয়ত-দলিল,নামজারী খতিয়ান,ডিসিআর এর কপি এবং ঘর প্রদানের সনদ সমন্বয়ে সজ্জিত ফোল্ডার হস্তান্তর করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন-২ প্রকল্প এর আওতায় উপজেলার সরকারি খাস জমিগুলোতে নির্মান করা হয়েছে এসব ঘর।ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেশ চন্দ্র সরকারের প্রত্যক্ষ তদারকির মাধ্যমে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে ঘর নির্মানের কাজ।আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজের মান ঠিক রাখার জন্য কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তা,প্রকৌশলী, রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও রাখা হয়েছে। নিয়মিত নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট এ সেমিপাকা ঘরগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।দুই শতাংশ খাসজমির ওপর ১৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থের দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা।ঘর রেজিস্ট্রি করা হবে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে।দলিলে দুজনেরই নাম ও ছবি থাকছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে গৃহহীন পরিবারগুলোর মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।স্বপ্নের ঠিকানায় স্বপ্নের নীড় পেয়ে উল্লাসিত ও আনন্দিত আশ্রয়ন প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হতদরিদ্র অসহায় পরিবারগুলো।

এই প্রকল্পের ভিক্ষুক,প্রতিবন্ধী,বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা,প্রবীণ ভূমিহীন ব্যক্তিদের উপকারভোগী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে।একটি ঘর শুধু একটি আশ্রয়স্থল নয়, যার কিছুই ছিল না এই ঘরটি তার জন্য আত্মমর্যাদার।৯৭ টি গৃহহীন সদস্য পেল আশ্রয়স্থল।ফলে ওই পরিবার হয়ে উঠবেন আত্নপ্রত্যয়ী এবং খুঁজে পাবেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অবলম্বন।

এখনও দেশের প্রায় নয় লাখ পরিবার গৃহহীন।তাদের জন্য স্বস্তি হয়ে এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার।মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহ ও ভুমিহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দিচ্ছে সরকার।

দেশের সকল ভুমিহীন-গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহ প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে মুজিববর্ষে ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্প গ্রামে ৭শ’ ৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।একই সাথে ৬৪ জেলায় ৬৯ হাজার ৯০৪ জন ভুমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদানের ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম।

ভুক্তভোগী সীতেশ ক্ষত্রিয় কুলসুম আক্তার ও ঝামেলা খাতুন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান সারা জীবনের চেষ্টায়ও যে মাথা গোজার ঠাঁই করতে পারেননি,অনায়াসে স্বপ্নের সেই বসত ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন তারা।

সবশেষে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী জনাব শরিফ আহমেদ এমপি মহোদয় উক্ত সভায় -জয় বাংলা, জয় বঙ্গ বন্ধু শ্লোগান
কে ব্যাক্ত করে অনুষ্ঠান শেষ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *