বাহার উদ্দিন, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) জেলা প্রতিনিধিঃঃ

বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার ১নং ছনধরা ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ডের বাইনজার গ্রামে অদ্য ১৯-০৪-২০২১ ইং তারিখ রোজ সোমবার এক দরিদ্র কৃষক আবু বক্করের ৪৮ শতাংশ জমির ধান কেটে মানবিক পরিচয় দিলেন ফুলপুর উপজেলা ছাত্র লীগ নেতাকর্মীরা।বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী (ফুলপুর -তারাকান্দা) কৃতি সন্তান জনাব শরিফ আহমদ এমপি মহোদয় এর নির্দেশনায় ছাত্রলীগ কর্মী আল-আমিনের নেতৃত্বে কোভিড-১৯, দ্বিতীয় ঢেউ এর মাঝে অসহায় গরীব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গরীব কৃষকের ধান কেটে দিল ছনধরা ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতী করোনা ভাইরাস দ্বিতীয় ঢেউ এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। বিপাকে শ্রমজীবীরা। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে জেলায় উপজেলায় চলছে লকডাউন। বাহিরের জেলার সাথে ময়মনসিংহের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করা হয়েছে। একপ্রকার ঘরবন্দী জীবন যাপন চলছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের। কর্ম না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের। ঘরে বন্দী থেকে তারা এখন অসহায়। এ বন্দীদশা থেকে কবে মিলবে মুক্তি না কেউ বলতে পারছে না।

এরইমধ্যে বোরো মৌসুমের ধান পাকতে শুরু করেছে। লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকটে পড়েছে। তবে ধানের বাম্পার ফলন হলেও করোনা আতঙ্কে ধানকাটা শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে ধান কাটা মাড়াইয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা বাংলাদশে ছাত্রলীগের কর্মীরা অসহায় মানুষের ধান কেটে দিচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফ আহমেদের নির্দেশে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা ছাত্রলীগের এর উদ্যোগে আজ ১নং ছনধরা ইউনিয়নের বাইনজার গ্রামের কৃষক আবু বক্করের এর প্রায় ৪৮শতাংশ জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ছাত্রলীগের এমন উদ্যোগকে প্রশংসা করছেন এলাকার লোকজন।

ছাত্রলীগরা এসে ধান কেটে দেয়ায় এসময় কৃষক আবু বক্কর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন , শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পাকাধান কাটতে পারছিলাম না। এলাকায় যে পরিমাণ শ্রমিক আছে মজুরি অনেক বেশি । আকাশের অবস্থা মাঝে মধ্যে খারাপ হচ্ছে। ঝড় হলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। পড়ে তার এই দুঃখের কথা জেনে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোন টাকা পয়সা ছাড়াই ধান কেটে দিতে বাড়িতে পৌঁছে দেন । তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা যেভাবে আমার ধান কাটতে সাহায্য করেছে তা ভুলার মত নয়। আমি মন থেকে দোয়া করি যেন তারা এভাবেই সারা জীবন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

ফুলপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মীদের মাঝে আল-আমিন মন্ডল ও মেহেরাজ আহমেদ শাকিল সহ অনান্য সদস্যরা বলেন , করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অন্য জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিক না আসায় বিপাকে কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষক ধান কাটতে পারছেন না। এই করোন মহামারিতে অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষকদের পক্ষে শ্রমিকদের মজুরি দেয়া কষ্টসাধ্য। আমাদের পক্ষ থেকে ওইসব কৃষকদের সহযোগীতা করা হচ্ছে। আগামীতে অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষকদের সহযোগীতা অব্যহত থাকবে। যে কোন কৃষক শ্রমিক সংকটে যদি ধান কাটতে না পারেন তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা সেই কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়ে আসবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *