মিরু হাসান বাপ্পী
বগুড়া প্রতিনিধি:

আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বগুড়া জেলার আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর ব্যাপক দরপতন হয়েছে। খুচরা বাজারে গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। তবে পাইকারিতে আলুর দাম আরও কম। পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা কেজি দরে।

এদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে রাখা অবধি প্রতি কেজি আলুতে খরচ হয়েছে ১৮ টাকা। কিন্তু সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১০-১১ টাকা দরে। এতে করে প্রতি কেজিতে ৮ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ মৌসুমে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ হাজার মেট্রিক টন। শেষ পর্যন্ত বগুড়ায় গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বগুড়া সদর উপজেলার বারপুরের এক আলু চাষি জানান, গত বছর মৌসুমের সময় বগুড়ার খোলা বাজারে একেবারে ভালোমানের আলু ২৮ থেকে ৩০ টাকা আর স্বাভাবিকভাবে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬
টাকা কেজি। সেই আলু চলতি বছর এসে বর্তমানে কোল্ডস্টোরে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১০ টাকা কেজিতে। এই আলু কোল্ডস্টোরে সংরক্ষণ করার সময় খরচসহ ব্যবসায়ীদের পড়েছে প্রায় ১৭ টাকা কেজি।
বগুড়ার সবজিবাজার খ্যাত মহাস্থান বাজারে আলু কিনতে আসা আলাল হোসেন, আব্দুর বারিক, লোকমান হোসেন জানান, মহাস্থানহাটে আলু পাইকারিভাবে ১২ টাকা কেজি আর খুচরা বাজারে ১৪ থেকে ১৫ টাকা আর কিছু ভালো মানের আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি। আলুর দাম গত পনের দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি। সেই আলুর দাম হঠাৎ করে কমে এসেছে।

গুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ দুলাল হোসেন জানান, এ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আলুর বাজারমূল্য কমে গেছে। যারফলে হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু খালাস না করলে ব্যবসায়ীদের আরও লোকসান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *