মিরু হাসান বাপ্পী
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার মহাস্থানে পূর্ব শক্রতার জের ধরে পুত্রবধু ও শাশুড়ীকে মারপিটের ঘটনায় মহাস্থানের কসমেটিকস ও পান দোকানদার আনিছুর রহমান মিটুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান গ্রামে।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, মহাস্থান গ্রামের ডাকবাংলোর নৈশ প্রহরী মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের পুত্র পান ও কসমেটিক্স দোকানদার আনিছুর রহমান মিঠু একই এলাকার দুদু মিয়ার পুত্র মিল্লাতের সাথে মাঝে মধ্যেই কারণে অকারণে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ এপ্রিল বিকালে মিঠু তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে মিল্লাতের অনুপস্থিতিতে তার মা মিনারা বেগম (৫৫) ও স্ত্রী লাকি বেগম (২৪) কে দেশীয় লাঠি-শোটা, লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্যেশ্যে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এসময় আসামী মিটু মিল্লাতের মায়ের গলায় থাকা ৮ আনা স্বর্ণের চেইন, তার স্ত্রীর হাতে থাকা দামী একটি স্মার্ট ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মিল্লাতের মা ও স্ত্রীকে স্থানীয়রা মুমুর্যু অবস্থায় উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। এব্যাপারে মিল্লাত বাদী হয়ে মিঠু, ঝরনা আক্তার, অঞ্জনাকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। শিবগঞ্জ থানার এস আই বিরঙ্গ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বগুড়ার মহাস্থান এলাকার কথিত সাংবাদিক, ডাকবাংলো রোডের কসমেটিকস ও পানের দোকানদার মিটুর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, অপহরণ, মারপিট ও ছিনতাই অভিযোগে কমপক্ষে চারটি মামলা রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে পুলিশ সাংবাদিকদের আরো জানায়, মহাস্থান প্রেসক্লাবের সভাপতির পরিচয়ে আনিছুর রহমান মিটু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। সূত্রটি আরো জানায়, মিটু ও তার ভাই মহাস্থান ডাকবাংলোর নৈশপ্রহরী শাহজাহান আলী তাদের মৃত পিতা জাহাঙ্গীর হোসেনের পথ ধরে সরকারী ডাকবাংলোয় অনৈতিক ব্যবসা দেদরছে চালিয়ে গেলেও জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না বলে অনেকেরই অভিযোগ।

এদিকে ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী মিল্লাতের স্ত্রী ও মায়ের অবস্থা আশাজনক। তাদের শিবগঞ্জ হাসাপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান মামলার বাদী মিল্লাত হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *