ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

ফুলপুর থানা ৪ নং সিংহেশ্বর ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে ভুট্রোর মেয়ে আমেনা খাতুন (৩১) গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
মৃতের লাশ নিয়ে আসে কুঠুরা কান্দ গ্রামে আব্দুর রহমানের বাড়িতে। নিহতের গোপনাঙ্গে যখন ও রক্তের দাগ দেখে মৃত্যুটি রহস্যজনক বলে লাশ দাফন করা হয়নি।
ফুলপুর থানা মেয়েটির রহস্যজনক মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ২/২/২০২১ বিকেল ৫ টার সময় ফুলপুর থানার এসআই মনোরঞ্জন, এসআই কবিরুল ইসলাম, ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল করে।
মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে ফুলপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
ফুলপুর থানার অপমৃত্যু মামলা নং ০৩/২১ তারিখঃ০২/০২/২০২১ সংবাদদাতা আবিদুর রহমান পিতা মৃত মহির উদ্দিন কুটুরাকান্দা।
আমেনা খাতুনের পিতা বলেঃ গত ১৭ ই জানুয়ারি বাড়ি থেকে মোবাইল করে আমেনা খাতুন কে নিয়ে যায় সনঞ্চুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক। বিষয়টি এলাকাতে জানাজানি হয়ে যায়।
আব্দুর রাজ্জাক আমেনা খাতুন কে জৈনা বাজার এলাকায় এক বাসা ভাড়া রেখে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বলে মোবাইল ফোনের ১৮ মিনিট রেকর্ডিং থেকে মৃত আমেনার ছোটবোন রোজিনা খাতুন জানায়।
আব্দুর রাজ্জাক আমেনা খাতুন কে ভাড়া বাসায় রেখে তিনদিন তিনরাত স্বামী স্ত্রীর নেয় সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে অপকর্ম করে। চলে আসে ফুলপুর সনঞ্চুর গ্রামে। রাতে সনঞ্চুর গ্রাম থেকে দীর্ঘ সময় তার সাথে কথা হয় বলে আমেনা খাতুন এর ছোট বোন রোজিনা খাতুন জানায়।
গত ৩০/০১/২০২১ জানুয়ারি সনঞ্চুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন, নাজমুল সহ সঙ্গীয় লোকজন নিয়ে আমিনা খাতুন কে অজ্ঞান অবস্থায় ফুলপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। ফুলপুর হাসপাতালে ভর্তি রেজিস্টার নং ৩১৩৭/৩১৩৭/৩৭ তারিখঃ ৩০/০১/২০২১ সময় সন্ধ্যা ৭ঃ১৫ মিঃ। ফুলপুর হাসপাতালে আমেনা খাতুন কে ভর্তির সময় আনয়ন কারী হিসেবে একটি মোবাইল নাম্বার দেয় নাম্বার মোবাইল নং ০১৭২৯ ৬৯ ৪৮ ৯৫।
এই ব্যাপারে গিয়াস উদ্দিন মেম্বার মোবাইল ফোনে বলে ফুলপুর থানা রোডের মাথায় ফলের দোকানের সামনে সন্ধ্যার সময় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিনতে পেরে।
নাজমুল আর সে আমেনাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। কার দোকানের সামনে থেকে অজ্ঞান অবস্থায় আমেনাকে পেয়েছে সেই কথা গিয়াসউদ্দিন মেম্বার বলতে পারেনা। এখানে হত্যার রহস্য দানা বাঁধে। সন্ধ্যার সময় ফুলপুর বাস স্টেশনে ফলের দোকানের সামনে শত মানুষের ভিড় ছিল।
ফলের দোকানের সামনে অজ্ঞান অবস্থায় মেয়েটি পড়ে রইল অন্য কেউ দেখল না দেখতে পেল শুধু সনঞ্চুর গ্রামের রাজ্জাকের বাড়ির পাশের গিয়াস উদ্দিন মেম্বার আর নাজমুল।
অজ্ঞান অবস্থায় আমিনা খাতুন কে ফুলপুর হাসপাতালে ভর্তি করে মোবাইল ফোনে আমেনার মায়ের সাথে গিয়াস উদ্দিন মেম্বার জানায় তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ ফুলপুর হাসপাতালে ভর্তি আছে। গিয়াস উদ্দিন মেম্বারের মোবাইলে সংবাদ আমেনার মা তাৎক্ষণিকভাবে ফুলপুর হাসপাতালে পৌঁছায় এবং মেয়েকে অজ্ঞান গোপনাঙ্গে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পরনের কাপড়ে পায়খানা দেখতে পায়। রক্ত বন্ধের জন্য কয়েকটি ডায়পট পরিবর্তন করে দেয় বলে ছোট বোন রোজিনা জানায়। পরদিন তার জ্ঞান ফেরেনি ফুলপুর হাসপাতালে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাঃ জাকির হোসেন আমেনা কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১/০১/২০২১ তারিখ রেফার্ড করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২/২/২০২১ তারিখ রাত আনুমানিক ১ টার সময় আমেনা খাতুন মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুর পর লাশ নিয়ে কুঠুরাকান্দা গ্রামে আসে। বুকের আঘাতের চিহ্ন এবং গোপনাঙ্গে যখন এবং রক্ত অবস্থা দেখে গ্রামের মানুষ লাশ মাটি দিতে অনীহা প্রকাশ করে। ফুলপুর থানার সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে
লাশের সুরতহাল করার সময় বুকে আঘাতের চিহ্ন গোপনাঙ্গের রক্ত এবং জখম আছে বলে জানায় সুরতহাল কারী অফিসার এসআই মনোরঞ্জন ও এস আই কবিরুল ইসলাম। আমেনার পরিবার সূত্রে জানা যায় আব্দুর রাজ্জাক তাদের বাড়িতে আসত তাদের সন্দেহ আব্দুর রাজ্জাক আমিনাকে ঢাকা নিয়ে গেছে। আমেনা খাতুন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল সিম বন্ধ পায়।
অজ্ঞান অবস্থায় ফুলপুর হাসপাতালে আমেনা খাতুন কে ভর্তি করলে তার সাথে যে মোবাইল ফোনটি পাওয়া গিয়েছে সেই মোবাইল ফোনের নতুন সিন কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে।
আমেনার ব্যবহৃত মোবাইল রেকর্ডিং থেকে জানা যায় রাজ্জাক তার সাথে ভাড়া বাসায় অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। রাজ্জাকের কাছে আমেনা হত্যার সমস্ত গোপন তথ্য রয়েছে বলে মোবাইল রেকর্ডিংয়ে প্রমাণ মিলে।
তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী বঙ্গবন্ধু সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নিকট আমেনা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ।
ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন বলেন আমেনা খাতুন এর মৃত্যু সন্দেহজনক হওয়ায় তার লাশ সুরতহাল করে মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *