মিরু হাসান বাপ্পী
বগুড়া প্রতিনিধি:

ঋণের বোঝা সইতে না পেরে বগুড়ার শেরপুরে মো. নুর আলম (৩৮) নামের কৃষক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নুর আলম পেশায় একজন কৃষক। নিজের ও অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ্ করতেন। কিন্তু বেশকিছুদিন ধরেই সংসারিক খরচের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে একাধিক এনজিও ও বিভিন্ন দাদন ব্যবসায়ীর নিকট থেকে চড়া সুদে কয়েক লাখ টাকা ঋণ করে বসেন। নিদিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও ঋণের ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। কিন্তু টাকার জন্য পাওনাদারদের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড রকম চাপ দেওয়া হয়। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। এমনকি পাওনাদারদের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার ফসলি জমিতে বিষ দিতে গিয়ে নিজেই বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তার গোংরানির শব্দে মাঠে কাজ করা অন্যান্য ব্যক্তিরা এসে কৃষক নুর আলমকে উদ্ধার করে করে বাড়িতে পৌঁেছ দেন। এরপর পরিবারের লোকজন তার বিষপানের ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিক বগুড়ায় শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষক নুর আলম মারা যান।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এই ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু দায়ের হয়েছে। অতিরিক্ত ঋণের বোঝা সইতে না পেরে কৃষক নুর আলম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। তাই খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply