মিরু হাসান বাপ্পী
বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ায় হঠাৎ করেই ডিমের দাম বেড়েছে । বৃহস্পতিবার বাজারে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম বেচা হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। কোনও কোনও এলাকায় আরও বেশি দরে। অথচ তিন থেকে চার দিন আগেও হালি প্রতি দাম ছিল ৩২ থেকে ৩৩ টাকা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সরকারের বাজার মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে অবৈধ মুনাফা করছে। তবে বিক্রেতারা অবশ্য দাবি করছেন আমদানি কম এবং মুরগীর খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমের দাম বাড়ছে।

কোনও কোনও খুচরা বিক্রেতার দাবি, পাইকাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের করার কিছু নেই।

তবে বগুড়ায় কয়েকদিনে মাছ, মুরগীসহ বিভিন্ন শাক সবজির দামও বেড়েছে। এর কারণে ডিমের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে ডিমের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেছে বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষ।

সুমন নামের এক ক্রেতা জানান, গত সপ্তাহেও ৩৩ টাকা হালি ডিম কিনেছি। আজ এসে দেখি ৩৮ টাকা হালি। এখন বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে।

ক্রেতা রেহেনা বেওয়া জানান, মাছের দাম বাড়তি, শাক সবজির দাম বাড়তি। এর সাথে ডিমও যোগ হলো। কারও কোন নজর নেই। আমরা ক্রেতারাই বার বার ভুক্তভুগী হচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজাবাজারে এক বিক্রেতা জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর ৮ টাকা ১০ পয়সা, ১৩ সেপ্টেম্বর ৮ টাকা ২৭ পয়সা, ১৪ সেপ্টেম্বর ৮ টাকা ৩৪ পয়সা, ১৫ সেপ্টেম্বর ৮ টাকা ৬৭ পয়সা এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ৮ টাকা ৯২ পয়সা দরে প্রতি পিস ডিম কিনতে হয়েছে। এজন্য বাধ্য হয়েই আমরা ৯ টাকা পিস ডিম বিক্রি করছি।

ফতেহ আলী বাজারের জনি নামে এক বিক্রেতা জানান, মুরগীর খাবারের দাম অনেক বেড়েছে। এজন্য খামারীরা ডিমের দাম বাড়িয়েছে। যেভাবে দাম বাড়ছে তাতে আগামীকাল থেকেই ৪০ টাকা হালি বিক্রি করতে হবে নইলে আমাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে ।
একই বাজারের লতিফ নামে এক বিক্রেতা জানান, গত সপ্তাহে ৩৩ টাকা হালি ডিম বিক্রি করেছি।গেল তিনদিনে প্রতি হালিতে দাম বেড়ে ৪ থেকে ৬ টাকা। বাজারে মুরগী কম, খামারও কমে গেছে এমন অজুহাতে খামারীদের কাছ থেকে ডিম বেশি দামে কিনে আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বগুড়া কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু সালেহ মো হাসান সারওয়ার বলেন, গত কয়েকদিন ধর ডিমের দাম বেড়েছে। মূলত উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এমন হয়েছে। তবে অচিরেই ডিমের বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

Leave a Reply